আমেরিকার বিশেষ পরিষেবার কর্মী হিসাবে এডওয়ার্ড স্নোডেন এমন কিছু খবর রাখতো, যা গণ প্রজাতান্ত্রিক চীনের জাতীয় নিরাপত্তার মুখ্য প্রশ্নগুলিকে স্পর্শ করে. তার হংকংয়ে পালিয়ে যাওয়ার পরে প্রকাশ করে দেওয়া তথ্য হয়েছে বাস্তবিক ভাবেই চাঞ্চল্যকর. বিগত কয়েক সপ্তাহ ধরে স্নোডেন যে সমস্ত বিবৃতি যে সব সময়ে করেছে, তার থেকে বলা যেতে পারে যে, আমরা সব দেখে শুনে মনে হচ্ছে যে, সাক্ষী হয়েছি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গুপ্তচর বাহিনীর উপরে চিনের বিশেষ বাহিনীর একটা দেখার মতো বিজয়ের, এই রকম মনে করেছেন স্ট্র্যাটেজি ও প্রযুক্তি বিশ্লেষণ কেন্দ্রের বিশেষজ্ঞ ভাসিলি কাশিন. তাঁর মতে ঘটনা পরম্পরা নিম্নরূপ.

জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থার ও সিআইএ সংস্থার সঙ্গে চুক্তিতে কাজ করা প্রাক্তন কর্মী এডওয়ার্ড স্নোডেন হংকং ছেড়ে যাওয়া, মস্কো উড়ে আসা ও তার পরে ইকোয়েডর দেশে রাজনৈতিক আশ্রয় চাওয়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য খুবই খারাপ খবর হয়েছে. ততদিন অবধি, যতক্ষণ স্নোডেন আমেরিকার বিশেষ বাহিনীর সঙ্গে আদর্শগত যোদ্ধা হিসাবে মর্যাদা বজায় রাখবে, যে নাগরিক স্বাধীনতার জন্য লড়াই করছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনের তার কাছ থেকে শুধু নতুন তথ্য ফাঁস করে দেওয়ারই ভয় থাকবে. আর খুব সম্ভবতঃ, তার ফাঁস করে দেওয়া খবরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে দেশের আভ্যন্তরীণ রাজনীতির স্ক্যান্ডাল প্ররোচনা পাবে অথবা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিদেশ নীতির কোন না কোনও দিকেরই অপযশ হবে.

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে স্নোডেন ঠিক কি ভাবে পালাতে পেরেছে, তার প্রামাণ্য ঘটনা আসন্ন সময়ে মনে তো হয় না যে, আমরা স্পষ্ট করে জানতে পারবো. তা স্বত্ত্বেও, স্নোডেন বিগত সময়ে কয়েক সপ্তাহ ধরে যে সব বিবৃতি দিয়েছে ও তার সময় নির্বাচন করেছে, তার থেকে স্পষ্টই বোঝা গিয়েছে যে, আমরা চিনে গুপ্তচর বাহিনীর তরফ থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনীর উপরে একটা দেখবার মতে বিজয়ের সাক্ষী হয়েছি.

ক্যালিফোর্নিয়াতে চিন- আমেরিকা শীর্ষ বৈঠকের সামান্য আগেই স্নোডেন হংকং পালিয়ে গিয়েছে. এই সাক্ষাত্কারে মার্কিন রাষ্ট্রপতি বারাক ওবামা গণ প্রজাতান্ত্রিক চিনের চেয়ারম্যান সি জিনপিনের সামনে প্রশ্ন রেখেছিলেন আমেরিকার উপরে চিনের তরফ থেকে সাইবার গুপ্তচর বৃত্তি নিয়ে. স্নোডেন তার তরফ থেকে আমেরিকার জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থার কাজকর্ম নিয়ে খবর ফাঁস করেছিল ঠিক এই সম্মেলনের আগে ও তা চলাকালীণ. সেই খবর গুলি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে এক বিশাল স্ক্যান্ডালের সূচনা করেছিল. পরবর্তী কালে তার একসারি ভাষণ ছিল সরাসরি ভাবে মার্কিনদের তরফ থেকে চিনের মূল ভূখণ্ড ও হংকংয়ের কম্পিউটার নেটওয়ার্ক হ্যাক করা নিয়ে.

স্নোডেন যে তথ্য ফাঁস করে দিয়েছে, তা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে একটা খুবই নাজেহাল অবস্থায় ফেলে দিয়েছে. ঠিক সেই মুহূর্তেই এটা হয়েছে, যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চিনের সাইবার গোয়েন্দা গিরির সমস্যা নিয়ে সর্ব্বোচ্চ স্তরে আলোচনায় উদ্যত হয়েছিল, আমেরিকার ভণ্ডামির অকাট্য প্রমাণ স্নোডেন একেবারে সামনে তুলে ধরেছিল. সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত সবকটি খবরই, যা স্নোডেন দিয়েছে, তা ছিল খুবই সময়মতো. যেমন, সেই নিয়ে খবর যে, আমেরিকা ও ব্রিটেনের গুপ্তচর সংস্থা ২০০৯ সালের জি২০ শীর্ষ সম্মেলনের সময়ে লন্ডনে টেলিফোন আলাপ ও ই-মেইল পড়েছে সমস্ত বিদেশের কূটনীতিবিদদের. এই খবরও সে দিয়েছে গ্রেট ব্রিটেনে জি৮ সম্মেলন শুরু হওয়ার দিনেই. এটাকে বোধহয় স্রেফ আচমকা হওয়া ব্যাপার বলে মনে করা যেতে পারে না.

এখন স্নোডেন কে নিয়ে কি হচ্ছে, তাও দেখা যাচ্ছে আমেরিকার গুপ্তচর বাহিনীর ও তাদের সমাজের এক বিশাল পরাজয় বলেই, যা হল ঠাণ্ডা যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর মুহূর্ত থেকে. কারণ নিজের পালিয়ে যাওয়া স্নোডেন খুবই হিসাব করে তৈরী করেছে. সে অনেক খুবই গোপনীয় তথ্য যোগাড় করে কপি করেছে. তার প্রকাশ করা কিছু তথ্য এমনকি তার পদমর্যাদা অনুযায়ী আয়ত্বের মধ্যেই থাকা কথা ছিল না. উইকিলিক্সের সঙ্গে স্ক্যান্ডালের সঙ্গে স্নোডেন প্রকাশিত ইতিহাস প্রমাণ করে দিয়েছে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের খুবই সিরিয়াস সমস্যা রয়েছে নিজেদের গোপনীয় খবরের নিরাপত্তা রক্ষা বিষয়ে ও সেই সব উত্স প্রতিরক্ষারও, যেখান থেকে এই তথ্য পাওয়া গিয়েছে.

0আমেরিকার প্রশাসনের পক্ষে এই অভিযোগের উত্তর দেওয়া খুবই কঠিন হবে. বিশেষজ্ঞ ভাসিলি কাশিন আমেরিকার বিশেষ বাহিনীর প্রাক্তন কর্মী স্নোডেন যে সব কাণ্ড ঘটিয়েছে, তা নিয়ে এই রকমই মনে করেছেন.