সেন্ট-পিটার্সবার্গে শনিবার শেষ হয়েছে তিনদিনের আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ফোরাম। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা আসে শুক্রবার। ওই দিন মূল অধিবেশনে রুশ রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিন রাশিয়ার আগামীর অবকাঠামোগত উন্নয়নের পরিকল্পনা বর্ননা করেন।

একই ধরণের সংবাদ তা রাশিয়ার ব্যাবসা ও সাধারণ জনগনের জন্য মঙ্গলজনক বার্তা বয়ে এনেছে। আগামী বছর থেকে একচেটীয় ব্যাবসার ক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ সম্পদের ওপর বেশি নির্ভর করতে হবে। দেশের বড় কোম্পানীর তা অবশ্য রয়েছে। আস্থা নিয়ে বলেছেন পুতিন। তিনি বলেন, "আমি উল্লেখ করতে চাই যে, আমাদের অবকাঠোমগত একচেটীয়ায় অর্থনীতির জন্য মজুদ রয়েছে। প্রতিটি কোম্পানী নিজেদের কার্যকারীতা বৃদ্ধি করতে চাইলে নিজেদের খরচ হ্রস করতে হবে। বুদ্ধি আর বিচক্ষনতা দিয়ে অর্থের বিনিয়োগ করা উচিত।"

বড় বড় শিল্পপতিরা ও অর্থনীতিবিদরা রাষ্ট্রপতির এই আহবানকে স্বাগত জানিয়েছেন। মুদ্রাস্ফীতি হ্রাস করার জন্য রেট কমিয়ে আনার কোন বিকল্প নেই তা অনেক আগেই বলা হচ্ছিল।

আর তা বলে রাশিয়ায় বিনিয়োগ পরিবেশ আরো উন্নত হবে বলে মনে করেন বিএনপি পারিবা বাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ ইউলিয়া ছেপলেয়ভা। রেডিও রাশিয়াকে তিনি বলেন,

"হয়তো অবশেষে সম্ভব হবে আগামী ২-৩ বছরের মধ্যে মুদ্রাস্ফীতি শতকরা ৪-৫ ভাগ কমিয়ে আনা। ক্ষুদ্র অর্থনীতির স্থিতিশীলতা যা বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরী করতে সাহায্য করে। এটি অবশ্যই সব ধরণের একচেটীয় ব্যবসায় মূল্য হ্রাসের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।"

মন্থর অর্থনীতিতে বিনিয়োগ ছাড়া তাকে চাঙ্গা করা যাবে না। ভ্লাদিমির পুতিন জাতীয় সমৃদ্ধি উন্নয়নের তহবিল থেকে অবকাঠামোগত উন্নয়নে ব্যাপক পরিকল্পনার কথা বর্ননা করেন।পুতিন হলেন, "আগামী প্রজন্মের জন্য রুশ অর্থনীতিতে এর একটা ইতিবাচক প্রভাব থাকবে বলে আশা করছি। সামন্য মূদ্রা দিয়ে তা বিবেচনা করলে চলবে না বরং দেশের ভাবমূর্তির পরিবর্তন ঘটাতে পারে এমন প্রকল্পের দিকে অগ্রসর হতে হবে এবং দেশের উন্নয়নে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করবে। আর এসব প্রকল্পের অর্থয়ানে অর্ধেকটা যোগান দেয়া হবে জাতীয় সমৃদ্ধি উন্নয়নের তহবিল থেকে।"

প্রথম দিকের জন্য এ ধরণের প্রকল্প ইতিমধ্যে চুড়ান্ত করা হয়েছে। এগুলো হচ্ছে সেন্ট্রাল মহাসড়ক গোলচত্বর, মস্কো-কাজান দ্রত উচ্চগতির রেলপথ নির্মাণ ও ট্রান্স-সাইবেরিয়া রেলপথের সংষ্করণ। জাতীয় সমৃদ্ধি উন্নয়নের তহবিল থেকে এ খাতে প্রায় ১৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বরাদ্ধ দেয়া হয়েছে। রাশিয়ার বড় বড় কোম্পানীগুলো ফোরাম চলাকালে নিজেদের প্রকল্পের কথা ঘোষণা করেন। তবে সবাইকে ছাড়িয়ে সাংবাদিকদের কাছে সংবাদের হেডলাইন হয়েছে রসনেফত। রুশ অর্থনীতিতে বিদেশি রাষ্ট্রের সাথে সবচেয়ে বড় চুক্তি সাক্ষর করেছে রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ব এ প্রতিষ্ঠানটি।

আগামী ২৫ বছর রসনেফত চীনে ৩৬৫ মিলিয়ন টন তেল সরবরাহ করবে এবং যার মূল্য হচ্ছে ২৭০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে চুক্তির একটা বড় অর্থ সরবরাহের আগেই প্রদান করা হবে। এমনটি বলছেন আলফা-বাংকের শীর্ষ বিশ্লেষক আলেক্সান্দার কার্নিলোভ. তিনি বলেন, তেল সরবরাহের পূর্বেই ৬০ বিলিয়ন ডলার অগ্রিম পরিশোধ করা হবে। বর্তমান পেক্ষাপট বিবেচনা করলে রসনেফত কোম্পানীর ঘটতি রয়েছে ৭০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। আর নতুন এ চুক্তির পরে কোম্পানী নিজেদের একটা বড় ঘাটতি পূরণ করতে পারবে। আর দ্বিতীয় কথা হচ্ছে, চীনের সাথে রসনেফতের সম্পর্ক বজায় রাখার দরকার।

আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ চু্ক্তি হলো ইয়ামাল এসপিগে গ্যাস প্রকল্পের অংশগ্রহণকারীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়া। আর এ প্রকল্পের বাস্তবায়ন করছে রাশিয়ার বেসারকারি গ্যাস সরবরাহ প্রতিষ্ঠান নোভাতেক। কোম্পানীটির নতুন বিদেশি সহযোগি প্রতিষ্ঠান হিসেবে যোগ দিয়েছে চীনের সিএনপিএস যা থকরা ২০ ভাগ শেয়ারের মালিক হচ্ছে। আর এ ধরণের সম্পর্কের গুরুত্ব কতোখানি সে বিষয়ে জানিয়েছেন ফিন্যান্স গ্রুপ বিএকসি’র শীর্ষ কর্মকর্তা মাক্সিম শেইন। তিনি বলেন, "ইয়ামাল এসপিগে গ্যাস প্রকল্প নভোতেকের জন্য অনেক বেশি গুরুত্ব বহন করছে কারণ এই কোম্পানী প্রকল্পকে নতুন পর্যায়ে নিয়ে আসার দায়িত্ব পালন করছে। খুবই ভাল কথা যে, সহযোগি প্রতিষ্ঠান পাওয়া গেছে কারণ তারাই এতে অর্থায়ন করবে। সত্যি কথা বলতে, সহযোগি প্রতিষ্ঠান ছাড়া এ প্রকল্পের সঠিক উন্নয়ন সম্ভব নয়।"

 

তিনদিনের সেন্ট পিটার্সবার্গ অর্থনৈতিক ফোরামে সব মিলিয়ে ১৩০ বিলিয়ন রুবল বা প্রায় ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিদেশি বিনিয়োগ আনা সম্ভব হয়েছে। এ অর্থের একটা বড় অংশ তেল-গ্যাস শিল্পের অবকাঠামোত উন্নয়নের পাইলট প্রকল্পে ব্যবহার করা হবে।