১৯৪১ সালের ২২শে জুন রাশিয়া ও সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোর জন্য একটি শোকগাথা তারিখ।

আজ থেকে ৭২ বছর পূর্বে ১৯৪১ সালের এদিন সোভিয়েত ইউনিয়ন আক্রমন করেছিল জার্মানির নাৎসী বাহিনী।

আর প্রথম কয়েক মাসেই সোভিয়েত আর্মির কড়া প্রতিরোধ গড়ে তোলা স্বত্তেও নাৎসী বাহিনী মস্কোর কাছাকাছি পৌঁছে যায়। ইতিহাসবিদরা প্রশ্ন করেন যে, সোভিয়েত ইউনিয়ন কি জার্মানির বিরুদ্ধে ওই যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত ছিলো?।

অবশ্যই, সোভিয়েত ইউনিয়ন এ যুদ্ধের জন্য তৈরী ছিলো। তবে স্টালিনের একটা ভীতি কাজ করেছিলো। সোভিয়েত ইউনিয়ন সীমান্তে যদি বাড়তি শক্তি প্রয়োগ করে তাহলে তা জার্মানির জন্য উস্কানির কারণ হতে পারে। এমনটি বলছেন রুশ বিজ্ঞান একাডেমির সাধারণ ইতিহাস ইতিহাস ইনস্টিটিউটের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা নাতালিয়া লেবেদেভা। তিনি বলেন, "সোভিয়েত ইউনিয়নকে উস্কানি দেয়ার প্রয়োজন পড়ে নি কারণ যে কোন পরিস্থিতিতে আক্রমন করতো। ভয়ের কোন সঠিক কারণ ছিলো না। হিটলারকে তুষ্ট করার চেষ্টা করেছিলেন স্টালিন। তার আস্থা ছিলো যে, জার্মানির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারবেন।"

কিন্তু চুড়ান্তভাবে হিটলার সোভিয়েত ইউনিয়নে হামলা করলে স্টালিনের সেনারা সীমান্তে পৌঁছাতে পারেনি এবং ফলশ্রুতিতে শত্রুরা মস্কোর উপকন্ঠে চল আসে।

সোভিয়েত ইউনিয়নের মস্কোতে হামলাকে বিশ্বাসে আঘাত বলে মনে করা হয়েছিল। কিন্তু একে অপ্রত্যাশিত ঘটনা কি বলা যায়?। এমনকি সোভিয়েত ইউনিয়েনর গোয়েন্দা সংস্থা সম্ভাব্য হামলার প্রস্তুতির প্রমাণ পেয়েছিল। কিন্তু সেগুলো সোভিয়েত নেতাদের কাছে তেমন গুরুত্ব পায় নি। এমনটি বলছেন ইতিহাসের স্মরনিকা তহবিল প্রকল্পের পরিচালক ভ্লাদিমির সিমিনদেই। তিনি বলেছেন, জার্মান সৈন্যরা সীমান্তের কাছাকাছি চলে আসার যে তথ্য সোভিয়েত গোয়েন্দাদের কাছে ছিলো ক্রেমলিন মনে করেছিল ২২ তারিখ হামলা হবে না। এখানে হয়ত জর্মানির পক্ষ থেকে কৌশলগত ভুল তথ্য জায়গা করে নিয়েছে।"

এখন পশ্চিমা দেশগুলো থেকে ব্যাপকহারে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে এবং যার উদ্দেশ্য হচ্ছে, দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধ শুরুর দায়ভার স্টালিনের ঘাড়ে চাপিয়ে দেয়া। যেহেতু, স্টালিন নিজেই জার্মানিতে হামলার পরিকল্পনা করেছিল কিন্তু হিটলার তাকে নির্ধারণ করেছে। বলছেন ভ্লাদিমির সিমিনদেই। "জার্মানদের আগ্রাসন দ্রুত বন্ধের জন্য স্টালিনের ওপর এক বড় দায়িত্ব ছিলো। মনে করি যে, তিনি নিজেই এর ওপর প্রতিবেদন দিয়েছেন। আর যুদ্ধে উস্কানি দেয়া নিয়ে যে কথা বলা হচ্ছিলো তা পুরোটাই মিথ্যা। কিন্তু স্টালিন ঠিক তার উল্টো চেষ্টা করেছিলেন তার যাতে করে যুদ্ধ নিয়ে কোন উস্কানিমূলক ঘটনা না ঘটে।"

যুদ্ধ শুরু হওয়ার প্রথম কয়েক সপ্তাহ ও প্রথম কয়েক মাস সোভিয়েত ইউনিয়নের জন্য সবচেয়ে বেশি কষ্টের ও ট্রাজিডি ছিলো। কিন্তু শরৎকালে জার্মান সেনাবাহিনীর হিসেবে গোলমাল বেঁধে যায়।

১৯৪১-১৯৪৪২ সালে মস্কো উপকন্ঠে যু্দ্ধ, স্ট্রালিনগ্রাদে যুদ্ধ ও কুরস্কায় যুদ্ধ যা দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের সমালোচনামূলক অধ্যায়ের সূচনা করেছিল। সোভিয়েত সেনা ও কর্মকর্তাদের বীরত্বের কল্যানে ১৯৪৫ সালের বসন্তকালে সোভিয়েত সৈনারা বার্লিনের কাছাকাছি পৌঁছে যায়। শুধুমাত্র তাদের কারনেই পৃথিবী থেকে ফ্যাসিবাদীদের সমূলে উৎপাট করা সম্ভব হয়।