মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তালিবান আন্দোলনের মধ্যে সরাসরি আলোচনা বাকী রাখা হয়েছে. এই পিছিয়ে দেওয়ার কারণ হয়েছে আফগানিস্তানের সরকারি পক্ষের উল্টো পথে চলার জন্য, যারা শান্তি প্রক্রিয়াতে নাম ভূমিকায় থাকতে চেয়েছে. আফগানিস্তানের শান্তি প্রক্রিয়াতে আরও একটি তৃতীয় পক্ষ রয়েছে, যারা নিজেদের এইখানে প্রচার না করা ভূমিকাকেই মনে করে থাকে মুখ্য বলে. তা হল পাকিস্তান. এই রকম ওয়াশিংটন- কাবুল- ইসলামাবাদের মধ্যে ত্রিকোণ দড়ি টানাটানির খেলা তালিবদের সঙ্গে আলোচনাকে হতেই দিচ্ছে না, যা শুধু শান্তি প্রক্রিয়াতে নতুন করে বাধার সৃষ্টিই করছে বলে মনে করে আমাদের সমীক্ষক সের্গেই তোমিন বলেছেন:

“বৃহস্পতিবারে কাতার রাষ্ট্রের রাজধানী দোহাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনিক প্রতিনিধি ও তালিবান আন্দোলনের প্রতিনিধিদের মধ্যে সরাসরি আলোচনা অনির্দিষ্ট কালের জন্য পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে, এই ধরনের খবর, পর্যবেক্ষকদের জন্য সম্পূর্ণ রকমের আচমকা ভাবেই এসেছে. এই কিছু সময় আগেও কোন রকমের স্ক্যান্ডালের নামগন্ধ দেখতে পাওয়া যায় নি. তালিবদের সঙ্গে দেড় বছর আগে বন্ধ হয়ে যাওয়া সরাসরি আলোচনা আবার চালু করা নিয়ে ওবামা প্রশাসনের সিদ্ধান্ত এমনকি বুধবারে রাত্রে জঙ্গীদের তরফ থেকে বাগরাম সামরিক ঘাঁটিতে নতুন করে দুঃসাহসী আক্রমণ রোধ করতে পারে নি, যাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চারজন সেনা নিহত ও আরও চারজন আহত হয়েছে”.

জর্জ বুশ জুনিয়রের সময়ের প্রশাসনের তুলনায়, যারা মনে করেছে তালিবরা ধ্বংস করে দেওয়ার উপযুক্ত সন্ত্রাসবাদী, ওবামার প্রশাসন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এই গতকালের প্রধান শত্রুদের জন্য, “ভাল পুলিশের” ভূমিকা নিয়েছে. ওয়াশিংটন ক্লান্ত হয়ে পড়েছে বহু বছরের ও খুবই দামী আফগান যুদ্ধ নিয়ে, তার ওপরে আবার সেটা থেকে বিজয়ের কোনও সম্ভাবনা নেই, আর তাই তারা এবারে রাস্তা নিয়েছে তা গুটিয়ে ফেলার.

ফলে, আফগানিস্তানে সামরিক উপস্থিতি থাকা স্বত্ত্বেও ও তাতে আমেরিকার সৈন্যদের প্রাণ গেলেও, এই সপ্তাহে তালিবান আন্দোলন নিজেদের প্রতিনিধি দপ্তর খুলে বসেছে কাতার রাষ্ট্রের রাজধানী দোহাতে.

মনে করিয়ে দিই যে, ২০১১ সালের বসন্ত কাল থেকেই তালিবান আন্দোলনের নেতারা কাতারে রয়েছেন, কিন্তু তখন ওয়াশিংটনের সঙ্গে পরামর্শ বিফল হয়েছিল. কারণ হয়েছিল যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র শুরুতে তালিবদের কাছ থেকে “আল- কায়দা” দলের সঙ্গে যে কোন ধরনের সহযোগিতা বন্ধ করার কথা আদায় করার চেষ্টা করেছিল, বলেছিল সশস্ত্র যুদ্ধ বন্ধ করার কথা ও তাদের আফগানিস্তানের চালু সংবিধানকেই মেনে নিতে বলেছিল.

পরে তালিবদের সঙ্গে আলোচনায় বসা নিয়ে সমঝোতায় আসা সম্ভব হয়েছিল পাকিস্তানের প্রশাসনের পক্ষ থেকে শক্তি প্রয়োগ করা হলে, আর তারই সঙ্গে কাতার রাষ্ট্রের আমীর ও জার্মানী, গ্রেট ব্রিটেন ও নরওয়ে রাষ্ট্রের কূটনৈতিক দপ্তরের পক্ষ থেকে শক্তি প্রয়োগের পরে.

ফলে আমেরিকার লোকদের সঙ্গে প্রথম রাউন্ড আলোচনার ধারণাকে সমর্থন করেছিল তালিবান নেতা মুল্লা মুহম্মদ ওমর, আর এই দোহাতে আলোচনা করার জন্য প্রভাবশালী হাক্কানি গোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের ডেকে আনা হয়েছিল. তারাই এক সময়ে ন্যাটো জোটের সেনা বাহিনীর উপরে একসারি প্রবল শোরগোল তোলা সন্ত্রাসের কাজকর্মের দায়িত্ব নিয়েছিল, তার মধ্যে ২০১১ সালে আমেরিকার দূতাবাসের মধ্যে বিস্ফোরণও ছিল. আমেরিকার প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেওয়ার কথা ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতির আফগানিস্তান ও পাকিস্তান নিয়ে বিশেষ পরামর্শদাতা জেমস ডব্বিন্সের. তাই সের্গেই তোমিন বলেছেন:

“প্রসঙ্গতঃ, দোহাতে উল্লিখিত আলোচনার আগে শক্তির অবস্থান, আফগানিস্তানের রাষ্ট্রপতি কারজাইয়ের পছন্দ হয় নি. কাবুলে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, আফগানিস্তানের প্রশাসন শান্তি প্রক্রিয়াতে অংশ নেবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত না তা শুরু করা হয় আফগানিস্তানের লোকদের দিয়েই. এটা আসলে ইঙ্গিত করা হয়েছে যে, তালিবদের আলোচনায় প্রধান ভূমিকা থাকা দরকার কারজাইয়ের প্রশাসনেরই ওবামার প্রশাসনের নয়. দোহাতে শুরু হতে যাওয়া আলোচনার প্রাথমিক পক্ষদের তালিকাতে দাঁড়ি মুছে দেওয়ার একান্ত ইচ্ছায় রাষ্ট্রপতি কারজাই এক উল্টো পথে চলা শুরু করেছেন: তিনি স্থির করেছেন নিজের ওয়াশিংটনের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও আফগানিস্তানের নিরাপত্তা সংক্রান্ত চুক্তি নিয়ে মুখ্য সমঝোতার বিষয়ে আলোচনা স্থগিত রাখার”.

এই উল্টো দিকে হাঁটার কার্যকারিতা দেখতে পাওয়া গিয়েছে – ওয়াশিংটন ঘোষণা করেছে যে, রাষ্ট্রপতির বিশেষ প্রতিনিধি জেমস ডব্বিন্সের দোহা সফর পরবর্তী নির্দেশ পাওয়া পর্যন্ত স্থগিত রাখা হয়েছে. কিন্তু কাবুল কি আফগানিস্তানের সমস্যা সমাধানে প্রধান ভূমিকা নিতে পারবে, ওয়াশিংটন ও ইসলামাবাদের ভূমিকা পার হয়ে, যখন শেষোক্ত দেশের শান্তি প্রক্রিয়াতে অপ্রচারিত ভূমিকা অনেক পর্যবেক্ষকই মনে করেন মুখ্য বলেই?

এক দিক থেকে খুবই যুক্তিসঙ্গত যে, নিজেদের মধ্যে সমঝোতায় আসা উচিত্ আফগানিস্তানের লোকদেরই. আবার অন্য দিক থেকে, তালিবদের ও সরকারি ভাবে কাবুলের লোকজনের মধ্যে একে অপরের প্রতি বিশ্বাস এতই কম যে, মনে তো হয় না এই ধরের আলোচনা থেকে কোন রকমের গুরুত্বপূর্ণ ফল পাওয়া যাতে পারে, আর যদি তা কখনও হয়ও.

সুতরাং, একমাত্র সুযোগ আফগানিস্তানের শান্তি প্রক্রিয়াতে হতে পারে শুধু তখনই, যখন কে প্রধান এই কথা ভুলে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের নেতৃত্ব একে অপরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের মাধ্যমে, খুবই সমঝোতার মাধ্যমে শক্তি প্রয়োগ করতে সক্ষম হবে. যদি এটা না হয়, তবে ওয়াশিংটন-ইসলামাবাদ-কাবুল এই ত্রিভুজ একেবারে বারমুডা ত্রিভুজে পরিণত হবে, যাতে আফগানিস্তানের শান্তি প্রক্রিয়াই ডুবে যাবে.