বিশ্বের অর্থনৈতিক সঙ্কটের পরে যে সমস্ত হুমকি রয়েছে, বিশ্ব অর্থনীতির অস্থিতিশীল পুনর্প্রতিষ্ঠা, উদ্ভাবনী সঙ্কট ও সঞ্চয় মুদ্রার লড়াই – এই সবই বিশ্বের রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক মহলের প্রধানরা সেন্ট পিটার্সবার্গের অর্থনৈতিক সম্মেলনের প্রথম দিনে আলোচনা করেছেন.

রাশিয়ার উত্তরের রাজধানীতে শুরু হয়েছে ১৭তম পিটার্সবার্গ আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সম্মেলন. পাঁচ হাজারেরও বেশী অর্থনীতিবিদ, রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী, বিশেষজ্ঞ, বৃহত্তম কোম্পানী গুলির প্রধান, বিনিয়োগকারীরা এখানে অংশ নিয়েছেন, যাতে একত্রে আলোচনার মাধ্যমে বিশ্বের বিনিয়োগ ও অর্থনীতির সমস্যা গুলির সমাধান করা সম্ভব হয়.

এই সব সমস্যাই জানা রয়েছে. “আমরা গত আশি বছরের মধ্যে প্রথম হওয়া সবচেয়ে ভয়ঙ্কর অর্থনৈতিক সঙ্কট থেকে এখনও সদ্য উঠে আসছি, সুতরাং উন্নতিকে প্রশ্রয় দেওয়া, অবশ্যই হবে প্রধান আলোচ্য বিষয়” – ঘোষণা করেছেন নিজের ভাষণের সময়ে আর্নস্ট অ্যান্ড ইয়ং গ্লোবাল কোম্পানীর জেনারেল ডিরেক্টর জেমস টের্লি. অর্থনীতি সুস্থ হচ্ছে কষ্টের মধ্য দিয়েই, আর তার জন্য প্রয়োজনীয় ওষধির সঞ্চয় প্রায় শেষ হয়ে আসার মুখে. এটা সত্যি যে, ডয়েশ ব্যাঙ্কের নিয়ন্ত্রক সভার প্রধান পরামর্শদাতা টমাস মায়ারের কথা অনুযায়ী বিশ্ব অর্থনীতির উন্নতি বিগত সময়ে তাও দেখতে পাওয়া যাচ্ছে. তিনি বলেছেন:

“এই উন্নতির প্রধান অগ্রগতির শক্তি পূর্বাভাস অনুযায়ী হবে সেই সমস্ত দেশ, যাদের অর্থনীতি বাজার অর্থনীতি অনুযায়ী গঠিত হচ্ছে ও এই বিষয়ে সবাই প্রায় একমত. শিল্প ক্ষেত্রে উন্নত দেশ গুলি পিছিয়ে রয়েছে – তাদের উন্নতির গতি এই বছরে শতকরা ১, ৪ ভাগ, আর আগামী বছরে আশা করা হয়েছে শতকরা ২ ভাগ”.

এই ফোরামের প্রথম দিনের আলোচনার বিষয়ের মধ্যে ছিল – আন্তর্রাষ্ট্রীয় অর্থনৈতিক জোট নিয়ে, যা স্বার্থ অনুযায়ী তৈরী হচ্ছে. ইউরো-এশিয়া অর্থনৈতিক পরিষদের সহযোগীদের সভাপতি ভিক্টর খ্রিস্তেঙ্কো মনে করেন যে, বিশ্বায়নের সঙ্কটের উত্তর হয়েছে জোট গঠন. সমস্যার সমাধান সমস্ত দিকেই খোঁজা হচ্ছে. যেমন, ইউরো-এশিয়া এলাকায় সমাকলনের প্রকল্পে রাশিয়া সহায়তা করবে ইউরোপীয় সঙ্ঘের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ সৃষ্টির জন্য, এই রকমের ভরসা নিয়ে তিনি বলেছেন:

“ইউরোপীয় সঙ্ঘের সঙ্গে পারস্পরিক কাজকর্মের ভবিষ্যত নিয়ে আলোচনা খুবই আগ্রহের ও তা গুরুত্বপূর্ণও বটে. আমি একেবারেই বিশ্বাস করি যে, আমাদের বৃহত্তম সহকর্মীদের সঙ্গে কাজ কারবারের ক্ষেত্রে ইউরো-এশিয়া জোট সৃষ্টি করবে একেবারেই অন্য রকমের – অনেক সহজ, অনেক স্বচ্ছ চিত্র”.

জোটে যোগ দেওয়া স্বত্ত্বেও প্রত্যেক দেশের জন্য নিজেদের উন্নতির কেন্দ্র খোঁজা বন্ধ থাকবে না. এটা রাশিয়ার জন্যও বাস্তব. রাশিয়ার রাষ্ট্রপতির সহকারী এলভিরা নাবিউল্লিনার কথামতো, সেই সমস্ত কারণ, যা বিগত বছর গুলিতে অর্থনৈতিক বিকাশকে নিজের সাথে হিঁচড়ে টেনে তুলেছে, সেই গুলি বর্তমানে আর কাজ করছে না, তাই তিনি বলেছেন:

“আমাদের অর্থনীতির জন্য নতুন ধরনের লিভারের প্রয়োজন রয়েছে, নতুন উন্নতির কারণ দরকার, যা এটাকে উপরের দিকে ঠেলে তুলতে পারে. আমার মতে, এটা শ্রমের উত্পাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি, বাড়তি খরচ কমানো, ব্যক্তিগত বিনিয়োগ বাড়ানো. আর এটা আমাদের আলোচনাকে সম্পূর্ণ অন্য এক স্তরে নিয়ে যায় – যেখানে কাঠামোর পুনর্গঠনের প্রয়োজন রয়েছে”.

সম্ভবতঃ, এই সব প্রশ্নের উত্তর শুক্রবারে এই সম্মেলনে রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিনের ভাষণে শুনতে পাওয়া যেতে পারে. বিশেষজ্ঞরা আশা করেছেন যে, দেশের প্রধান অর্থনৈতিক রাজনীতি ও অর্থনৈতিক উন্নতির জন্য বিনিয়োগ ক্ষেত্রের ভূমিকা নিয়ে নিজের ভাষণে এই প্রশ্ন গুলিকে স্পর্শ করবেন.