২০শে জুন বিশ্ব উদ্বাস্তু দিবস পালিত হচ্ছে. রাষ্ট্র সঙ্ঘের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে বর্তমানে নথিভুক্ত রয়েছেন প্রায় ২ কোটি মানুষ, যাঁরা বাধ্য হয়েছেন নিজেদের দেশ ছেড়ে যেতে, আর প্রায় আড়াই কোটি মানুষ নিজেদের দেশের ভিতরেই এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন. এটা গত ১৮ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশী সংখ্যা.

যুদ্ধ, আদর্শের কারণে লড়াই, মানুষের কাজকর্মের ফলে প্রযুক্তি থেকে তৈরী বিপর্যয় – এই গুলিই প্রধান কারণ, যার জন্য মানুষ বাদ্য হয়েছে নিজেদের ঘর বাড়ী ফেলে ও এমনকি প্রায়ই নিজেদের দেশ ছেড়ে চলে যেত. রাষ্ট্রসঙ্ঘের তথ্য অনুযায়ী ২০১২ সালে উদ্বাস্তু হয়েছেন পঁচাত্তর লক্ষেরও বেশী মানুষ. এত বেশী পরিমানে বাসভূমি ছেড়ে চলে যাওয়া যুগোস্লাভিয়াতে সঙ্কটের পরে ও ১৯৯৪ সালে রুয়ান্ডা দেশে গণহত্যার পরে দেখা যায় নি. এই প্রসঙ্গে সিরিয়া নিয়ে কোনও স্পষ্ট পরিসংখ্যান নেই. আর কিছু তথ্য অনুযায়ী সিরিয়ার উদ্বাস্তুদের পরিমাণ ৩৫ লক্ষ মানুষও হতে পারে.

রাষ্ট্রসঙ্ঘের উদ্বাস্তু সংক্রান্ত কাজকর্মের হাই কমিশনারের দপ্তর নিজেদের এক প্রধান কাজ হিসাবে শুধু উদ্বাস্তু লোকদের তাঁদের সাময়িক থাকার জায়গায় ঠিক করে থাকার ব্যাপারই দেখছে না, বরং তাদের ফিরে যাওয়ার সুযোগ করে দিতেও চাইছে. এই প্রসঙ্গে দপ্তরের প্রতিনিধি বাইসা ভাক-ভৈয়া বলেছেন:

“ষাট বছরের বেশী সময় ধরে এই কমিশনের অস্তিত্বের মধ্যে আমরা বহু সহস্র মানুষকে ভিয়েতনাম, সুদান, বাংলাদেশ, ইথিওপিয়া, সোমালি ও আরও অনেক এশিয়া, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার দেশে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে পেরেছি. যেই দেশে যুদ্ধ থেমে গিয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়, আমরা সাধারণতঃ, যেখান থেকে উদ্বাস্তুরা এসেছেন, সেই দেশের প্রশাসনের সাথে সমঝোতা করি জনগনের ফিরে যাওয়া নিয়ে”.

অনেক দিন ধরেই উদ্বাস্তু মনে করা হয়েছে শুধু সেই ধরনের মানুষদেরই, যাদের নিজেদের দেশে যুদ্ধ বা গণহত্যার কারণে মৃত্যুভয় থাকতো. কিন্তু এখন এই সমস্যার দিকে অনেক প্রসারিত ভাবে তাকানোর সময় এসেছে, এই কথা উল্লেখ করে রাশিয়ার নাগরিক সহযোগিতা কমিটির সভাপতি স্ভেতলানা গান্নুশকিনা উল্লেখ করেছেন, তিনি বলেছেন:

“যদি রাষ্ট্রসঙ্ঘের উদ্বাস্তু বিষয়ক কাজকর্মের হাই কমিশনারের দপ্তর থেকে নব্বইয়ের দশকে শুধু নিজেদের মিশনের আওতায় সেই সব মানুষকেই আনা হয়েছে, যাঁরা পালানোর জায়গা খুঁজেছিলেন অন্য দেশে, তবে এখন এই মিশন সেই সমস্ত মানুষদের উপরেও প্রসারিত হয়েছে, যাঁরা কোন রকমের নাগরিকত্ব পান নি ও অংশতঃ, যাঁদের দেশের ভিতরেই বাধ্য হয়ে বাসভূমি ছাড়তে হয়েছে. আর জেনেভাতে এই কয়েকদিন আগের পরামর্শের সময়ে প্রথম বলা হয়েছে যে, উদ্বাস্তু ও অর্থনৈতিক কারণে অভিবাসিত মানুষদের মধ্যে কোন বড় তফাত করার দরকার নেই. কারণ, প্রাথমিক ভাবে, প্রায়ই এক ধরনের মানুষ অন্য ধরনের মানুষে পরিণত হচ্ছেন, আর দ্বিতীয়তঃ, অর্থনৈতিক অভিবাসন. এটাও বাধ্য হয়েই করা: মানুষ দুর্ভিক্ষ ছেড়ে পালাচ্ছে”.

নিজের বাড়ী মানুষ যে কারণেই ছাড়তে বাধ্য হোন না কেন, তিনি বহু সমস্যার সঙ্গে ধাক্কা খেতে বাধ্য, যা সাহায্য ছাড়া পার হওয়া সম্ভব নয়. জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থা গুলি নিজেদের সাধ্যের মধ্যে সমস্ত কিছুই করছে, যাতে উদ্বাস্তুদের সহায়তা দেওয়া যায়. কিন্তু এটা – শুধু আংশিক সমাধান. আদর্শ হত, যদি বিশ্ব সমাজের প্রধান কাজ হত এমন করা – যাতে সেই সব পরিস্থিতি, যা থেকে উদ্বাস্তুদের ঢেউ উঠেছে, তা উদ্ভব না হত, অথবা হত, যতটা কম সম্ভব. কিন্তু আপাততঃ, বরং উল্টোই হচ্ছে, উদ্বাস্তু সংখ্যা বিশ্বে খালি বেড়েই চলেছে.