লে বুর্জ বিমান প্রদর্শনী, যা এখন ফ্রান্সে চলছে, তাতে রাশিয়ার মাঝারি পাল্লার যাত্রীবাহী বিমান এমসি- ২১ খুবই বেশী আগ্রহের সৃষ্টি করেছে, যাতে এক সঙ্গে ১৫০ থেকে ২১৫ জন যাত্রী নেওয়া যেতে পারে. এই বিমান তৈরীর কাজ করছে “ইরকুত” কর্পোরেশন.

এই বিমান নানা রকমের ধরনে তৈরী করা হবে. যারা এই বিমান কিনবেন, তারা এই বিমানের জন্য হয় রাশিয়ার পিডি - ১৪ অথবা কানাডার প্র্যাট অ্যান্ড হুইটনি কোম্পানীর ইঞ্জিন সহ কিনতে পারবেন. এই নিয়ে কোম্পানীর বিমান সংক্রান্ত বিশেষজ্ঞ সের্গেই স্তারিকভ মন্তব্য করে বলেছেন:

“রাশিয়ার ইঞ্জিন প্রাথমিক ভাবে প্রয়োজন এই কারণে যে, যদি কোন চুক্তি রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের সঙ্গে করা হয়, তবে এই বিমানে লাগানো ইঞ্জিন বিদেশী হলে চলবে না, কারণ রাশিয়ার আইনে তা বারণ. কিছু দেশে আবার কানাডা ও আমেরিকার কোম্পানী প্র্যাট অ্যান্ড হুইটনি কোম্পানীর ইঞ্জিন রপ্তানী করা যাবে না, কারণ সেটা নিষেধ, যেমন ইরানের ক্ষেত্রে, সেখানে দরকার পড়বে রাশিয়ার ইঞ্জিন লাগানোর”.

এই প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য অনেক সরকারি কোষাগার থেকে অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে, তার পরিমাণ অনেক কোটি ডলারের সমান, আর এমসি – ২১ বিমানের সাফল্যের আশা রয়েছে, যদিও এই ধরনের বিমানের বাজারে, তাকে অনেক সিরিয়াস যুদ্ধ করে জায়গা পেতে হবে, বিশেষ করে এয়ারবাস – ৩২০বিমানের সঙ্গে, তাই বিমান পরিবহন সমীক্ষা জার্নালের সম্পাদক ম্যাক্সিম পিয়াদুশকিন বলেছেন:

“যারা এই বিমান নির্মাণ করছেন, তাঁরা নিজেরাই বলেছেন যে, এই বিমানকে আগ্রহের সঙ্গে দক্ষিণ পূর্ব এশিয়াতে ও এমনকি ইউরোপেই ক্রেতারা দেখছেন. বোঝাই যাচ্ছে যে, বিশ্বে সবাই বর্তমানের সরু খোলের বিমানের ধরনের মধ্যে “বোয়িং” ও “এয়ারবাসের” রাজত্বে সন্তুষ্ট হতে পারছেন না. অনেক বিমান কোম্পানী তৈরী রয়েছেন অন্য ধরনের বিকল্প দেখতে পাওয়ার জন্য, যার সংখ্যা খুব একটা বেশী নয়”.

এমসি – ২১ বিমানের উড়ে যাওয়ার পাল্লা সাড়ে পাঁচ হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত. বিশেষজ্ঞদের মতে, এমসি- ২১ বিমানের প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে বিশেষত্ব হল যে, এই বিমানের ভেতরে তা চওড়া খোলের বিমানের মতই অনেক প্রশস্ত, আর যাত্রীদের তার ভেতরে খুবই আরাম লাগবে.