রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিন লখ-এর্ন শীর্ষ সম্মেলনের পরে বলেছেন যে, রাশিয়ার পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রধান সের্গেই লাভরভ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র সচিব জন কেরি সিরিয়াতে পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ ভাবে সমাধানের নীতি সংক্রান্ত প্রধান কাজ নিজেদের দায়িত্বে করবেন. সিরিয়ার সঙ্কট নিরসনের জন্য বৃহত্ অষ্ট দেশের নেতারা রাজনৈতিক সমাধানের পথকেই বেছে নিয়েছেন ও ঘোষণা করেছেন যে, যত দ্রুত সম্ভব এই বিষয়ে জেনেভাতে দ্বিতীয় সম্মেলন আয়োজন করার প্রয়োজন রয়েছে, তাছাড়া রাশিয়া সিরিয়াতে রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের বাস্তব প্রমাণের পরীক্ষা করার কাজে অংশ নেবে.

ভ্লাদিমির পুতিন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি বারাক ওবামা রকেট প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করেছেন ও তাঁরা সহমতে এসেছেন যে, এই ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বৃদ্ধির প্রয়োজন রয়েছে. পুতিন উল্লেখ করেছেন যে, এই প্রশ্নে রাশিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মতবিভেদ রয়েই গিয়েছে.

আট দেশের গোষ্ঠী স্বীকার করেছে যে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রধান নীতি নির্ধারণ করা উচিত্ বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার. পুতিনের কথামতো, এই শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নেওয়া নেতারা একমত যে, তাঁরা সকলে মিলে ব্যবস্থা নেবেন, যাতে সংরক্ষণের বাধা দূর করা সম্ভব হয় আর বিনিয়োগের প্রবাহে বিঘ্ন না ঘটে. রুশ রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেছেন যে, সম্মেলনে বড় আটটি দেশের সহযোগিতার মাধ্যমে কর না দেওয়া ও কর সংক্রান্ত অপরাধ বন্ধ করার ব্যবস্থা নিয়ে কথা হয়েছে.

পুতিন কোন মন্তব্য করেন নি যে, ইরানের নির্বাচনের প্রভাব কি ভাবে আন্তর্জাতিক সমাজের সঙ্গে সেই দেশের পারমানবিক সমস্যা নিয়ে আলোচনার উপরে পড়বে, তারই সঙ্গে তিনি বলেছেন যে, ইরানের বর্তমানের রাষ্ট্রপতি খুবই অভিজ্ঞ মানুষ, তিনি একজন দক্ষ আলোচনাকারী ও আধুনিকীকরণের স্বপক্ষে.

শীর্ষ সম্মেলন শেষের পরে প্রকাশিত এক সম্মিলিত কমিউনিকেতে এই সব বিষয়েই উল্লেখ করা হয়েছে, সেখানে আরও বলা হয়েছে সিরিয়াকে অখণ্ড রাখাই সকলের উদ্দেশ্য ও সিরিয়াতে সমস্ত ধর্ম ও প্রজাতির মানুষই বাস করার অধিকার রাখে. সেখান থেকে আল- কায়দার জঙ্গীদের তাড়ানোর জন্যও প্রশাসন ও বিরোধী পক্ষকে বলা হয়েছে. এছাড়া রাসায়নিক মারণাস্ত্র বিষয়েও রাষ্ট্রসঙ্ঘের তরফ থেকে পরীক্ষার কথা বলা হয়েছে.

 আফগানিস্তানের সরকারকে দেশের সামাজিক ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান মজবুত করার বিষয়ে সহায়তা করা হবে, তারই সঙ্গে মাদকপাচার ও উত্পাদন বন্ধের ব্যবস্থাও করা হবে. ইরানকে আহ্বান করা হয়েছে সম্পূর্ণ ভাবে আন্তর্জাতিক পারমানবিক শক্তি নিয়ন্ত্রণ সংস্থার সমস্ত প্রশ্নের উত্তর দিতে এবং ছয় মধ্যস্থতাকারী পক্ষের সঙ্গে আলোচনার জন্য গুরুত্ব দিয়ে প্রস্তুত হতে.

 উত্তর কোরিয়া রকেট পারমানবিক পরিকল্পনা নিয়ে বৃহত্ অষ্ট দেশ খুবই উদ্বিগ্ন ও তাদের আহ্বান করা হয়েছে আন্তর্জাতিক সমাজের দাবী মেনে এই ধরনের পরিকল্পনা ত্যাগ করতে, অন্যথায় রাষ্ট্রসঙ্ঘের তরফ থেকে আরোপিত সমস্ত রকমের নিষেধাজ্ঞাই সমস্ত রাষ্ট্র পালন করতে বাধ্য.