কুড়ি থেকে বাইশে জুন রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গ শহরে আন্তর্জাতিক অর্থনীতি সম্মেলন হতে চলেছে, যেখানে অংশ নিতে যাচ্ছেন রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিন. এই বৃহত্তম আলোচনার মঞ্চে বিশ্বের নেতৃস্থানীয় বিশেষজ্ঞরা, রাজনীতিবিদেরা ও ব্যবসায়ীরা আলোচনা করবেন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন গুলিকে নিয়ে, যা আজ বিশ্বের অর্থনীতির সামনে রয়েছে. সেই গুলি ভাল করেই জানা রয়েছে – উত্পাদন ও ভোগের অবনতি, বিনিয়োগের অপ্রতুলতা ও বিদেশী মুদ্রার ঝুঁকি, যা নতুন করে সঙ্কটের পাকদণ্ডীতে নিয়ে যেতে পারে. এই সম্মেলনের স্লোগান তাই আচমকাই এই রকমের করা হয় নি: “সিদ্ধান্ত মূলক কাজকর্মের সময় এসেছে”.

এই বছরে উত্তরে রাজধানী রেকর্ড সংখ্যক অতিথিদের স্বাগত জানাবে – পাঁচ হাজারেরও বেশী সম্মেলনের প্রতিনিধি ও বিশ্বের বহু সংখ্যক দেশ থেকে হাজারেরও বেশী সাংবাদিক প্রতিনিধিদের. দীর্ঘ সময় ধরে চলতে থাকা মন্দা থেকে বের হওয়ার পথ ও বৃহত্তর অর্থনীতিকে মজবুত করার উপায় নিয়ে আলোচনা করবেন মন্ত্রীরা, বৃহত্তম কোম্পানী গুলির প্রধানরা, বিনিয়োগকারীরা ও বিশ্লেষকরা. এবারে সত্যই আলোচনার বিষয় অনেক রয়েছে: ইউরোপে সবচেয়ে বেশী দিন ধরে উত্পাদনে মন্দা চলছে, রাশিয়ার গড় বার্ষিক উত্পাদনের হার কমের পূর্বাভাস রয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, চিন ও অন্যান্য এলাকাতেও সব কিছু সন্তোষজনক নয়. বোঝাই যাচ্ছে যে, তাদের মধ্যে প্রতিযোগিতা কেউই বাতিল করে নি, কিন্তু আধুনিক হুমকি গুলির একটা সাধারণ চরিত্র রয়েছে, আর জাতীয় অর্থনীতি গুলির মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ প্রশাসনগুলিকে বাধ্য করে পরস্পরের সঙ্গে সমঝোতার ভাষা সন্ধানে, যাতে সম্মিলিত ভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয়.

ভ্লাদিমির পুতিনের পরিকল্পনাতে – বলা যেতে পারে, এই সম্মেলনের সবচেয়ে বেশী অপেক্ষা করে থাকা অতিথির জন্য – কথা রয়েছে ‘জি২০’ দেশের ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের সঙ্গে সাক্ষাত্কার হওয়ার ও যুব ‘জি২০’ শীর্ষ সম্মেলনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে দেখা করার. রাশিয়ার রাষ্ট্রপতির জন্য পরিকল্পনা রয়েছে পরিকল্পনা বৈঠকে ভাষণের, আর তারই সঙ্গে তাঁর জার্মানীর চ্যানসেলার অ্যাঞ্জেলা মেরকেল ও নেদারল্যান্ডসের প্রধানমন্ত্রী মার্ক রিউত্তের সঙ্গে আলোচনা, যাঁরা এখানে আসছেন সেন্ট পিটার্সবার্গ সম্মেলনের বিশেষ অতিথি হয়ে.

মস্কোর জার্মান শিল্প- বাণিজ্য জোটের চেম্বারের প্রতিনিধি দপ্তরের প্রধান মিখায়েল হার্মস “রেডিও রাশিয়ার” সঙ্গে তাঁর এই আসন্ন সম্মেলনের থেকে আশা সম্বন্ধে মত বিনিময় করে বলেছেন:

“আমি আশা করবো রাশিয়ার অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অবস্থানের সংজ্ঞা শোনার জন্য, রাষ্ট্রপতির ঐতিহ্য অনুযায়ী বক্তৃতা ও অন্যান্য রুশ রাজনীতিবিদ ও অর্থনীতিবিদদের বক্তব্য শোনার জন্য. তাঁরা একটা লক্ষ্য নির্দেশ করতেই পারেন, যে দিকে আমরা এখন অর্থনৈতিক ভাবেই রয়েছি, কি ধরনের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অর্থনীতির ক্ষেত্রে প্রাথমিক গুরুত্ব দেওয়া হতে চলেছে, যা আজ রাশিয়ার মন্ত্রীসভার সামনে রয়েছে, কি ধরনের নতুন উদ্যোগ নেওয়া হতে চলেছে. সাধারণতঃ, প্রত্যেক বছরেই কিছু নতুন থাকে. এই সম্মেলন শুধু রাশিয়ার জন্যই উপকারী নয়, বরং এটা একটা গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠান, কারণ এর মধ্যেই অনেক সেমিনার হয়, বিতর্ক হয় বিশ্বের অর্থনৈতিক প্রবণতা নিয়ে”.

বোঝাই যাচ্ছে যে, বিশেষজ্ঞ স্তরে যোগাযোগ শুধু অর্থনৈতিক বিষয়েই সীমাবদ্ধ থাকবে না. এখানে কথা হবে ভূ-রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে, নতুন প্রভাবের কেন্দ্র নিয়ে ও বিশ্বের শক্তি অবস্থান নিয়েও. এটা এর মধ্যেই এই সম্মেলনের ঐতিহ্য হয়েছে. এই বিষয়ে ফরাসী রাজনীতিবিদ জিল্ল কেপেল বলেছেন:

“রাশিয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে নিকটপ্রাচ্যে, আর আমি নিজে – একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ও নিকটপ্রাচ্য বিশারদ হিসাবে – আশা করবো যে, ভাল করে বুঝতে পারা, রাশিয়ার কি ভূমিকা, রাশিয়া কি আশা করে, আর রাশিয়ার সহকর্মীদের সঙ্গে সম্মেলনে সঙ্কট পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করার, বিশেষ করে নিকটপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে. আমার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ হল রাশিয়ার নেতৃত্ব ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে যোগাযোগ করার. রাশিয়া – একটি বিশ্ব মানের দেশ. আর আমরা যথেষ্ট রকমের ভাল করে রাশিয়ার লোকদের সঙ্গে আলোচনা করছি না, এটা আবার সেই সময়ে, যখন আপনাদের দেশ এই এলাকায় খুবই প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করছে”.

সেন্ট পিটার্সবার্গে সম্মেলন চলার সময়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে. আর যাতে অতিথিদের শুধু ব্যবসায়িক যোগাযোগই মনে থেকে না যায়, তাই তাঁদের জন্য তৈরী করা হয়েছে বিশাল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেরও.