সিরিয়ার পরিস্থিতিকে আলোচ্যের কেন্দ্রীয় বিষয়ে রেখে উত্তর আয়ারল্যান্ডে “বৃহত্ অষ্টদেশের” শীর্ষ সম্মেলনকে সফল বলা যেতে পারে. অন্তত পক্ষে মস্কোর মতে, বিশ্বের নেতৃস্থানীয় রাষ্ট্র গুলির এই দেশের সঙ্কট অবসান নিয়ে দৃষ্টিকোণ এবারে অনেকটাই কাছাকাছি হয়েছে.

“আটের গোষ্ঠীর” শীর্ষ সম্মেলন আয়োজনের সময়ে বহু সংখ্যক পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল যে, রাশিয়ার অবস্থান সিরিয়া প্রসঙ্গে, যা পশ্চিমে বিচারের মধ্যে আনা হয় না, তা রাষ্ট্র প্রধানদের কথাবার্তার সময়ে পথের কাঁটা হবে. অথবা, তার থেকেও খারাপ যে, এই বিষয়ে আলোচনা হয়ে দাঁড়াবে পরস্পর বিরোধের কারণ. কাজের ক্ষেত্রে দেখা গেল সব কিছুই অন্য রকম হয়েছে. মস্কোর মত এই সম্মেলনের সমস্ত অংশীদার রাষ্ট্রই শুনেছে. সম্মিলিত কমিউনিকে হয়েছে এই আলোচনার ফল, যাতে সিরিয়ার রাষ্ট্রপতি বাশার আসাদের ভবিষ্যত নিয়ে কিছুই বলা হয় নি অথবা এই সমস্যার শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে সমাধান নিয়েও কিছু বলা হয় নি. বরং উল্টো, সেখানে আলোচনার আহ্বান রয়েছে, যাতে এই দেশে যত দ্রুত সম্ভব শান্তি ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়. এই শীর্ষ সম্মেলন নিয়ে আর বিশেষ করে “সিরিয়ার অংশ” নিয়ে রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিন তাই বলেছেন:

“আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়ে আলোচনার সময়ে, বোঝাই যাচ্ছে যে, বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়েছে সিরিয়া প্রসঙ্গে. আমরা ‘জি৮’ সহকর্মীদের আহ্বান করেছি সিরিয়ার সঙ্কট মীমাংসার জন্য লক্ষ্য নির্দিষ্ট করে জেনেভা সম্মেলন ডাকার জন্য কাজ করার, এই দেশে রক্তক্ষয় বন্ধ করার জন্য ও নিজেরা সমঝোতায় পৌঁছেছি যে, শুধু মাত্র রাজনৈতিক- কূটনৈতিক ব্যবস্থা দিয়েই এটা সাধন করা সম্ভব হবে. আমাদের মতে, যে কোন ধরনের সিদ্ধান্তই, যা বিরোধী পক্ষকে অস্ত্র সরবরাহ নিয়ে করা হবে, তা হবে দামাস্কাসের উপরে অপ্রমাণিত অভিযোগের উপরে ভিত্তি করে, যে, তারা রাসায়নিক অস্ত্র প্রয়োগ করেছে, আর এটা পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলবে. ‘জি৮’ এর পরেও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে খুবই মনোযোগ দেবে. তার মধ্যে নিকট প্রাচ্যও রয়েছে, পশ্চিম ও উত্তর আফ্রিকার সঙ্গেই. আফগানিস্তান থেকে আগামী আন্তর্জাতিক জোটের শক্তি প্রত্যাহার প্রসঙ্গেও আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি শক্তি বৃদ্ধি করার, যাতে বেআইনি মাদক নিয়ে কারবার বন্ধ করা যায়, কোরিয়া উপদ্বীপ এলাকায় রাজনৈতিক – কূটনৈতিক ভাবেই পরিস্থিতি সমাধানের পথ খুঁজে পাওয়া যায়, ইরানের পারমানবিক পরিকল্পনা নিয়েও স্থিতিশীল ভাবে আলোচনা করা সম্ভব হয়. বেশীর ভাগ প্রশ্নের ক্ষেত্রেই সহমতে আসা অবস্থান এই প্রসঙ্গে প্রকাশিত ঘোষণায় প্রতিফলিত হয়েছে”.

নিজের পক্ষ থেকে গ্রেট ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন যোগ করেছেন যে, রাষ্ট্রের শীর্ষ নেতারা সমঝোতায় এসেছেন যে, সিরিয়া ভবিষ্যত প্রশাসনকে তাঁরা সমর্থন করবেন, যা এই দেশের সমস্ত অধিবাসীদের স্বার্থ রক্ষা করে. শান্তিপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে ঠিক এই ধরনেরই মন্ত্রীসভা তৈরীর কথা, যা আগেও মস্কো থেকে এই বিরোধের একেবারে শুরু থেকেই বলা হয়েছিল. ওয়াশিংটনের উত্স থেকে ঘোষণা করা হয়েছে যে, এই সম্মেলনের শেষে যে দলিল গৃহীত হয়েছে, তা সেই সমস্ত লক্ষ্যের সঙ্গে মিলেছে, যা রাষ্ট্রপতি বারাক ওবামা অন্যান্য দেশের নেতাদের সঙ্গে আলোচনার সময়ে ও তার মধ্যে ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে আলোচনার সময়ে অনুসরণ করেছেন.

দামাস্কাসকে রাশিয়ার সমরাস্ত্র বিক্রীর প্রসঙ্গে নিয়ে ভ্লাদিমির পুতিন বিশেষ করে উল্লেখ করেছেন যে, মস্কো এই সব সেখানে পাঠায় আইন সিদ্ধ চুক্তি অনুসারে বাশার আসাদের প্রশাসনকেই. আর সিরিয়ার বিরোধী পক্ষকে পশ্চিমের তরফ থেকে যে অস্ত্র সরবরাহের কথা বলা হয়েছে, তা একেবারেই অন্য ব্যাপার, তাই তিনি বলেছেন:

“আমরা মনে করি যে, আমাদের অবস্থান বিবেক ও আইনের দৃষ্টিকোণ থেকে একেবারেই কোন রকমের অভিযোগ করার মতো নয়. মাত্র কয়েকদিন আগেই ব্রিটেনের জনগন এক ভয়ঙ্কর ট্র্যাজেডি অনুভব করেছে, যা আমরাও করেছি তাদের সাথেই, যখন লন্ডনের রাস্তায় পাশবিক ভাবে এক ব্রিটিশ সৈন্যকে হত্যা করা হয়েছিল. বিরোধীদের দলে এই ধরনের অপরাধী প্রচুর রয়েছে. ইউরোপের মানুষরা কি এদের অস্ত্র সরবরাহ করতে চান? এই অস্ত্রের পরে কি হবে? কারা এটাকে নিয়ন্ত্রণ করবে ও কি ধরনের হাতে তা পড়বে? হতে পারে যে, সেই ইউরোপেই তা ফিরে আসবে? তাই আমি আমাদের সহকর্মী সকলকেই আহ্বান করছি, এই ধরনের বিপজ্জনক পদক্ষেপ নেওয়ার আগে আরও একবার ভেবে দেখার জন্য”.

উত্তর আয়ারল্যান্ডের শীর্ষ সম্মেলন শেষ হয়েছে. লখ-এর্ন শহরে ভ্লাদিমির পুতিন চল্লিশতম জয়ন্তী শীর্ষ সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা করেছেন: তেসরা ও চৌঠা জুন ২০১৪. ২০১৪ সালের পয়লা জানুয়ারী “বৃহত্ অষ্টদেশের” সভাপতিত্বের পরবর্তী সময়ে দায়ভার রাশিয়ার হবে. এই প্রসঙ্গে রাশিয়ার নেতা ঘোষণা করেছেন যে, বৃহত্ অষ্টদেশের বৈঠক বিশেষ করেই সোচী শহরে অলিম্পিক শেষ হওয়ার চার মাস পরে তৈরী থাকা পরিকাঠামোতেই করা হবে. তার ফলে শীর্ষ সম্মেলন আয়োজনের জন্য প্রশাসন বাড়তি বাজেটের অর্থ খরচ করবে না, উল্লেখ করেছেন রুশ রাষ্ট্রপতি.