পশ্চিমের রাজনীতিবিদরা ও আফগান সরকার খুবই আশাবাদী আফগানিস্তান থেকে আসন্ন বিদেশী সৈন্য প্রত্যাহার নিয়ে. এঁরা আর ওঁরা নিজেদের পক্ষ থেকে সবচেয়ে আনন্দময় পূর্বাভাস দিচ্ছেন, যা স্থানীয় শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর হাতে দেশের নিরাপত্তার ভার তুলে দেওয়া নিয়ে ন্যাটো জোটের নেতৃত্ব ও আফগানিস্তানের রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করেছেন ১৮ই জুন. কিন্তু পরিস্থিতি কি এতই মেঘ শূণ্য?

আজই দেখা যাচ্ছে যে, ২০১৪ সালে আফগানিস্তান ছেড়ে বিদেশী সৈন্যদের চলে যাওয়া নিয়ে খবর শুধু চরমপন্থী গোষ্ঠী গুলিকেই উদ্যোগী করে তুলেছে. গত সপ্তাহে তালিবরা এক সারি সন্ত্রাসবাদী কাজ কর্ম করেছে ও তারা স্ট্র্যাটেজিক ভাবে গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে আক্রমণ করেছে, তার মধ্যে চেষ্টা করেছে কাবুলের বিমান বন্দর দখল করার. আবার এমনকি ক্ষমতা হস্তান্তরের দিনেও তালিবরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাগরাম ঘাঁটিতে গুলি চালিয়েছে. বোঝাই যাচ্ছে যে, তা করা হয়েছে ন্যাটোর কর্তা ব্যক্তিদের এই নিরাপত্তা রক্ষা বিষয়ে ক্ষমতা হস্তান্তরের কারণে দেশে শোভাযাত্রা করে আসাকে লক্ষ্য করেই. এই অনুষ্ঠানে প্রয়োজনীয় কথা বলা হয়েছে. রাষ্ট্রপতি হামিদ কারজাই এই ঘটনাকে বলেছেন ঐতিহাসিক মুহূর্ত, আর ন্যাটোর সাধারন সম্পাদক আন্দ্রেস ফগ রাসমুস্সেন আফগানিস্তানের জনগনকে এই দিনে গর্ব বোধ করতে আহ্বান করেছেন.

কিন্তু আপাততঃ কোন রকমের ভরসা নেই যে, স্থানীয় শক্তি কাঠামো দেশের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে পারবে, এই রকম মনে করে প্রাচ্য অনুসন্ধান ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ ভিক্তর কর্গুন বলেছেন:

“আফগানিস্তানের সেনাবাহিনী – কারজাইয়ের হাতে খুবই ভরসার অযোগ্য অস্ত্র. আর যখন পশ্চিম এখান থেকে চলে যাবে, সৈন্যদের অনেক লোকই বাহিনী ছেড়ে পালাবে, কারণ প্রশাসনের কাছে অর্থ থাকবে না, যাতে সৈন্যদের ভাল মানে রাখা সম্ভব হয়. তালিবরা নিজেদের যোদ্ধাদের বেশী অর্থ দেয়. এখন কাবুল নিজেদের সেনাবাহিনীর জন্য ব্যয় করে বছরে ১ হাজার কোটি ডলার, কিন্তু পরবর্তী কালে এটা হবে চার পাঁচ হাজার কোটি ডলার – ততটাই আমেরিকা দেবে বলে আশ্বাস দিয়েছে. এই ধরনের হঠাত্ করে পতন অবশ্যই সামরিক বাহিনীর পরিস্থিতিতে প্রভাব ফেলবে”.

রাশিয়ার পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রধান সের্গেই লাভরভ ঘোষণা করেছেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের সহযোগীরা স্থানীয় শক্তি বাহিনীর হাতে দেশের নিরাপত্তার ভার তুলে দেওয়া নিয়ে অযথাই তাড়াহুড়ো করছে. তাঁর মতে, আফগানিস্তানের পরিস্থিতি যাতে বিদেশী সেনা প্রত্যাহারের সঙ্গে ধ্বংস না হয়ে যায়, তার জন্যে তাদের সংখ্যা কমা আফগানিস্তানের কাঠামো গুলির যুদ্ধ ক্ষমতা বৃদ্ধির সঙ্গেই তুলনা মূলক ভাবে হওয়া উচিত্. আরই স্পষ্ট সমস্যা দেখতে পাওয়া যাচ্ছে. সামরিক কেন্দ্র গুলির উপরে জঙ্গীদের তরফ থেকে নিয়মিত আক্রমণ বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই তাদের জন্য সাফল্য নিয়ে আসছে. কাবুলে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আন্দ্রেই আভেতিসিয়ান একই সঙ্গে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন যে, দেশের সমগ্র এলাকায় আফগানিস্তানের সামরিক বাহিনী ও পুলিশ বাহিনী নিরাপত্তা নিজেরাই দেশের নিরাপত্তা বজায় রাখতে তৈরী আছে বলে.

তাহলে কেন পশ্চিমের স্ট্র্যাটেজি তৈরী করার লোকরা তাড়াহুড়ো করছে নিজেদের সেনাবাহিনী ফেরত নিয়ে যাওয়ার জন্য? এই প্রসঙ্গে আফগানিস্তানের জাতীয় অ্যাসেম্বলীর সঙ্গে সহযোগিতার জন্য রাশিয়ার রাজ্যসভার গোষ্ঠীর দায়িত্বভার প্রাপ্ত সম্পাদক ভিয়াচেস্লাভ নেক্রাসভ বলেছেন:

“এই দায়ভার অর্পণ অনেকটা পশ্চিমের কাঁধ থেকে ঝেড়ে ফেলে সব সমস্যা আফগানিস্তানের সামরিক বাহিনীর উপরে ফেলে দেওয়ার মতো. আফগানিস্তানের সেনা ও অফিসারদের সঙ্গে কথার সময়ে আমি শুনেছি যে, সামরিক বাহিনীর অস্ত্র সম্ভার খুবই দুর্বল – তাদের ট্যাঙ্ক, বিমান কামান সবই পুরনো. আর আধুনিক অস্ত্র ছাড়া বড় মাপের যুদ্ধ করা সম্ভব নয়. আমার সন্দেহ যে, ন্যাটো আফগানিস্তানের সামরিক বাহিনীকে অস্ত্র দিতে এই কারণেই চায় না যে, সেই অস্ত্র তাদের বিরুদ্ধেই পরে ব্যবহার হতে পারে”.

রাসমুস্সেন আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বাহিনীর আফগানিস্তানে থাকার সময়ের দুঃখজনক পরিণামকে বলেছেন উন্নতি, কিন্তু তা কি রকমের সেটা সকলেরই জানা হয়ে গেছে. এটা খুবই গভীরে প্রবেশ করা আর্থ- সামাজিক সঙ্কটের ইতিহাস, যেখানে শান্তিপ্রিয় মানুষের মৃত্যু মিছিল চলেছে, মাদক ব্যবসায় ও বেআইনি অভিবাসনের সঙ্গে হয়েছে প্রচুর অন্যান্য বিপদের সঞ্চার. কিন্তু প্রধান বিপদ এই দেশের জন্য হতে পারে যে, অনুপ্রবেশ অথবা বিদেশী সৈন্যদের থাকাই নয়, বরং তাদের প্রত্যাহার.