কাজান শহরে ২৭তম বিশ্ব ইউনিভার্সিয়াডের শুরু হতে আর হাতে গোনা দিন বাকী রয়েছে. এই প্রতিযোগিতার জন্য ১৭০টি দেশের শুধু ছাত্রছাত্রী খেলোয়াড়রাই তৈরী হচ্ছেন না, তাঁদের সঙ্গে হচ্ছেন স্বেচ্ছাসেবকরাও. এই খেলার আয়োজকদের সাহায্য করবেন ২০ হাজার স্বেচ্ছাসেবক.

কাজান ইউনিভার্সিয়াডে স্বেচ্ছাসেবকরা কাজ করবেন অনুবাদক হিসাবে, খেলার মাঠে সাহায্য করবেন, তথ্য প্রচারের কাজে সহায়তা করবেন, খেলোয়াড় ও বিশেষ অতিথি ও অভ্যাগতদের সঙ্গে করে নিয়ে যাবেন. সমস্ত স্বেচ্ছাসেবকরাই ভাল করে বাছাই ও প্রস্তুতি পর্ব পার হয়ে এসেছেন. স্বেচ্ছাসেবকরা বিশ্ব ছাত্র ক্রীড়া প্রতিযোগিতার ইতিহাসের সঙ্গে পরিচিত হয়েছেন, তারপরে নানা রকমের প্রশিক্ষণ করেছেন, যা করার সময়ে তাঁদের আলাপচারিতা, আয়োজনের ক্ষমতা, দলের একজন হয়ে কাজ করার ক্ষমতা পরীক্ষা করে দেখা হয়েছে. স্বেচ্ছাসেবক হওয়ার জন্যে বিশেষ ধরনের গুণের প্রয়োজন আছে, এই কথা উল্লেখ করে কাজানের জাতীয় প্রযুক্তি গবেষণা ইনস্টিটিউটের ছাত্র ও ২০১৩ ইউনিভার্সিয়াডের স্বেচ্ছাসেবক গাজিনুর বলেছে

প্রাথমিক ভাবে এটা চাপ সহ্য করার ক্ষমতা, খুবই বন্ধুভাবাপন্ন হতে হয়, যাতে যে কোনও রকমের পরিস্থিতি থেকেই বের হওয়ার পথ খুঁজে পাওয়া যেতে পারে. যেমন, দলের কোন একটা খেলার সরঞ্জাম ভেঙে গিয়েছে, আর আমাদের এই সমস্যা সমাধান করতে হবে. আমরা কখনোই বিমর্ষ হতে পারি না, আমাদের সবসময়েই হাসিখুশী থাকতে হবে ও লোকজনকে সহায়তা দিতে হবে.

স্বেচ্ছাসেবক ছাড়া আজ কোনও একটিও বড় আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন সম্ভবপর নয়. দুই বছর আগে চিনের শেনজেন শহরে কাজ করেছিল তিন লক্ষ কুড়ি হাজার স্বেচ্ছাসেবক. কাজানের ইউনিভার্সিয়াড আয়োজক কমিটিতে বলা হয়েছে যে, কুড়ি হাজার স্বেচ্ছাসেবক যথেষ্ট হবে. কাজান- ২০১৩ আয়োজক কমিটির সদর দপ্তরের প্রতিনিধি লারিসা সুলিমা বলেছেন:

“চিনে অনেক স্বেচ্ছাসেবক ছিল, আমাদের সংখ্যা দিয়ে তাদের টপকে যাওয়া সম্ভব নয়. আবার, অন্য দিক থেকে আমাদের ছেলেমেয়েরা অনেক বেশী কথাবার্তায় পটু. দুঃখের হল যে, বেশীর ভাগ চিনের স্বেচ্ছাসেবক অতিথিদের বাস্তব সহায়তা দিতে পারে নি, কারণ তারা ইংরাজী জানত না. অর্থাত্ তারা বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই শুধু লোকের মন ভাল করার কাজে লেগেছে, তারা হেসেছে, বলেছে লেফ্ট – রাইট, তার বেশী কিছু না. এই ব্যাপারে আমাদের ছেলেমেয়েরা খুবই ক্ষমতা সম্পন্ন পড়াশোনা করেছে, আমরা তাদের জন্য যেমন দূর থেকে পড়ানোর ব্যবস্থা করেছি, তেমনই সার্বিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছি. যদি আমাদের ইংরাজী ভাষার পরীক্ষা নেওয়া হয়, তবে প্রায় সত্তর ভাগ স্বেচ্ছাসেবক খুবই ভাল ইংরাজী জানে”.

কাজানের ইউনিভার্সিয়াডে আয়োজকদের সাহায্য করার জন্য বিনা বেতনে কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিল পঞ্চাশ হাজারেরও বেশী জন. সারা রাশিয়া আর এমনকি বিদেশ থেকেও, তাই লারিসা সুলিমা বলেছেন:

“আমাদের কাছে এসে যোগ দিচ্ছেন বিশ্বের ৬০টি দেশের মানুষ – ১৫০ জন. এঁরা আগের ও ভবিষ্যতের ইউনিভার্সিয়াডের আয়োজক কমিটির প্রতিনিধি. আন্তর্জাতিক ছাত্র ক্রীড়া ফেডারেশনের এটাই নিয়ম. তাছাড়া, কাজানে বিদেশী ছাত্রদের এক প্রভাবশালী সংগঠন রয়েছে. আর আমাদের স্বেচ্ছাসেবকদের মধ্যেও বিদেশী ছাত্রছাত্রীরা আছে, যারা কাজান শহরেই থাকে, এখানে পড়াশোনা করে, তাই আমি ভরসা নিয়েই বলতে পারি যে, আমাদের এই প্রতিযোগিতার সময়ে থাকবে আন্তর্জাতিক দল”.

কাজানের স্বেচ্ছাসেবকরা এক সময়ে বেলগ্রাদ, এর্জুরুম ও শেনজেন ইউনিভার্সিয়াডে কাজ করেছে, তারা কিশোর অলিম্পিকে গিয়েছে ইন্সব্রুক ও সিঙ্গাপুরে, এশিয়া ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় কাজ করেছে আস্তানা শহরে ও ভ্লাদিভস্তক শহরের এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্মেলনে কাজ করেছে. এই কাজানের প্রতিযোগিতার পরে তাদের মধ্যে সেরারা যাবে সোচী অলিম্পিকে.