ইন্টারনেটে এক আন্তর্জাতিক প্রকল্প শুরু হয়েছে – নাম দশ হাজার লেখকের মতে সুখ. এই সাইট ভেবে বার করেছে মস্কোর দুই ছাত্র. তারা সমস্ত ইচ্ছুক লোকদের বলছে ছোট করে একটা প্রবচন লিখতে, যে সুখ মানে কি. দেখা গেল যে, এই প্রোজেক্ট খুব দ্রুতই জনপ্রিয় হয়েছে – এর মধ্যেই এর অংশীদার হয়েছে হাজার দুয়েক লোক.

এই http://10000authors.com সাইটের স্রষ্টা নিকোলাই পানাসেঙ্কো ও ফিলিপ স্কোরোদেদভ মনে করে যে, সুখ জটিল হতে পারে না, তারা দুজনেই রাশিয়ার খনিজ তেল ও গ্যাস ইনস্টিটিউট, যেটি ই. এম. গুবকিনের নামে পরিচিত, তারই ছাত্র. আর তাই তারা সমস্ত ইচ্ছুক লোকদের প্রস্তাব করেছে ১৫০ শব্দের মধ্যে আর একটা বাক্যেই সুখের ফর্মুলা লিখতে. যখন এই সাইটে ১০০০০ মন্তব্য জমা পড়বে, তখন এই ছেলেরা ঠিক করেছে একটা বই ছাপিয়ে সারা পৃথিবীতে তা প্রচার করার.এই বইয়ের সমস্ত লেখক একটা করে কপি নিজেরা পাবে, তাই রেডিও রাশিয়াকে নিকোলাই পানাসেঙ্কো বলেছে:

“আমরা এমন একটা বই তৈরী করতে চাই, যা সকলের জন্যই উপকারী হতে পারে. আর তাই আমরা ঠিক করেছি, নিজেরা এটা না লিখে, যত বেশী সংখ্যক মানুষকে এতে টেনে আনতে. তার মধ্যে আবার এমন করে যে, প্রত্যেক লোকই নিজের একটা অংশ এই বইতে দিতে পারে, নিজে এর জন্য আলাদা করে লেখক না হয়েও, আর তার সঙ্গে তার পেশা, বয়স, মর্যাদা ও বাসস্থানের উপর নির্ভর না করেই. আর এর বিষয় স্থির করেছি এমন – যা সকলের আগ্রহের বিষয় – সুখ কি”.

এই প্রোজেক্ট আন্তর্জাতিক, সাইটে ইংরাজী এমনকি চীনা ভাষাতেও লেখা দেখা যেতে পারে. বিদেশে এই ধারণাকে প্রসার করার জন্য তাদের দেশের বাইরে থাকা রুশ ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হয়েছে, তাই ফিলিপ স্কোরোদেদভ বলেছে:

“একজন – মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে, অন্যজন – চিনে. তারা এই প্রোজেক্ট নিয়ে লোকদের মধ্যে প্রচার করছে. এই তথ্য তারা সংবাদ মাধ্যমে দিয়েছে, ছাত্র সংগঠনেও ছড়াচ্ছে. আমরা এই সাইটে জায়গা স্থির করে দিয়েছি – রাশিয়ার জন্য ৬০০০ জায়গা, আর চিন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এটা হবে ৩০০০. আরও এক হাজার আমরা রেখেছি অন্যান্য দেশের জন্য. লোকেরা নিজেরাই আমাদের প্রোজেক্ট নিয়ে জেনে যাচ্ছেন, ইচ্ছুক রয়েছেন যোগ দেওয়াতে – ইউরোপ থেকেও – জার্মানী, ফিনল্যান্ড থেকে. এমনকি রয়েছে অস্ট্রেলিয়া থেকেও. আপাততঃ আমরা রাশিয়ার উপরেই জোর দিচ্ছি, আর তারপরে জোর দেব বাকী দেশ গুলির উপরেও, যাতে পৃথিবীর সমস্ত কোণ থেকে মন্তব্য যোগাড় করতে পারি”.

বিশ্বে এই সুখের বইয়ের কোন তুলনা নেই. এটা কোন প্রসিদ্ধ লেখকের মন্তব্যের বই নয়, এটা তাই, যা আমাদের প্রত্যেকেই প্রতিদিন টের পাই. যারা ইতিমধ্যেই নিজেদের মন্তব্য দিয়েছে তাদের বয়স ১৮ থেকে ২২এর মধ্যে. তাদের জন্য সুখ হল ভালবাসতে পারা ও কারো ভালবাসা পাওয়া, যা তাদের বয়সের সঙ্গে খুবই মেলে. একেক সময়ে সাইটে খুবই কাব্যিক ও অসাধারণ ধারণা দেখতে পাওয়া যায়, তাই ফিলিপ স্কোরোদেদভ বলেছে:

““প্রজাপতি এসে কাঁধের উপরে বসেছে, যতক্ষণ বসে আছে, সেই সময়টাকেই ধরতে ইচ্ছে করে – এটাই সুখ”. অথবা “সুখ – মেঘের দিকে তাকিয়ে থাকায়”. আমাকে এটা অবাক করেছে. কারণ সাধারণতঃ লোকে লেখে যে, যেন বাচ্চারা, কাছের লোকরা সুস্থ থাকে, জীবনে যেন কিছু একটা করে ওঠা হয়”.

এই প্রকল্প ব্যবসায়িক নয়, যদিও, এখানে লেখা রাখতে গেলে ভর্তি হওয়ার চাঁদা লাগে – ১০ ডলার. কিন্তু এটা দরকার, যাতে এই বই ছাপানোর খরচা পোষানো যায়. বই বা সাইট থেকে নিজেরা কোন লাভের কথা তারা ভাবে নি. এই সাইটে স্রষ্টারা তাদের ভরসার কথা বলেছে যে, সবাই মিলে লেখা এই নতুন বই বিশ্বের সবচেয়ে বড় বই হবে লেখকের সংখ্যায়, সম্ভবতঃ, তা এমনকি গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে জায়গা করে নেবে. এই বই কোনদিনও নিজের বাস্তবতা হারাবে না – কারণ http://10000authors.com সাইটে লেখা রয়েছে যে, “সুখ সময় ও যুগের ধারার অধীনে থাকে না”.