রাজধানীর শিক্ষা দফতর নতুন শিক্ষাবর্ষের শুরু থেকে মহাকাশবিদ্যা চর্চা স্কুলে আবশ্যকীয় পাঠ্যসূচীর অন্তর্ভুক্ত করতে চলেছে. মহাকাশচারীরা মহাকাশ থেকে সরাসরি স্কুলপড়ুয়াদের শিক্ষা দেবেন. এ রকম মাস্টার-ক্লাস নবীন সম্প্রদায়কে পুনরায় মহাকাশ নিয়ে মেতে উঠতে সাহায্য করবে.

    ইতিমধ্যেই মহাকাশচারীদের শিক্ষাদান বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে. 'এনের্গিয়া' কর্পোরেশনের উপ-প্রধান নকশাবিদ আলেক্সান্দর চেরনিয়াভস্কি 'রেডিও রাশিয়া'কে দেওয়া ইন্টারভিউয়ে বলেছেন, যে এই পাঠ্যসূচী মহাকাশ প্রযুক্তি ক্ষেত্রের জন্য নতুন নতুন উচ্চ পেশাদারী দক্ষতাসম্পন্ন কর্মীদের খুঁজে পেতে সাহায্য করবে.-

    মহাকাশ থেকে সরাসরি ভূগোল,পদার্থবিদ্যা, রসায়ন. জীববিজ্ঞানের শিক্ষা দেওয়া হবে. মহাকাশে থেকে কিভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়, কিভাবে গবেষণা করা হয় - তা প্রত্যক্ষ করা স্কুলপড়ুয়াদের কাছে খুবই আগ্রহোদ্দীপক. তাই মহাকাশচারীদের সাথে নিয়মিত সরাসরি যোগাযোগের ব্যবস্থা করা হয়েছে. এক্ষুণি সঠিক বলতে পারছি না, যে কত ঘনঘন যোগাযোগ হবে - সপ্তাহে একবার, না তার কম, তবে গোটা শিক্ষাবর্ষের রুটিনে দিনক্ষণ নির্দিষ্ট করা থাকবে. উপরন্তু ভূপৃষ্ঠেও ইঞ্জিনীয়ারিংয়ের জন্য অপরিহার্য শিক্ষা দেওয়া হবে. তদুপরি স্কুলপড়ুয়া ও উচ্চশিক্ষার্থীদের কৃত্রিম স্যাটেলাইট বানানোর ব্যাপারেও মদত দেওয়া হবে, পৃথিবীর প্রথম সারির বিশ্ববিদ্যালয়হুলিতে এরকম প্রথা চালু আছে.

    উড়ান নিয়ন্ত্রণের সদর দফতর থেকে মহাকাশচারীদের উপর প্রতিনিয়ত নজর রাখা হয়, তাই মহাকাশে তাদের জীবনযাত্রার খুঁটিনাটি সরাসরি ইন্টারনেটে সম্প্রচার করা যেতে পারে এবং মহাকাশচারীদেরও তাতে আপত্তি নেই. তারা এমনকি শিক্ষাদানের জন্য বাড়তি পারিতোষিকও চাইছে না.-

    চেরনিয়াভস্কি বলছেন, যে এটা কোনো বাণিজ্যিক প্রকল্প নয়, স্কুলপড়ুয়াদের এই বাবদে কোনো পয়সা দিতে হবে না. এর পেছনে খরচা তেমন বেশী নয়, আজকাল অ্যামেচাররা অনায়াসে মহাজাগতিক স্টেশনের সাথে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপণ করে. স্কুলগুলোও বাড়তি খরচা ছাড়াই এর সদ্ব্যবহার করতে পারবে.

    'এনের্গিয়া' কর্পোরেশনে মনে করা হচ্ছে, যে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি পুরোপুরি ব্যবহার করে আগ্রহশীল শিক্ষার্থীদের জ্ঞানের পরিসীমা বিস্তৃততর করা যাবে অল্পায়াসে, বিশেষতঃ,যখন স্কুলের পাঠ্যসূচী থেকে জ্যোতির্বিদ্যাকে ছাট করা হয়েছে. তবে ইদানীং বিষয়টিকে আবার পাঠ্যসূচীর অন্তর্ভূক্ত করার তোড়জোর শুরু হয়েছে - বলে চলেছেন চেরনিয়াভস্কি-

    মহাকাশ থেকে পাঠানো ফোটো, বর্ণনা, শিক্ষা - এর থেকে মহাকাশপ্রেমীদের জন্য আগ্রহ ও কৌতূহলোদ্দীপক আর কি হতে পারে? তত্ক্ষণাত ইচ্ছা জাগে এই চর্চায় নিয়োজিত হওয়ার. এই উপলব্ধি আসে, যে এটা মানব সমাজের জন্য কতখানি গুরুত্বপূর্ণ.

   যারা নতুন দৃষ্টি দিয়ে বিশ্বজগতকে দেখতে শিখবে তাদের জন্য আমাদের পৃথিবীয় আরও মায়াময় হয়ে উঠবে. তাই সামনের ১লা সেপ্টেম্বর থেকেই স্কুলের নতুন শিক্ষাবর্ষে শুরু হবে মহাকাশ থেকে স্কুলপড়ুয়াদের শিক্ষাদান.