রাশিয়ার পক্ষ থেকে সুমেরু এলাকায় সক্রিয়তা বৃদ্ধি – এটা পশ্চিমের দেশ গুলির কাজকর্মের প্রত্যুত্তর. মস্কো বাধ্য হয়েছে এই ধরনের ব্যবস্থা নিতে, যাতে নিজেদের ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থ সুরক্ষিত হয়. এই এলাকায় যদি এখনই শক্তি বৃদ্ধি না করা হয়, তবে রাশিয়ার পক্ষে সুমেরু এলাকায় সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধির সঙ্গে তাল মেলানোই কঠিন হয়ে দাঁড়াবে, যা আজ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের ন্যাটো জোটের সঙ্গীরা করছে, বলে বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন.

সুমেরু সামরিক হয়ে যাওয়া নিয়ে চিন্তা নতুন করে করার কারণ হয়েছে সামরিক বাহিনীর প্রধানদের সুমেরু সভা. এই অনুষ্ঠান আবার রাশিয়ার সামরিক বিমান বাহিনীর পক্ষ থেকে দেশের উত্তরে ও উত্তর-পশ্চিমে সক্রিয়ভাবে কাজকর্মের সঙ্গে একসাথেই হচ্ছে: ১১ই জুন দেশের বিমান ঘাঁটি গুলির সামরিক তত্পরতার পরীক্ষা হয়েছে, যা রয়েছে কারেলিয়া, লেনিনগ্রাদ ও মুরমানস্ক এলাকায়.

রাশিয়ার সামরিক বাহিনীর প্রস্তুত থাকার পরীক্ষা আরও বেশী করেই করা হবে – আর তা বিশেষ করেই দেশের উত্তরের দিকে. ইতিমধ্যেই সুমেরুতে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় নীতির ভিত্তি প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে. এই দলিল অনুযায়ী এই এলাকায় তৈরী করা হচ্ছে সুমেরু অঞ্চলের বাহিনী, উন্নয়ন করা হচ্ছে সামরিক পরিকাঠামোর, সীমান্ত অঞ্চলকে মজবুত করা হচ্ছে. বর্তমানের পরিস্থিতিতে এই ধরনের ব্যবস্থা খুবই বাস্তব. কারণ ন্যাটো জোটের দেশ গুলি সুমেরুর দিতে খুবই বেশী রকমের আগ্রহ প্রকাশ করছে.

সুমেরু অঞ্চলের এই তাড়াহুড়ো করার কারণ স্পষ্ট: বরফ গলে পড়া শুধু এই অঞ্চলের বিশাল পরিমানে কার্বন যৌগ ও অন্যান্য ব্যবহারের উপযোগী খনিজের কাছে পৌঁছনোর পথ খুলে দেয় না, বরং তারই সঙ্গে খুলে যাচ্ছে উত্তরের মেরু অঞ্চলের সমুদ্র পথ – যা ইউরোপ থেকে এশিয়া পৌঁছনোর জন্য সবচেয়ে নাতিদীর্ঘ পথ. এই সমস্ত সম্পদকে মানুষের কাজে লাগানোর জন্য শুধু বাধা হতে পারে প্রতিযোগিতাই, এই রকম মনে করে পররাষ্ট্র ও সামরিক নীতি বিষয়ে সভার গবেষণা সংক্রান্ত ডেপুটি ডিরেক্টর দিমিত্রি সুসলভ বলেছেন:

“আমাদের তৈরী থাকতে হবে একটা কৃত্রিম উত্তেজনা বৃদ্ধির জন্য, যা সুমেরু এলাকায় করা হতে পারে ও সেখানে অস্ত্র প্রতিযোগিতার জন্যও. এটা খুবই দুঃখের দিকে ঝোঁকা, কারণ এই ক্ষেত্রে আমরা জীবন্ত ভল্লুকেরই চামড়ার ভাগ করতে বসবো. সমস্যা হল যে, এখানে কথা হচ্ছে এখনও আবিষ্কার না হওয়া সম্পদের – অর্থাত্, আমরা সঠিক ভাবে জানিই না, সেখানে কতখানি কি আছে. কিন্তু যদি সেখানে তা থেকে থাকে, তবে আজকের দিনে তা খনি থেকে তুলে আনা প্রচণ্ড দামী ব্যাপার ও অর্থনৈতিক ভাবেই তার কোনও ভিত্তি নেই. সুমেরু নিয়ে পক্ষদের উচিত্ ছিল নিজেদের সম্পর্ককে রাজনীতি মুক্ত করার, সহযোগিতার পথে বের হওয়ার. এই ক্ষেত্রে উদাহরণ হতে পারে রসনেফ্ত কোম্পানীর সঙ্গে আমেরিকার এক্সোন মোবিল কোম্পানীর সহযোগিতা”.

দুঃখের কথা হল যে, সুমেরুতে বৈজ্ঞানিক – পরিকল্পনা কেন্দ্র, যা কিছুদিন আগে রসনেফ্ত ও এক্সোন মোবিল কোম্পানী একসাথে তৈরী করেছে, তা উত্তরের সম্পদ ব্যবহারের ক্ষেত্রে খুব কম সহযোগিতার এক উদাহরণ. তাই, সুমেরুতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা যত দিনে সুমেরু নিয়ে আলোচনাতে পরিণত না হচ্ছে, ততদিন রাশিয়াকে এই এলাকায় নিজেদের অবস্থানকে মজবুত করতেই হবে, এই রকমের বিশ্বাস নিয়ে রুশ প্রশাসনের সামরিক শিল্প পরিষদের অন্তর্গত সামাজিক সভার সদস্য মিখাইল খদারেনক বলেছেন:

“সোভিয়েত সময়ে সুমেরু এলাকায় সামরিক উপস্থিতি ছিল অনেক বেশী টের পাওয়ার মতো. কিন্তু ১৯৯০ এর দশকে তার থেকে প্রায় কিছুই অবশিষ্ট ছিল না. প্রাথমিক ভাবে আজ আমাদের পক্ষ থেকে প্রশ্ন রয়েছে সুমেরুতে ফেরা নিয়ে – তা যেমন সামরিক অর্থে, তেমনই অসামরিক ভাবেও”.

আজ সুমেরু এলাকায় আগ্রহ প্রকাশ করেছে, সেখান থেকে অনেক দূরের রাষ্ট্ররাও. চিন যেমন নিজেদের সুমেরুর কাছের দেশ বলে দেখাতে চাইছে. সুমেরু সভা নতুন সমস্ত পর্যবেক্ষক দেশের উপস্থিতিতে ভরে উঠছে, যারা সুমেরু এলাকাকে এমন এক অঞ্চলের মর্যাদা দিতে চাইছে, যেখানে কুমেরুর মতই আন্তর্জাতিক নিয়ম চালু করা হবে. কিন্তু রাশিয়ার সবচেয়ে দীর্ঘ এলাকা, যা সুমেরু এলাকার সমুদ্রে গিয়ে পড়েছে. সুমেরুতে রাশিয়ারই সবচেয়ে বেশী সংজ্ঞাবহ আর্থ-বাণিজ্য, জ্বালানী শক্তি ও সামরিক রাজনৈতিক স্বার্থ রয়েছে – যদি এমনকি সুমেরু এলাকার দেশ ডেনমার্ক, কানাডা, নরওয়ে ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তুলনা করে দেখা হয়. আর এই সব স্বার্থ বিসর্জন দিতে রাশিয়া মোটেও তৈরী নয়.