রুশ রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিন গ্রেট ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী উত্তর আয়ারল্যান্ডে অনুষ্ঠিতব্য আগামী বৃহত্ অষ্ট দেশের শীর্ষ সম্মেলনের প্রাক্কালে লন্ডন শহরে হওয়া এক বৈঠকে সিরিয়ার বিরোধ নিয়ে মুখ্যতঃ আলোচনা করেছেন. সিরিয়ার বিষয়ে উভয় নেতাই একমত যে, অনেক গুলি মতবিরোধ অতিক্রমের প্রয়োজন রয়েছে, কিন্তু রাশিয়া ও ব্রিটেনের লক্ষ্য একটিই – রক্তক্ষয় বন্ধ করা.

বৈঠক পরবর্তী সাংবাদিক সম্মেলন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী শুরু করেছিলেন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে সাফল্য ও লক্ষ্য সাধনের হিসাব দিয়ে. এই বছরে ইতিমধ্যেই চারবার ব্যক্তিগত ভাবে দেখা হওয়ার মাধ্যমে খুবই সংপৃক্ত ভাবে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা সম্ভব হয়েছে ও পরিণামে দ্বিপাক্ষিক বিনিয়োগও বৃদ্ধি হয়েছে, ব্যবসায়িক সম্পর্কও উন্নতি করেছে. রবিবারে লন্ডনে রুশ জ্বালানী কোম্পানী গুলির সঙ্গে ও গ্লোনাসস বিষয়ে নতুন চুক্তির কথা ঘোষণা করা হয়েছে: লন্ডন রাজী হয়েছে রাশিয়ার এই মহাজাগতিক ব্যবস্থার জন্য তাদের দেশে বিশ্বে দিক নির্দেশের জন্য ভূমিতে কেন্দ্র গড়তে দেওয়ার বিষয়ে.

কিন্তু প্রধান প্রশ্ন, যা আর দ্বিপাক্ষিক নয়, বরং আন্তর্জাতিক, সেই ক্ষেত্রে অর্থাত্ সিরিয়া প্রসঙ্গে - আপাততঃ দুই পক্ষের মধ্যে সহমত নেই. ব্রিটেন রক্তক্ষয়ের জন্য সিরিয়ার প্রশাসনের সম্পূর্ণ দোষ রয়েছে বলে মনে করেছে.তা স্বত্ত্বেও ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী ইতিবাচক মানসিকতাই দেখিয়েছেন – মস্কো ও লন্ডনের মধ্যে মতবিরোধ পার হওয়া যেতে পারে. তিনি এই প্রসঙ্গে বলেছেন:

“আমাদের আলোচনা থেকে আমি বুঝেছি যে, আমাদের ভিত্তি মূলক বিষয়ে সহমত রয়েছে: আমাদের উচিত্ হবে পরবর্তী সময়ে রক্তক্ষয় বন্ধ করা, সিরিয়াকে খণ্ডিত হতে না দেওয়া, সিরিয়ার লোকদেরই সুযোগ করে দেওয়ার যে কে তাদের শাসন করবে, আর সমস্ত চরমপন্থীদের মোকাবিলা করা – তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেওয়া.আমরা সহমত হয়েছি যে, “বৃহত্ অষ্ট দেশের” উচিত্ হবে লাভরভ ও কেরির উদ্যোগকে সমর্থন করা, যা সিরিয়ার লোকদের শান্তি প্রয়াসের জন্য টেনে আনবে”.

ক্যামেরন জোর দিয়ে বলেছেন: ব্রিটেন যদিও সিরিয়ার বিরোধী পক্ষকে সহায়তার কথা ঘোষণা করেছে ও অস্ত্র সরবরাহের বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়াকে সমর্থন করেছে, তবুও নিজেরা তা দেবে না. প্রধানমন্ত্রী বিশেষ করে উল্লেখ করেছেন যে, যেহেতু আপাততঃ, সিরিয়াতে কোনও বিরোধী পক্ষ নেই, যারা দেশের প্রজাতি ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের অধিকার মেনে চলার বিষয়ে গ্যারান্টি দিতে পারে – তাই এটা করা ঠিক হবে না. আর রাশিয়ার রাষ্ট্রপতিকে সাংবাদিক সম্মেলনে উত্তর দিতে হয়েছে সেই ভাবে করা এক প্রশ্নের, যে, “কেন রাশিয়া স্বৈরতান্ত্রিক শাসক কে অস্ত্র সরবরাহ করছে, যার হাতে লেগে রয়েছে রক্ত”, পুতিন এর উত্তরে বলেছেন:

“আমি মনে করি যে, আপনারা এই বিষয়কে নেতিবাচক বলবেন না যে, রক্ত দুই পক্ষের হাতেই লেগে রয়েছে. আর সব সময়েই প্রশ্নের উদয় হয়, কে এর জন্য দোষী. মনে তো হয় না যে, সেই ধরনের লোকদের সমর্থন করা উচিত, যারা শুধু নিজেদের শত্রুদেরই মেরে ফেলে না, বরং তাদের শরীরের প্রত্যঙ্গ প্রকাশ্যে ক্যামেরার সামনে ছিঁড়ে খায়. আপনারা এই ধরনের লোকদের হাতে অস্ত্র দিতে চাইছেন? কিন্তু তাহলে এটা সম্ভবতঃ, সেই সমস্ত মানবিক মূল্যবোধের সঙ্গে কোন সম্পর্কই রাখে না, যা আজ বহু শতক ধরে ইউরোপে বন্দনা করা হয়েছে. আর যদি কোন রকমের আবেগ বহির্ভূত ভাবে বলা হয়, তবে আমি আপনাদের মনোযোগ আকর্ষণ করব সেই বাস্তবের দিকে, যে, রাশিয়া অস্ত্র সরবরাহ করছে সিরিয়ার আইন সঙ্গত প্রশাসনকে ও তাও করা হয়েছে আন্তর্জাতিক আইনের নিয়ম কানুন সম্পূর্ণ ভাবেই মেনে. আর আমরা আমাদের সমস্ত সহকর্মীদেরই এই নিয়ম মেনেই কাজ করতে আহ্বান করছি”.

এই বৈঠকের পরে পুতিন ও ক্যামেরন সমঝোতায় পৌঁছেছেন যে, “বৃহত্ অষ্ট দেশের” শীর্ষ সম্মেলনের আওতার মধ্যেই সিরিয়া নিয়ে আলোচনা চালু থাকবে.