ইরানে - নতুন রাষ্ট্রপতি এসেছেন. ১৪ই জুনে নির্বাচনে জয়লাভ করেছেন জনগনের কাছ থেকে শতকরা ৫০ ভাগেরও বেশী ভোট পেয়ে হাসান রোহানি.

হাসান রোহানিকে মনে করা হয়ে থাকে একজন লিবারেল ও সংশোধনকারী হিসাবে, যদিও আধুনিক ইরানে এই সব ধারণা গুলি খুবই তুলনামূলক. সমস্ত প্রার্থীদেরই এখনও নির্বাচনের আগে দেশের সর্ব্বোচ্চ ধর্মীয় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কড়া ফিল্টার পার হয়ে আসতে হয়ে থাকে. এখানে ধর্মীয় নেতৃত্ব আগের মতই ক্ষমতার সমস্ত অংশকেই আগলে রেখেছে.

৬৪ বছর বয়সী রোহানি – ইমাম খোমেইনির এক খুবই কাছের জোট সঙ্গী – যিনি ১৯৭৯ সালে শাহ বিরোধী বিপ্লবের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন. শাহের প্রশাসন তাঁকে একাধিকবার কারাদণ্ড দিয়েছিল ও শেষ অবধি তাঁকে দেশ ছেড়ে নির্বাসনেও যেতে হয়েছিল, তবে পরে তিনিই দেশে ফিরে আসতে পেরেছিলেন বিজয়ী হয়ে নিজের ধরম গুরুর সঙ্গে. রোহানি বহু বছর ধরে দেশে জাতীয় নিরাপত্তা সভার সভাপতির পদে ছিলেন ও ইরানের পক্ষ থেকে দেশের পারমানবিক পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনার জন্য প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বও দিয়েছেন.

প্রাক্ নির্বাচনী প্রচারের সময়ে রোহানি জোর দিয়ে বলেছেন যে, তিনি আলোচনার ক্ষেত্রে পরম্পরা মেনে চলার পক্ষপাতী, তৈরী আছেন পশ্চিমের সঙ্গে দেশের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার জন্য আলোচনায় সমঝোতা খুঁজতে আর এই ক্ষেত্রে তিনি “জাতীয় স্বার্থের” কথা ভেবেই কাজ করবেন. ইরানের লোকরা সত্যই এখন এই পশ্চিমের নিষেধাজ্ঞা থেকে খুবই ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন. দেশে মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে শতকরা ৩০ ভাগ ও জাতীয় মুদ্রা রিয়াল শুধু গত বছরেই প্রায় শতকরা ৭০ ভাগ ক্রয় ক্ষমতা হারিয়েছে.

এখানে প্রধান প্রশ্ন হল যে, তাঁকে কতদূর এই সংশোধনের পথে যেতে দেওয়া হবে, অথবা তিনি নিজে কতটা করে উঠতে পারবেন. রাশিয়ার বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের সমস্ত লোকই সংশোধন সমর্থন করেন কিন্তু তাঁরা চান না যে, এর ফলে দেশের “ব্যবস্থাই ধ্বংস” হয়ে যাক.

নিকটপ্রাচ্য ইনস্টিটিউটের বিশ্লেষক সের্গেই সেরেগিচেভ বিশ্বাস করেন যে, ইরানের সংশোধনের সমস্যা রয়েছে এই কারণে যে, তারা ব্যবস্থার কঠোর মোড়কে আবদ্ধ: এই খোলস পাল্টানোর দরকার, আর ইরানে সমস্ত কিছু করা হচ্ছে একটা ওপরের স্তরে মেরামত দিয়েই. সেরেগিচেভ খুবই সন্দেহের চোখে দেখছেন নতুন রাষ্ট্রপতিত্বের সময়ে তেহরানের পক্ষ থেকে একেবারেই সহসা বাঁক নিয়ে পশ্চিমের দিকে ফিরে যাওয়া নিয়ে, অথবা ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে ইরানের দিকে মুখ ফেরানো সম্বন্ধে, তাই তিনি বলেছেন:

“মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিজেরা একা এই রকমের সিদ্ধান্ত নিতে পারে না. আরও রয়েছে তেল- আভিভ, রয়েছে এর- রিয়াদ, আবার দোহাও রয়েছে, যারা খুবই শক্তি প্রয়োগ করেছে এর বিরুদ্ধে, যাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মোটামুটি স্বাভাবিক সহকর্মী সূচক সম্পর্ক কম বেশী রকমের তৈরী হতে না পারে. খুবই জটিল ভূ-রাজনৈতিক খেলা চলছে. ইরান ১৯৭৯ সালের আগে (আয়াতোল্লা খোমেইনি ক্ষমতায় আসার আগে) এই এলাকায় “শেরিফের হেল্পার” ছিল. সেখানে শেরিফের ভূমিকা পালন করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র. এখন সেই সব দেশ, যারা এই “শেরিফের হেল্পার” হতে চায়, অর্থাত্ সেই সৌদী আরব ও কাতার, তারাই বিরুদ্ধে যে, ইরান আবার সেই ভূমিকায় ফিরে আসুক”.

অন্য এক রুশ বিশেষজ্ঞ, আধুনিক ইরান নামের জার্নালের প্রধান সম্পাদক ইগর পানক্রাতেঙ্কো বিশ্বাস করেন যে, তাও পরিবর্তন আসতে চলেছে, কিন্তু তা খুব সম্ভবতঃ হবে সেই ওপর ওপরই, তাই তিনি বলেছেন:

“আমেরিকা বিরোধী কথাবার্তার সুর ভোঁতা হবে. ইরান রাশিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য যথেষ্ট বড় ধরনের প্রস্তাবের তালিকা তৈরী করছে ২০১৪ সালের পরে আফগানিস্তান নিয়ে: আফগানিস্তান নিয়ে কি করা হবে, যখন আমেরিকার সেনাবাহিনী সেই দেশ ছেড়ে চলে যাবে”?

তেহরানে ইরানের মেঝলিসের স্পীকার আলি লারিদ্ঝানি ইতিমধ্যেই ঘোষণা করেছেন যে, ইরানের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জনগন ভোট দেওয়ার সময়েই ঐস্লামিক প্রজাতন্ত্রকে তাঁদের “আস্থা ভোট দিয়ে দিয়েছেন”.