তারার সাথে ৭১ ঘন্টা একাকী বসবাস আর পৃথিবীর কক্ষপথে ৪৮ বার প্রদক্ষিণ হ্যাঁ, ভালেন্তিনা তেরেশকোভার কথা বলছিবিশ্বের প্রথম মহিলা মহাকাশ অভিযাত্রী যার মহাকাশ অভিযানের পঞ্চাশ বছর পূর্তি পালিত হচ্ছে আজ।

১৯৬৩ সালের ১৬ জুন মহাকাশযান “ভস্তক – ৬” তিন দিন ধরে পৃথিবীর চারপাশের কক্ষপথে অবস্থান করেন ভালেন্তিনা তেরেশকোভাআজ থেকে ঠিক পঞ্চাশ বছর পূর্বে মহাকাশ প্রথম মহিলা কন্ঠ শোনে। বিংশ শতাব্দীর মহান নারী তিনি তাকে মহাবিশ্বের নারীও বলা যেতে পারে আর আজকের দিনে মনে হচ্ছে যে, তার স্থালাভিষিক্ত অন্য কেউ হতে পারে না

তাদের সংখ্যা ছিল মোট পাঁচজন যারা ছিলেন উচ্চাকাক্ষী, মহাকাশচারী গ্যাগারীনের অনুসারী সেই মহাকাশ অভিযানের কথা স্মরণ করে ভালেন্তিনা তেরেশকোভা বলেন, 'টানা ৮ দিন একদম নিরব পরিবেশে একা বসে ছিলামবিচ্ছিন্ন একটি কক্ষে ৫ কিলোমিটার উচুঁতে অবস্থান করছিলো ডাক্তাররা পর্যবেক্ষণ করছিলেন যে, মহাকাশচারী নিজেকে কেমন অনুভব করেন তিনি আবার মানসিক বিকারগ্রস্থ হয়ে পড়বেন না তো আমি ওই বিচ্ছিন্ন কক্ষে বসে নেকরাসোভের সব অসাধারণ কবিতা পড়েছিলাম।'

রকেট হয়তবা ভালেন্তিনা তেরেশকোভাকে আরো অনেক দূরে নিয়ে যেতে পারতো যেখান থেকে গ্রহগুলোকে কল্পনা শক্তি দিয়ে অনুভব করা যায়তেরেশকোভা বুঝতে পারলেন যে, তার টিকিট শুধু একপ্রান্তের জন্য তাই দ্রুত পৃথিবীতে খবর পাঠালেন তেরেশকোভা বলছেন, 'পরিস্থিতি ছিল অস্বাভাবিক ভুলটা ছিল যখন রকেটের প্রোগ্রাম চালু করা হয় তখন তা শুধু উড্ডয়নের জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছিল, কিন্তু পৃথিবীতে ফেরত আসার সংকেত ছিলো না আমি প্রথম দিনেই এ সমস্যা সনাক্ত করি এবং সের্গেই নাভলোভিচ কারোলেভুকে জানাই যখন আমি পৃথিবীতে ফিরে আসি তখন তিনি আমাকে বলেছিলেন,গাঙচিল, আমি তোকে অনুরোধ করছি, এই নিয়ে কথা বলার প্রয়োজন নেই। আমিও তাকে কথা দেই। কিন্তু, আমি তা ভঙ্গ করিনি। গোপনীয়তা একদিন ফাঁস হয়ে যায়।'

তেরেশকোভার মহাকাশে যাওয়ার ২০ বছর পরে দ্বিতীয় নারী মহাকাশে যান আশির দশকে সের্গেই কারোলেভ পুনরায় মহাকাশে নারী পাঠানোর পরিকল্পনা করেন সবকিছু বিবেচনা করে শুধুমাত্র একজন নারী সিভেতলানা সাভিছকায়াকে মহকাশে পাঠানোর মধ্যে তা সীমাবদ্ধ রাখেন আর ৯০-এর দশকে কক্ষপথের বাইরে আসনে ইয়েলেনা কান্দাকোভাতালিকায় এর পরেই রয়েছন ইয়েলেনা সেরোভা আগামী ২০১৪ সালে তার মহাকাশে যাওয়ার কথা রয়েছে

আজকের দিনে মহাকাশ মূল্যবোধের একটি উজ্জল নাম হচ্ছে ভালেন্তিনা তেরেশকোভা তিনি এখন মঙ্গল গ্রহে যাত্রার স্বপ্ন দেখছেন এমনকি এখনই তিনি মঙ্গল গ্রহের সাথে সাক্ষাত করতে প্রস্তুত রয়েছেন আর এবার এক প্রান্তের টিকেট হলেও তিনি তাতে রাজি আছেন তেরেশকোভা বলছেন, 'মঙ্গল হচ্ছে আমার সবচেয়ে পচ্ছন্দের গ্রহ অবশ্যই, আমাদের স্বপ্ন হচ্ছে মঙ্গল গ্রহে যাওয়া এবং খুঁজে দেখা যে সেখানে কোন প্রাণের অস্তিত্ব ছিলো কি না কিন্তু মানুষের সীমাবদ্ধতা আমরা সবাই বুঝতে পারি শুরুতেই, মঙ্গল গ্রহের যাত্রা তা একপ্রান্তের জন্য হওয়ার সম্ভাবনা বেশি, কিন্তু আমি তৈরী আছি।'

 তেরেশকোভা এসবের জন্য তৈরী আছেন মহাকাশে কাঁটানো ওই তিনদিনের পর এখন তার জীবণ যেন উড়ানে রুপায়িত হয়েছে স্বপ্নে অথবা বাস্তবে। গাঙচিল তা চিরোকালের জন্য। নিজস্ব একটি নাম।