আসন্ন জি-৮ সম্মেলনে সিরিয়ার পরিস্থিতি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করবে। যদি নির্দিষ্ট কর্মসূচিতে সিরিয়া সংকট নিয়ে আলোচনা না হয় তবে সম্মেলনের বিভিন্ন অধিবেশনে ঘুরেফিরে এ প্রসঙ্গ চলে আসবে। উত্তর আয়ারল্যান্ডের পর্যটন এলাকা লোখ-এর্নে আগামী ১৭-১৮ জুন এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।

রুশ রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, উত্তর আয়ারল্যান্ডে রাশিয়া যেসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করার পরিকল্পনা করছে সেগুলো হচ্ছে সিরিয়া, মধ্যপ্রাচ্য, উত্তর আফ্রিকা ও আফগানিস্তান পরিস্থিতি। জি-৮ সম্মেলন নিয়ে রাশিয়ার রিয়া নোভাসতিকে দেয়া পুতিনের এক সাক্ষাতকারে এ সংবাদ পাওয়া যায়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সিরিয়ার বিদ্রোহীদের অস্ত্র সরবরাহ করার ঘোষণা দেয়ার আরো অনেক আগে রুশ রাষ্ট্রপতি ওই সাক্ষাতকার দিয়েছিলেন। ঘটনাবলীর এই নাটকীয় পরিবর্তন সমস্যাবলী নিয়ে আলোচনাকে আরো জটিল করে তুলতে পারে।

সিরিয়ার রাষ্ট্রপতি বাশার আসাদের সমর্থনপুষ্ট সেনাবাহিনী রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করছে তার প্রমাণ দিতে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে যুক্তরাষ্ট্র। কাউকে হয়তবা সন্তুষ্ট করতে পেরেছে আবার কাউকে হয়তবা না। রুশ রাষ্ট্রপতির ব্যক্তিগত সহকারী ইউরি উশাকোভ মার্কিন প্রতিনিধিদের সাথে সাক্ষাত অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা নিশ্চিত করেছেন এবং সিরিয়ার আর্মিদের রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের প্রমাণ ছিলো বলে তথ্য দিয়েছে। তবে উশাকোভ জানিয়েছেন যে, এই তথ্য মস্কোকে সন্তুষ্ট করতে পারেনি। তিনি আরো বলেন, এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ইরাকে গণবিধ্বংসি অস্ত্র মজুদ রয়েছে জানিয়ে মিথ্যা তথ্য দিয়ে যুদ্ধ শুরু করেছিল এবং সেই চিত্রের পুনরাবৃত্তি ঘটাতে চাচ্ছে। যা ছড়িয়ে ছিলেন ২০০৩ সালে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অধিবেশনে যুক্তরাষ্ট্রের সেই সময়ের পররাষ্ট্রমন্ত্রী কোলিন পাউল। উশাকোভ আরো বলেন, 'কোলিন পাউলের উদাহরণ এখানে টেনে আমি এখন চাইছি না। কিন্তু, যে ঘটনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে তাতে সন্তুষ্ট হওয়ার মতো কিছু নেই। আমি সরাসরি বলতে চাইছি যে, মার্কিনীদের এই প্রস্তাব আমাদের জন্য কোন আগ্রহ সৃষ্টি করতে পারেনি।'

উল্লেখ্য, ২০১২ সালের মে মাসে রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরুর পর জি-৮ ভুক্ত দেশগুলোর নেতাদের সাথে এটিই হবে পুতিনের প্রথম সাক্ষাত। আসন্ন সম্মেলন দুটি কারণে রাশিয়ার জন্য বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। প্রথমতঃ বর্তমান জি-২০ সংস্থার সভাপতিত্ব থাকার পর এবার রাশিয়া ১০১৪ সালের জন্য জি-৮ এর সভাপতিত্ব পেতে যাচ্ছে। এর তা মস্কোর জন্য বাড়তি দায়িত্বপূর্ণ মর্যাদা বলে মনে করেন ভ্লাদিমির পুতিন।

রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি মনে করেন, জি-৮ এর অপরিসীম গুরুত্ব রয়েছে এবং রাশিয়ার অংশগ্রহণের কল্যাণে এতে অনেক অবদান রয়েছে। পুতিন বলেন, 'শুধমাত্র আমাদের কারণেই উন্নতদেশগুলোর কথাই নয় বরং দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির দেশ যারা বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছে তাদের কথাও শোনা হচ্ছে।'

রাশিয়ার জি-৮ এর সভাপতিত্ব পদ পাওয়ার সুনির্দিষ্ট বিষয় নিয়ে এখনো কাজ চলছে। তবে সেই দায়িত্বের প্রধান লক্ষ্য হবে, নিরাপত্তার নতুন হুমকির বিরুদ্ধে সমুচিত উত্তর দেয়া। বর্তমান বিশ্বের পরিস্থিতি বিবেচনা করলে জলন্ত সিরিয়া, অর্ধ ভগ্ন লিবিয়া, আফগানিস্তান ও ইরাক পরিস্থিতি আলোচনার জন্য অনেক বেশি গুরুত্ব বহন করছে।