উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে চলছে রাজশাহী, খুলনা, সিলেট এবং বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। শনিবার সকাল ৮টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। বিকেল ৪টা পর্যন্ত একটানা এটি চলবে।

বরিশাল, খুলনা, রাজশাহী এবং সিলেট—এই চার সিটিতেই শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিচ্ছেন ভোটাররা। সকালে উপস্থিতি কিছুটা কম থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটার সংখ্যা বাড়তে থাকে। নিছিদ্র নিরাপত্তায় ভোটাররা তাদের ভোট প্রয়োগ করছেন।

চার শহরের মেয়র হতে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন মোট ১২ জন প্রার্থী। তবে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীদের মধ্যেই মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে মনে করছেন ভোটাররা।

ভোটগ্রহণের জন্য চার সিটিতে এবার ১২ হাজার ৮০ জন কর্মকর্তাকে নিবিড় প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে ৬৫৩ জন প্রিসাইডিং কর্মকর্তা, ৩ হাজার ৮০৯ জন সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা এবং ৭ হাজার ৬১৮ জন ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা (পোলিং অফিসার)।

এছাড়া নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে ইতিমধ্যেই চার সিটিতে ভ্রাম্যমাণ ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে পুলিশ, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন, র্যা ব, কোস্টগার্ড, ব্যাটালিয়ন আনসার এবং বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। সব মিলিয়ে চার সিটিতে ১১৮টি ভ্রাম্যমাণ ও ৪০টি স্ট্রাইকিং ফোর্স নিয়োজিত রয়েছে। একইসঙ্গে ২১ প্লাটুন বিজিবি এবং আলাদাভাবে খুলনা ও বরিশালে পাঁচ প্লাটুন কোস্টগার্ড নিয়োগ করা হয়েছে। আজ ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পরও আরো দুই দিন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নির্বাচনি এলাকায় অবস্থান করবে।

চার মহানগরীর সাড়ে ১২ লাখের বেশি ভোটার তাদের পছন্দের মেয়র ও কাউন্সিলর বেছে নিতে ভোট দিচ্ছেন। ভোট দেয়ার সুবিধার্থে চার সিটিতেই সরকারি ছুটি রয়েছে।

বিকেল ৪টায় ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর গণনার কাজ শুরু হবে। এরপর পুলিশ কমিউনিটি হলে স্থাপিত নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে ফলাফল ঘোষণা করা হবে।

গত ২৯ এপ্রিল রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল এবং সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন।

ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, এ চারটি সিটি করপোরেশনে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন ১২ মে, মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই ১৫ ও ১৬ মে এবং মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন ছিল ২৬ মে।

এর আগে ২০০৮ সালের ৪ আগস্ট সর্বশেষ এই চার সিটি করপোরেশনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।