ভারতে এই দিন গুলিতে গাঙচিল উত্সব নামে পালিত হচ্ছে বিশ্বের প্রথম মহিলা মহাকাশ অভিযাত্রী ভালেন্তিনা তেরেশকোভার মহাকাশ অভিযানের পঞ্চাশ বছর. তা শুরু হয়েছে ভালেন্তিনা তেরেশকোভার জন্মদিনে ৬ই মার্চ তারিখে ও শেষ হবে ১৬ই জুন, - খবর দিয়েছেন ত্রিবান্দ্রম শহরের রুশ বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি কেন্দ্রের ডিরেক্টর ও সেখানে রাশিয়ার অবৈতনিক কনস্যুল রতীশ নায়ার. ১৯৬৩ সালে মহাকাশযান “ভস্তক – ৬” তিন দিন ধরে পৃথিবীর চারপাশের কক্ষপথে ভালেন্তিনা তেরেশকোভাকে নিয়ে পাক দেওয়ার পরে তিনি পৃথিবীতে ফিরে এসে নানা দেশে যাওয়ার সময়ে ভারতেও গিয়েছিলেন, তারপরেও বহুবার তেরেশকোভা ভারতে এসেছেন. এই সব মনে রাখার মতো ঘটনা, তাঁর জওহরলাল নেহরুর সঙ্গে তাঁর সাক্ষাত্কার, ভারতীয় জনতার সঙ্গে দেখা হওয়া, তাঁর মহাকাশ যাত্রার প্রস্তুতি পর্বের ফোটো, তথ্য চিত্র সব কিছুই একটি প্রদর্শনী করে রাখা হয়েছে দিল্লী, মুম্বাই, কলকাতা ও দক্ষিণ ভারতের শহর গুলিতে. মহাকাশে তেরেশকোভার ডাকনাম ছিল চাইকা বা গাঙচিল, তাই তাঁকে নিয়ে উত্সবের নামও দেওয়া হয়েছে এই নামে. ত্রিবান্দ্রম শহরে “চাইকা” বা গাঙচিল নামের এই উত্সব অনেক ঘটনায় সমৃদ্ধ হয়েছে বলে উল্লেখ করে রতীশ নায়ার বলেছেন:

“আমাদের একটি প্রতিযোগিতা হয়েছে মহাকাশ যাত্রার ইতিহাস নিয়ে. তাতে অংশ নিয়েছে শহরের নানা ১১- ১২ ক্লাসের স্কুল ছাত্রছাত্রীরা. মানব সমাজের কল্যাণে মহাকাশ নামের সেমিনারে যোগ দিয়েছেন কেরালার বিজ্ঞান, সংস্কৃতি সমাজের প্রতিনিধিরা. এখানে প্রধান অতিথি ছিলেন শহরের মেয়র. অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে – ব্যবসায়ী মহলের প্রতিনিধিরা, রুশ- ভারত যৌথ প্রকল্পের প্রতিনিধিরা. আর বহু সংখ্যক প্রতিযোগিতা ও সঙ্গীতানুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন কিশোর- কিশোরী ও শিশুরা. বিশ্বের প্রথম মহিলা মহাকাশ অভিযাত্রীকে নিয়ে তাদের আঁকা ছবি, নৃত্যানুষ্ঠান বলে দেয় যে, যুব সমাজ মহাকাশে নতুন উড়ান নিয়ে স্বপ্ন দেখে ও তাদের চেনে, যারা সেই দিকে প্রথম পথ দেখিয়েছিল”.

ভারতে এই উত্সবের এক সংজ্ঞাবহ ঘটনা হয়েছে বিশ্বের প্রথম মহিলা মহাকাশ অভিযাত্রীর উদ্দেশ্য একটি বিশেষ ডাক টিকিটের প্রকাশ, যা ত্রিবান্দ্রম শহরের রুশ সংস্কৃতি ও বিজ্ঞান কেন্দ্রের অনুরোধে ভারতের ডাক বিভাগ থেকে প্রকাশ করা হয়েছে. এই কেন্দ্রে ডাকটিকিট প্রকাশের অনুষ্ঠানে ছিলেন অসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রী কে সি ভেনুগোপাল. আর তা দিয়েছেন পি. রাধাকৃষ্ণনকে. এই প্রসঙ্গে রতীশ নায়ার বলেছেন:

“স্থানীয় সংবাদপত্রে এই উত্সব নিয়ে মলয়ালম ও ইংরাজী ভাষায় খবর দিয়েছে, টেলিভিশনেও দেখানো হয়েছে. ভারতে এই দিন গুলিতে নিজেদের মহাকাশ বিজ্ঞানে সোভিয়েত দেশের সহায়তার কথা আবারও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করা হয়েছে, ১৯৭৫ সালে ভারতের প্রথম উপগ্রহ আযর্ভট্ট, প্রথম মহাকাশ যাত্রী রাকেশ শর্মার ১৯৮৪ সালে সইউজ টি -১১ চড়ে মহাকাশ যাত্রা মনে করা হয়েছে. ভারতের যুব সমাজ মহাকাশে রুশ- ভারত সহযোগিতা চলতে থাকাকে স্বাগত জানিয়েছে, তার মধ্যে অন্যান্য গ্রহে উড়ানের প্রস্তুতিও রয়েছে”.

ভালেন্তিনা তেরেশকোভার উড়ানের পঞ্চাশ বছর উপলক্ষে দিল্লীতে একটি ফার্স্ট ডে কভার প্রকাশ করা হয়েছে – এটা স্ট্যাম্প সংগ্রহ যাঁরা করেন তাদের জন্য ভাল উপহার. রুশ ফিলাটেলিস্ট লোকরাও তাদের ভারতীয় বন্ধুদের কাছে এই স্ট্যাম্প চেয়ে পাঠিয়েছেন.