রুশ- ভারত বিজ্ঞান – প্রযুক্তি কেন্দ্রের প্রতিনিধিদল এই দিন গুলিতে বাঙ্গালোরে এক গুচ্ছ উদ্ভাবনী প্রযুক্তির আবিষ্কার বাঙ্গালোরে পরীক্ষা করে দেখাতে নিয়ে গিয়েছেন, এই গুলি রুশ বিজ্ঞানীদের তৈরী. আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ হল ভারতের নেতৃস্থানীয় তথ্য প্রযুক্তি কেন্দ্র বাঙ্গালোরেই আমাদের দেশের এই আবিষ্কার গুলির উপরে মনোযোগ দেওয়ানো, বলেছেন প্রতিনিধি দলের নেত্রী ল্যুদমিলা কর্নাউখভা. বাঙ্গালোরের ব্যবসায়ী মহলও রুশ প্রকল্প গুলির প্রতি আগ্রহ দেখিয়েছে. বৈদ্যুতিন উত্পাদনের জিনিষ গুলি নির্মাণ ও তার পরীক্ষা নিয়ে রুশী স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা ভারতে ব্যবহারের কথা ভাবা হচ্ছে. তাই কর্নাউখভা ব্যাখ্যা করে বলেছেন:

“আমরা বাঙ্গালোরের “ডেক্সেল” কোম্পানীকে এই ব্যবস্থা দেখিয়েছি, যারা বৈদ্যুতিন যন্ত্রপাতি তৈরীর বিষয়ে বিশেষ পারদর্শী. এই কোম্পানীর বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়ণ অনুযায়ী এই ব্যবস্থা তাদের জন্য মূল্যবান কারণ এটা শুধু নির্দিষ্ট ধরনের বৈদ্যুতিন জিনিষই উত্পাদনে সহায়তা করে না, বরং এর সাহায্যে এই ধরনের জিনিষের নতুন প্রতিরূপ বা মডেল তৈরী করা যেতে পারে. ভারতের সহকর্মীরা আবার সেই বিষয়েও খেয়াল করেছেন যে, মস্কোর ক্যালস টেকনোলজিস লিমিটেড কোম্পানীর তৈরী এই ব্যবস্থা যা বৈদ্যুতিন জিনিষের নির্মাণ ও পরীক্ষার বিষয়ে ব্যবহার করা যেতে পারে, তা বহু রাশিয়ার কোম্পানীই এখন ব্যবহার করছে, তার মধ্যে বিমান নির্মাণ ও মহাকাশ প্রযুক্তি নির্মাণের কোম্পানীরাও রয়েছে. এই ব্যবস্থা এবারে বাঙ্গালোরে পরীক্ষা করে দেখা হবে. এই নিয়ে আবার ভারতের রাজধানী দিল্লীর নয়ডা এলাকার মেখার্টেস রিসার্চার কোম্পানীও আগ্রহ দেখিয়েছে”.

মস্কোর রুশ – ভারত বিজ্ঞান – প্রযুক্তি কেন্দ্রের আবার ভারতে এক ভ্রাতৃপ্রতিম সংস্থাও রয়েছে, এটা দিল্লীর ভারত- রাশিয়া বিজ্ঞান প্রযুক্তি কেন্দ্র. ২০১১ সালে দুটি তৈরী হওয়া কেন্দ্রই দুই দেশের মধ্যে প্রযুক্তি বিনিময় ও তা এগিয়ে দেওয়া নিয়ে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে. এই দিকেই লক্ষ্য করে দিল্লী শহরে রাশিয়া ভারত উদ্ভাবনী প্রযুক্তি নিয়ে এক গোল টেবিল বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছিল. তার ফলশ্রুতি হিসাবেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে ভারত থেকে বেশ কিছু সর্বাধুনিক প্রোগ্রাম কিছু রুশ কোম্পানীতে ব্যবহারের. এই কাজ চলছে. আর ভারতের পক্ষ থেকে আগ্রহ প্রকাশ করা হয়েছে সাইবেরিয়ার কোম্পানীর তৈরী জলের পরিশ্রুত করার প্রযুক্তি ও অত্যন্ত নোংরা জলকে পানের উপযুক্ত করার প্রযুক্তির দিকে. এখন কথা চলছে ভারতে রুশ দেশে তৈরী ক্যান্সার নিরোধক ওষুধের পরীক্ষা করা নিয়ে ও এই রোগের প্রাথমিক উপস্থিতি নির্ণয়ের জন্য যন্ত্রপাতি নিয়ে.

আর এই দিন গুলিতে, বাঙ্গালোরে মস্কোর রুশ – ভারত বিজ্ঞান – প্রযুক্তি কেন্দ্রের প্রতিনিধি দল বেশ কয়েকটি শীর্ষ স্থানীয় উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব ও ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে দেখা করেছে, তই ল্যুদমিলা কর্নাউখভা বলেছেন:

“এই সব সাক্ষাত্কার হয়েছে রমাইয়া ইনস্টিটিউট অফ অ্যাডভান্সড স্টাডিজ ও ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ সাইন্সেজ প্রতিষ্ঠানে. প্রফেসর শালুমভ, যিনি এই স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা সৃষ্টি করেছেন ও যা ডেক্সেল কোম্পানী পরীক্ষা করে দেখবে, তা নিয়ে তিনি ছাত্র ও অন্যান্য আগ্রহী ব্যক্তিদের প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন, যারা এটি ও অন্যান্য রাশিয়ায় তৈরী প্রযুক্তির ব্যাপারে উত্সাহ দেখিয়েছেন. জৈব ও তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ে রুশ সহকর্মীদের সঙ্গে সম্মিলিত ভাবে কাজ করার জন্য এই সব কোম্পানী ও প্রতিষ্ঠান থেকে অল্প বয়সী গবেষকদের আহ্বান করার জন্য আলোচনা করা হবে”.

রাশিয়া ও ভারতে উত্পাদন শুরু করার বিষয়ে নির্দিষ্ট পদক্ষেপ, আর তারই মধ্যে সম্মিলিত ভাবে নেওয়া নিয়ে আলোচনা অক্টোবর মাসে হায়দ্রাবাদ শহরে দুই দেশের ব্যবসায়ী ও বিজ্ঞানীদের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সাক্ষাত্কারের সময়ে আলোচনা করা হবে.