মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সিরিয়ার যোদ্ধাদের অস্ত্র সরবরাহ শুরু করছে. রাষ্ট্রপতির জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত সহকারীর ডেপুটি বেন রোডস যেমন ঘোষণা করেছেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি বারাক ওবামা এই ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বাশার আসাদের প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিরোধীদের উপরে রাসায়নিক অস্ত্র প্রয়োগ করার উত্তরে. আসাদের সামরিক বাহিনী এই বছরের মার্চ মাসে জারিন গ্যাস ব্যবহার করেছেন, তার প্রমাণ নাকি সিআইএ সংস্থার প্রতিনিধিরা পেশ করেছে.

হোয়াইট হাউসের ঘোষণাতে বলা হয়েছে যে, এই প্রমাণ যোগাড় করা হয়েছে জঙ্গী যোদ্ধাদের ঘোষণা ও বিশ্লেষণ থেকে. ওয়াশিংটন অবশ্য স্বীকার করেছে যে, “প্রত্যেক ইতিবাচক ফলাফল (বিশ্লেষণের) নির্দেশ করে সেই বিষয়ে, যে, এখানে লোকে জারিন গ্যাসের থেকে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তবে কোন ধারণা দেয় না যে, কবে ও কোথায় অথবা কে বা কারা এই গ্যাসে প্রয়োগের জন্য দায়ী”.

রোডস যেমন ঘোষণা করেছেন যে, সিআইএ সংস্থার যোগাড় করা প্রমাণ ইতিমধ্যেই রাশিয়াকে দেওয়া হয়েছে ও এই বিষয় নিয়ে আয়ারল্যান্ডে ১৭-১৮ই জুন বৃহত্ অষ্ট দেশের শীর্ষ সম্মেলনে আলোচনা করা হবে.

জারিন গ্যাস সম্ভাব্য ব্যবহার নিয়ে ঘটনা হয়েছিল মার্চ মাসে. বিরোধী পক্ষ বাশার আসাদের সেনা বাহিনীকে অভিযোগ করেছে রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার নিয়ে. আর মে মাসের শেষে তুরস্কের গুপ্তচর বাহিনী সিরিয়া সীমান্তের কাছে ১২ জন জঙ্গীকে গ্রেপ্তার করেছিল আর তাদের কাছে জারিন গ্যাস সহ কন্টেনার পাওয়া গিয়েছিল.

রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রী সের্গেই লাভরভ প্রথম ব্যক্তিদের একজন, যিনি দাবী করেছিলেন এই সমস্ত তথ্য নিয়ে রাষ্ট্রসঙ্ঘের তরফ থেকে খুঁটিয়ে ও স্বাধীন ভাবে তদন্ত করার. পরে তিনি মন্তব্য করেছিলেন যে, এই ধরনের তদন্ত বাস্তবে বিরোধীদের পশ্চিমের সহযোগীদের দ্বারা বানচাল হয়েছিল. এই বছরের ৩১শে মে মস্কো শহরে এই প্রসঙ্গে সের্গেই লাভরভ তখন বলেছিলেন:

“আমরা একাধিকবার সাবধান করে দিয়েছি যে, এই বিষয়ের চারপাশে নানা রকমের প্ররোচনা থাকতে পারে, তাই আমরা দাবী করেছিলাম রাসায়নিক বিষক্রিয়াতে সক্ষম যে কোন রকমের জিনিষের ব্যবহারের বিষয়ে খুঁটিয়ে তদন্ত করার ও তখন সিরিয়ার প্রশাসনের পক্ষ থেকে করা অনুরোধকেও সমর্থন করেছিলাম, যেখানে তাঁরা বলেছিলেন আলেপ্পো শহরের কাছে এই ঘটনার তদন্তের জন্য একদল বিশেষজ্ঞ পাঠাতে. আমরা খুবই নিরাশ হয়েছি সেই কারণে যে, রাষ্ট্রসঙ্ঘের সচিবালয়ের রাজনৈতিক খেলার কারণে রাষ্ট্রসঙ্ঘ থেকে নির্দিষ্ট করে ও দ্রুত এই অনুরোধ মানা সম্ভবপর হয় নি, আর তারা আমাদের ধারণা অনুযায়ী কোন ভিত্তি ছাড়াই এমন সব শর্ত তুলেছিল, যার কারণে “সদ্য হয়ে যাওয়া ঘটনার সঙ্গে সঙ্গেই” কোন রকমের তদন্ত করা যায় নি”.

লাভরভ মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, রাষ্ট্রসঙ্ঘের উদ্যোগে গঠিত সিরিয়াতে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে তদন্তকারীদের পরিষদের সদস্যা কার্লা ডেল পন্টে একাধিকবার তাঁর কাছে খবর আছে বলে সাবধান করে দিয়েছিলেন যে, সশস্ত্র বিরোধী পক্ষের লোকরাই সিরিয়াতে রাসায়নিক বিষাক্ত পদার্থ ব্যবহার করছে.

একবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র গণহত্যার অস্ত্র থাকা নিয়ে চাপানো তথ্য ব্যবহার করে ইরাকে অনুপ্রবেশ করেছিল. ২০০৩ সালে তখনকার মার্কিন পররাষ্ট্র সচিব কলিন পাওয়েল এমনকি রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদে একটি টেস্ট টিউবে কিছু একটা সাদা গুঁড়ো দেখিয়ে বলেছিলেন এটা নাকি সিআইএ সংস্থার লোকরা ইরাকে পেয়েছে আর এটা রাসায়নিক অস্ত্র. ২০১১ সালে লন্ডনের দ্য গার্ডিয়ান পত্রিকাকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে কলিন পাওয়েল নিজেই স্বীকার করেছিলেন যে, এটা মিথ্যা প্রমাণ ছিল ও সিআইএ ও পেন্টাগন বেঠিক তথ্য দিয়েছিল.

অস্ত্র সরবরাহ নিয়ে যা বলা যেতে পারে, তা হল যে, প্রধান পরিমান পৌঁছবে সিরিয়ার বিরোধী সর্ব্বোচ্চ সামরিক সভার আয়ত্বের মধ্যে ও তাদের প্রধান – জেনারেল সলিম ইদ্রিস, তার ব্যবহার করবে – এই কথা স্বীকার করে বেন রোডস বলেছেন:

“বর্তমানে আমরা আমাদের মনোযোগ দিয়েছি বিরোধী সর্ব্বোচ্চ সামরিক সভাকে মজবুত করার জন্য ও আমাদের জোট সঙ্গী ও সহকর্মীদের পক্ষ থেকে সহায়তার বিষয়ে যোগাযোগের মাধ্যমে তাদের সাহায্যের বিষয়ে. আসাদের প্রশাসনের বোঝা উচিত্ যে, আমরা গুণগত ভাবে ও পরিমান অনুযায়ী এই সহায়তা বাড়াতে থাকবো, তার মধ্যে বিরোধী পক্ষের সামরিক বাহিনীকে সরাসরি সহায়তা দেওয়া থাকবে”.

রোডস নির্দিষ্ট করে বলেন নি, কোন ধরনের অস্ত্র সিরিয়ার জঙ্গীদের কাছে পৌঁছবে ও কবে থেকে এটা হবে. কিন্তু আমেরিকার সংবাদপত্রে লেখা হচ্ছে যে, কথা হয়েছে স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রের, যুদ্ধ সরঞ্জামের ও ট্যাঙ্ক বিরোধী অস্ত্রের. খুব সম্ভবতঃ, সরবরাহ ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে. আফগানিস্তানে ও ইরাকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বিপুল সংখ্যক অস্ত্র সঞ্চিত করা হয়েছে. আপাততঃ সিরিয়ার উপর দিয়ে বিমান চলাচল বন্ধ করার কথা হচ্ছে না. ঠিক তেমনই বলা হচ্ছে না বিরোধী পক্ষকে বিমান বিরোধী রকেট সরবরাহ নিয়েও নির্দিষ্ট কিছু. কিন্তু রোডস ইঙ্গিত করেছেন যে, মার্কিন রাষ্ট্রপতি উত্তর আয়ারল্যান্ডে শীর্ষ বৈঠকের আলোচনার পরে নতুন করে সিদ্ধান্তও নিতে পারেন.