রাশিয়ার বৈদ্যুতিন প্রযুক্তি সারা বিশ্বেই বহুল ব্যবহৃত হচ্ছে.তার মধ্যে প্রশাসনিক কাঠামোও রয়েছে, এমনকি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গুপ্তচর বিভাগও রয়েছে. কানাডার সামাজিক সংস্থা নাগরিক ল্যাবরেটরী ও লন্ডনের আন্তর্জাতিক সংস্থা প্রাইভেসী ইন্টারন্যাশনাল বুঝে নিয়েছে যে, কম করে হলেও পাঁচটি রুশ কোম্পানী রয়েছে, যাদের প্রযুক্তি বহু দেশেই ব্যবহার করা হচ্ছে.

সেন্ট পিটার্সবার্গে রয়েছে বিশ্বের নেতৃস্থানীয় সংস্থা, যারা মানুষের গলার স্বর চিনে ফেলার যন্ত্র তৈরী করে. ১৯৯০ সালে এই “বাক প্রযুক্তি কেন্দ্র” নামের কোম্পানী খোলা হয়েছিল. নিউইয়র্কে তারা এখন স্পীচপ্রো নামে কাজ করছে. তাদের বিশেষজ্ঞরা এমন প্রোগ্রাম তৈরী করেছেন, যা পাঁচ সেকেন্ডের মধ্যে ১০০০০ গলার স্বরের নমুনা পরীক্ষা করে কোন লোককে চিনে ফেলতে পারে. তার ওপরে এই যন্ত্র ভুল করতে পারে প্রতি দশে একটি. ২০১০ সালে মেক্সিকোতে এই কোম্পানী সারা দেশ জোড়া গলার স্বর চিনতে পারার ব্যবস্থা লাগিয়েছে. তার ডাটা ব্যাঙ্কে শুধু অপরাধী ও শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর লোকদের গলার আওয়াজই রেকর্ড করে রাখা হয় নি, বরং দেশের আইন মেনে চলা লোকদের গলার আওয়াজও রাখা হয়েছে. কিছু প্রদেশে এমনকি ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার জন্যেও গলার স্বরের নমুনা জমা দেওয়া শুরু হয়েছে. আর ২০১২ সালে এই কোম্পানী ইকোয়েডর দেশে কাজ শুরু করেছে, সেখানে তারা “বিশ্বে প্রথম বায়োমেট্রিক পদ্ধতি ব্যবহার করে মানুষ চেনার ব্যবস্থা করেছে”, যা গলার স্বর ও মুখ দেখে মানুষ চেনার সম্ভাবনাকে একত্রিত করেছে.

রাশিয়ার আইটি কোম্পানী গুলির মধ্যে অনেক গুলি আছে, যেগুলি বিশ্বে স্বীকৃতী পেয়েছে. যেমন “কাস্পেরস্কি ল্যাবরেটরী”. তাদের প্রযুক্তি এখন বিশ্বের বহু দেশেই তথ্য নিরাপত্তার কাজে ব্যবহার করা হয়ে থাকে.

কানাডায় কাজ করছে রাশিয়ার “এমএফই সফ্ট” কোম্পানীর শাখা, যা ALOE Systems নামে লোকে চেনে. কোম্পানী সেখানে নিজেদের NetBeholder ব্যবস্থা বিক্রী করে, যা দিয়ে ইন্টারনেটে পাইরেসী নজরে রাখা যায়. এই প্রোগ্রাম কাফে, রেস্তোরাঁ, হোটেল ও অন্যান্য সামাজিক ব্যবহার্য এলাকায় ইন্টারনেট ট্র্যাফিক ধরে ফেলতে পারে, তা রেকর্ড করে তথ্য জমা করতে পারে.

সাইট তৈরীর জন্য “স্ট্রাটেগ” নামে রুশ কোম্পানীর জেনারেল ডিরেক্টর ইকাতেরিনা আকসিওনোভা বলেছেন:

“বাস্তবে এটা কোনও আলাদা হওয়া ব্যাপার বা হঠাত্ করে এগিয়ে যাওয়ার মতো ব্যাপার নয়. রাশিয়া অনেক দেশের মধ্যে একটি, যারা এক সময়ে খুবই শক্তিশালী গণিত বিদ্যার শাখা খুলতে পেরেছি আর এখনও তা টিকিয়ে রাখার ক্ষমতা রাখে. সব কিছুই যা এখন আইটি ক্ষেত্রে ঘটছে, সেই গুলি যা আমাদের উত্তেজিত করে তুলছ, যেমন সেই ধরনের প্রযুক্তি BigData, ছবি চেনার ক্ষমতা, হাতের লেখা চেনার ক্ষমতা, নানা রকমের ক্রিপটোগ্র্যাফি ইত্যাদি - সবই তৈরী হচ্ছে বড় আর গুরুত্বপূর্ণ অঙ্কের নিয়মে. যেহেতু তা আমাদের কাছে আছে, তাই আমাদের পক্ষে ফলিত প্রযুক্তি খুবই উচ্চ মানের বানানোর সামর্থও রয়েছে”.

রাশিয়ার এক কোম্পানী Discovery Telecom Technologies (DTT) মোবাইল ফোনের কথায় আড়ি পাতার প্রযুক্তি তৈরী করে. তা মস্কোতে সদর দপ্তর খুলে রেখেছে, কিন্তু বর্তমানে তাদের অফিস রয়েছে সুইজারল্যান্ডে ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সল্টলেক সিটি তে.

আর নিউইয়র্কে রাশিয়ার প্রযুক্তি সেখানের বাসিন্দাদের টেলিফোনে শহরের বাসের চলাফেরা লক্ষ্য করার সুবিধা করে দিয়েছে. এই প্রোগ্রাম তৈরী করেছে রাশিয়ার কোম্পানী দারোগা.টিভি, তারা জিপিএস ব্যবস্থা দিয়ে কোথা দিয়ে যাওয়া দরকার, তা ঠিক করে দেয়, রাস্তায় জ্যাম ও অন্যান্য সমস্যা খেয়াল করে, যাতে লোকে তাদের বিমান ধরতে গিয়ে দেরী না করেন.