রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিন ২০১৪- ১৬ সালের বাজেট বার্তা পেশ করেছেন. দেশের আয় ব্যয়ের ক্ষেত্রে প্রাথমিক নীতি একই থাকছে – এটার মধ্যে সব থেকে আগে সামাজিক বাধ্যতা মূলক কাজকর্ম নিঃশর্তে করা. এই লক্ষ্যে পৌঁছনোর জন্য উপায় শুধু পাল্টাবে.

রাশিয়ার প্রধান আবারও বলেছেন যে, শিক্ষা, বিজ্ঞান, পরিকাঠামো, সামাজিক ক্ষেত্র ও ব্যবসায়ে উদ্যোগ প্রশ্রয় দেওয়ার জন্য খরচের অংশ বাড়া এখনও চলতে থাকবে. কিন্তু শুধু খরচ বাড়িয়ে যাওয়া এখন আর সম্ভব নয় – বিশ্বের অর্থ ব্যবস্থা এখন দাবী করে খরচের বাড়ার সঙ্গে অর্থনৈতিক উন্নতি ও বাজেট আয় আবশ্যিক ভাবে যোগ করার. একই সঙ্গে রাষ্ট্রপতি আহ্বান করেছেন দেশের জন্য প্রাথমিক কর্তব্য বিষয়ে স্থির করার. ভ্লাদিমির পুতিন আরও একবার রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনা গুলিকে বিশ্লেষণ করে তাদের এমন ভাবে সংশোধনের কথা বলেছেন যাতে তাদের লক্ষ্য প্রশাসনের ক্ষমতার সঙ্গে ভারসাম্য রেখে হয়. যেমন, দেশের সামরিক বাহিনীকে আধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত করার বিষয়ে বিশাল রকমের রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনা তার সময় সীমার বিষয়ে সংশোধন করা যেতে পারে. আর যা নিয়ে দেরী করা সম্ভব নয়, তা হল দেশের পেনশন ব্যবস্থার সংশোধন. এই কাজের ফলে পেনশনের পরিমান ব্যক্তির কর্ম জীবনের মেয়াদ ও আয়ের সঙ্গে যুক্ত হওয়া দরকার, তাই ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন:

“আমরা দেশের জনগনকে অধিকার দিয়েছি এই বছরের মধ্যে নিজের থেকেই ঠিক করা যে, কোথায় তারা নিজেদের বীমার শতকরা ৪ শতাংশ অর্থ পাঠাবেন – পেনশন ব্যবস্থার ভাগ করে দেওয়ার, নাকি জমা করে রাখার ব্যবস্থায়. এটাও ঠিক হবে না যে, যারা পরে এই পেনশন বীমা ব্যবস্থায় প্রবেশ করবেন, তাদের এই বীমা ব্যবস্থার অধিকার না দেওয়া. আমরা মনে করি যে, এই ধরনের অধিকার থাকা উচিত্”.

পেনশন ব্যবস্থা উপরে একেবারেই বিশেষ আশা রাখা হয়েছে. সংশোধনের ফলে তা যেন বাজেটের জন্য একটা ভার না হয়ে, বরং দেশের অর্থনীতিকে দীর্ঘ দিনের জন্য বিনিয়োগ দিয়েই সহায়তা করে, এই প্রসঙ্গে পুতিন বলেছেন:

“আমাদের অর্থনৈতিক বৃদ্ধি বিকাশের জন্য বাড়তি ব্যবস্থা নিতে হবে. তার মধ্যে পরিকাঠামো উন্নতির মাধ্যমেও বৃদ্ধি রয়েছে. এখানে কথা হচ্ছে যে, নিজের থেকেই যা খরচ তুলে নেবে সেই ধরনের পরিকাঠামো মূলক প্রকল্পের জন্য জাতীয় সমৃদ্ধি তহবিল ও পেনশন তহবিল থেকে অর্থ বিনিয়োগ করা. আর এই ব্যাপারে সেই অর্থের বিনা শর্তে তহবিলে ফিরে আসা ও তার সংরক্ষণের ব্যবস্থা করে দিতে হবে”.

দেশের কর ব্যবস্থা নিয়ে যা বলা যেতে পারে, তা হল এই ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি বিশেষ করে উল্লেখ করেছেন: সংস্থা গুলির বীমা বাবদ জমা দেওয়ার জন্য অর্থের পরিমান, যা পেনশন তৈরী হওয়ার জন্যেও যায়, তা যেন না বাড়ে. একই সময়ে ভ্লাদিমির পুতিন জোর দিয়ে বলেছেন যে, দেশে বিলাস ব্যসনের বস্তুর উপরে কর বাড়ানো হবে, আর লভ্যাংশের অর্থ দেশের বাইরে কর মুক্ত এলাকায় পাঠানোর বিষয়েও পরবর্তী কালে বাধা নিষেধ বহাল রাখা হবে. তাছাড়া, রাষ্ট্রপতি ভার দিয়েছেন আসন্ন সময়ে সুদূর প্রাচ্যে বিনিয়োগ প্রকল্পের জন্য কর ছাড় দেওয়ার ব্যবস্থা করার.