পাকিস্তানের অর্থ মন্ত্রী ইশাক দার জাতীয় অ্যাসেম্বলীতে বিবেচনার জন্য নতুন মন্ত্রীসভার তরফ থেকে বাজেট প্রকল্প পেশ করেছেন ২০১৩- ২০১৪ অর্থনৈতিক বছরের জন্য. এখানে মুখ্য যে বিষয়টির প্রতি সমস্ত পর্যবেক্ষকরাই মনোযোগ দিয়েছেন – তা হল দেশের প্রতিরক্ষা খাতে বাজেট বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হচ্ছে শতকরা ১০ ভাগ (আর কিছু তথ্য অনুযায়ী শতকরা ১৫ ভাগ. এখান থেকেই সরাসরি দুটি প্রশ্নের উদ্ভব হয়: কাদের বিরুদ্ধে পাকিস্তান সশস্ত্র হতে চলেছে ও নতুন মন্ত্রীসভা কি তাদের প্রাক্ নির্বাচনী আশ্বাস অনুযায়ী দেশের অর্থনীতির পরিস্থিতিকে ভাল করতে সক্ষম হবে এই ধরনের প্রতিরক্ষা খাতে খরচ বাড়িয়ে?

ভোটে নামার আগে পাকিস্তানের মুসলিম লীগের (ন) নেতা ও বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ আশ্বাস দিয়েছিলেন যে, তাঁর মন্ত্রীসভা, তিনটি প্রধান কাজ করবে, আর তা হল অর্থনীতি, অর্থনীতি ও আরও একবার অর্থনীতি.

এই কথা সত্য যে, পরিস্থিতি, যা পূর্ববর্তী মন্ত্রীসভার সময়ে পাঁচ বছর ধরে তৈরী হয়েছে, তা বিপর্যয়ের খুবই কাছে. দেশের গড় বার্ষিক উত্পাদনের হার শতকরা তিন শতাংশের সামান্য বেশী হয়েছিল, যা মোটেও স্থিতিশীল পরিস্থিতি বলে উল্লেখ করা যেতে পারে না. তার ওপরে অর্থমন্ত্রীর পক্ষ থেকে দেশের পার্লামেন্টে করা রিপোর্ট থেকে স্পষ্টই দেখতে পাওয়া যাচ্ছে যে, গত বছরে বাজেট ঘাটতি ছিল শতকরা ৮, ৮ ভাগ, আর মোটেও তা শতকরা ৭, ৫ ভাগ, যা অনেক অর্থনীতিবিদ আশা করেছিলেন. আর এটা খুব সামান্য ব্যাপার নয়: হিসাবের সময়ে এই দেড় পার্সেন্ট ৩০ হাজার কোটি পাকিস্তানী রুপিয়া (তিনশো কোটি আমেরিকান ডলার).

নতুন বাজেট প্রকল্পে কাজ দেওয়া হয়েছে বাজেট ঘাটতি লক্ষ্যণীয় ভাবে কমানোর ও গড় বার্ষিক আয় শতকরা সাত ভাগ পর্যন্ত বৃদ্ধি করার. মনে হতে পারে যে, এটা আগের লক্ষ্যের সঙ্গে বোধহয় মিলে যাচ্ছে, যা নওয়াজ শরীফ আশ্বাস দিয়েছিলেন তাঁর নির্বাচনী প্রচারের সময়ে, এই কথা উল্লেখ করে রাশিয়ার স্ট্র্যাটেজি গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ বরিস ভলখোনস্কি বলেছেন:

“কিন্তু যে বিষয়ে বহু পাকিস্তানের অর্থনীতিবিদ ও রাজনীতিবিদেরা মনোযোগ দিয়েছেন (বিশেষ করে বিপক্ষের) তার মধ্যে প্রাথমিক হল যে, বাজেট প্রকল্পে অথবা অর্থমন্ত্রীর বক্তৃতায় কোথাও কোন নির্দিষ্ট ব্যবস্থার কথা বলা হচ্ছে না যে, এই লক্ষ্য কি করে পূরণ করা হবে. আর যদি তা বলা হয়ে থাকে, তবে যেমন, বিক্রয় কর শতকরা এক ভাগ বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে – আর তার মানে হল যে, সমস্ত ভারই পড়বে গ্রাহকের উপরে, অর্থাত্ পাকিস্তানের সাধারন মানুষদের উপরে. বিরোধী পক্ষের রাজনীতিবিদেরা ইতিমধ্যেই তাড়াহুড়ো করেছেন নতুন বাজেট ব্যবসার জন্য ভাল বলে উল্লেখ করতে, কিন্তু তা সাধারণের জন্য নয়”.

এখানে আগ্রহের বিষয় হল যে, নতুন বাজেটের কিছু ধারা অর্থনীতির কাঠামোর বাইরে বেরিয়ে পড়ে ও অনেকটাই নতুন মন্ত্রীসভার পররাষ্ট্র নীতি নিয়ে বলে দেয়. যেমন, বাজেটে একটা কথাও ইরান – পাকিস্তান গ্যাস পাইপ লাইন নিয়ে বলা হচ্ছে না, যা আগের প্রশাসন তৈরী করেছিল. এর মধ্যে দেখা হয়েছে যে, যত রকমের জোরালো আওয়াজ দিয়েই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ঘোষণা করা হোক না কেন, সব মিলিয়ে নতুন সরকার তৈরী আছে আমেরিকার রাজনীতির নেপথ্যে থেকেই এই এলাকায় টিকে থাকতে – অংশতঃ, সেই বিষয়ে যে, ইরানের দিকে রাজনীতি নিয়ে. তাই বরিস ভলখোনস্কি বলেছেন:

“এখানে মুখ্য হল যে, পর্যবেক্ষকরা দেখেছেন দেশের প্রতিরক্ষা খাতে খরচ বর্তমানের ৫৭ হাজার কোটি থেকে বাড়িয়ে ৬২ হাজার সাতশো কোটি রুপিয়া করা হচ্ছে, অর্থাত্ সেই স্পষ্ট দশ শতাংশ বৃদ্ধি. ভারতের সংবাদ মাধ্যমে বলা হয়েছে ১৫ শতাংশ বৃদ্ধির, কিন্তু সেটা শুধু মোট পরিমান বেড়ে যাওয়ার জন্যেই নয়, বরং বর্তমানের খরচা কমিয়ে দেখানো হয়েছে বলে. দেশে মূল্যবৃদ্ধির হার শতকরা ৯ ভাগ, প্রতিরক্ষা খাতে শতকরা ১০ ভাগ বাড়লে, নিজে থেকে সেটা খুব একটা বেশী নাও মনে হতে পারে. কিন্তু তাও এই ধরনের পরিকল্পনার অর্থ হল যে, দেশের অর্থনীতির সার্বিক বৃদ্ধির চেয়ে অনেক বেশীই এগিয়ে থাকবে প্রতিরক্ষা খাতে খরচের হার”.

আর এখান থেকেই প্রধান প্রশ্নের উদয় হয়, প্রথম: যদি পাকিস্তান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জোট সঙ্গী ও উপগ্রহ হয়ে এই এলাকায় থাকতে চায়, তবে কার বিরুদ্ধে তারা এখানে দ্রুত গতিতে সশস্ত্র হতে চলেছে? আর দ্বিতীয়: নতুন মন্ত্রীসভা কি পারবে তাদের প্রাক্ নির্বাচনী আশ্বাস পূরণ করতে, যা তারা দেশের অর্থনীতির হাল ফেরানো নিয়ে দিয়েছিল, যদি বেশীর ভাগ খরচই যায় প্রতিরক্ষার প্রয়োজনে?