চিন বর্তমানে পাথুরে কয়লা ও প্রাকৃতিক গ্যাসের মধ্যে কোনটা নিজেদের জাতীয় জ্বালানী চাহিদা মেটানোর জন্য বেছে নেবে, তা নিয়ে খুবই গুরুতর সমস্যায় পড়েছে. এই বিষয়ে “রেডিও রাশিয়ার” কাছে ঘোষণা করেছেন রাশিয়ার জাতীয় জ্বালানী ইনস্টিটিউটের ডিরেক্টর সের্গেই প্রাভোসুদভ. এই প্রসঙ্গে চিনকে সস্তার গ্যাস আর কেউই দিচ্ছে না আর চিনের বড় শহর গুলি এবারে কয়লার ধোঁয়াশা থেকে দম আটকে মরতে বসেছে.

বিশ্বের সবচেয়ে নোংরা শহর গুলি এখন চিনে রয়েছে, তা নিয়ে বিশ্ব ব্যাঙ্ক ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বিপদ সঙ্কেত সূচক ঘন্টাধ্বনি করছে. এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যখন এক বিশাল ধোঁয়াশা চিনের প্রায় এক তৃতীয়াংশ এলাকাকে কয়েকদিনের জন্য ঢেকে ফেলেছিল. কয়েকটি জায়গায় ধোঁয়াশা থেকে দূষণের পরিমান জীবনের জন্য নিরাপদ স্তরের প্রায় চল্লিশ গুণ বেশী হয়েছিল. চিন কয়লা থেকে তাপ বিদ্যুত উত্পাদনের ফলে একেবারে দম আটকে মরতে বসেছে বলে জোর দিয়ে বলে সের্গেই প্রাভোসুদভ বলেছেন:

“এখন ওদের শক্তি উত্পাদনের প্রায় সত্তর ভাগ হয় কয়লা থেকে. চিন বিশ্বের সবচেয়ে বড় কয়লা থেকে বিদ্যুত উত্পাদক দেশ. এর ফলে চিনের শহর গুলিতে ইতিমধ্যেই পরিবেশ বিপর্যয় দেখা দিতে শুরু করেছে. সেখানে লোকরা শ্বাস কষ্টে ভুগছেন, শ্বাস নেওয়ার মতো হাওয়া কিছু নেই, তার মধ্যে বেজিংয়ে একই অবস্থা. বোঝাই যাচ্ছে যে, এটা অনন্ত কাল ধরে চলতে পারে না – চিনের লোকরা দেশের অর্থনীতির উন্নতির জন্য নিশ্চয়ই গ্যাসের ধুলো থেকে মারা যেতে চাইবে না. এমনিতেই ওখানে মৃত্যুর হার খুবই বেড়ে গিয়েছে. তাই সেখানে এবারে পরিবেশ বান্ধব জ্বালানী ব্যবহার করা শুরু হবে – প্রাথমিক ভাবে তা হবে প্রাকৃতিক গ্যাস”.

চিন আপাততঃ গ্যাসের উত্পাদন বাড়াচ্ছে, কিন্তু তার পরিমান চিনে খুব বেশী নয়. তার ওপরে আবার চাহিদা বৃদ্ধির হার যত গ্যাস উত্পাদন হচ্ছে, তার চেয়ে অনেক বেশী. তাই বলা যে, চিন নিজেদের সমস্যা নিজেদের উত্পাদন দিয়ে সমাধান করতে পারে, তা সম্ভব নয়. তুর্কমেনিয়া থেকে গ্যাস কেনার চুক্তির পরে কিছুটা সুরাহা হয়েছে. বিগত সময় পর্যন্ত চিন তা আমদানী করেছে সেই দামের চেয়ে কমে, যতটা ইউরোপের গ্রাহকরা রাশিয়া গ্যাসের জন্য দাম হিসাবে দিয়ে থাকে. তারই মধ্যে “তুর্কমেনিয়ার গ্যাসের স্বর্গ” চিনের জন্য ফুরিয়ে গিয়েছে, এই রকম মনে করে সের্গেই প্রাভোসুদভ বলেছেন:

“কিছুদিন আগে আন্তর্জাতিক মূল্য নির্ণয় সংস্থা আর্গুস মিডিয়া, যার উপরে সারা বিশ্বের সমস্ত দামের মান নির্ভর করে, তারা খবর দিয়েছে যে, তুর্কমেনিয়া এবারে চিনের জন্য গ্যাসের দাম বাড়াবে. এবারে চিন গ্যাসের জন্য ততটাই দাম দেবে, যা ইউরোপের ক্রেতারা “গাজপ্রমের” গ্যাসের জন্য দাম দিয়ে থাকে. একই সময়ে চিন বাধ্য হয়েছে তরল প্রাকৃতিক গ্যাস কেনা বাড়াতে. আবার এই বিষয়ে এই গ্যাসের দাম কম করে হলেও এমনি গ্যাসের চেয়ে কম নয়, কিংবা প্রায়ই ইউরোপের ক্রেতারা “গাজপ্রমের” কাছ থেকে যে দামে গ্যাস কেনে, তার থেকে বেশী. চিনের লোকদের সস্তায় গ্যাস পাওয়ার ইচ্ছার পিছনে সব রকমের কারণই এবারে ধ্বসে পড়েছে, কারণ তাদের আর কেউই সস্তায় গ্যাস দিচ্ছে না”.

খুব সম্ভবতঃ, চিন খুব শীঘ্রই গাজপ্রমের সঙ্গে তাও চুক্তি স্বাক্ষর করবে গ্যাস সরবরাহের জন্যই, এই রকমের পূর্বাভাস দিয়ে সের্গেই প্রাভোসুদভ বলেছেন:

“চিন সবসময়েই চেয়েছে গাজপ্রমের কাছ থেকে ইউরোপের ক্রেতাদের থেকে সস্তায় গ্যাস পেতে. কিন্তু রাশিয়ার জন্য এটা গ্রহণযোগ্য নয়, কারণ তত্ক্ষণাত ইউরোপের লোকরা চাইবে গ্যাস ততটাই সস্তায় পেতে. এটা সবসময়েই খুব স্পষ্ট দেখতে পাওয়া গিয়েছে- পুরনো বাজার ভেঙে ফেলা যেতে পারে না, যাতে নতুন বাজারে যাওয়া যেতে পারে. তাই দাম থাকা উচিত্ সেই রকমেরই”.

0গ্যাসের বাজারে বিশ্বের কাঠামো, আর তারই সঙ্গে, পরিবেশ বিপর্যয় আরও তীক্ষ্ণ হওয়াতে এবারে চিনকে বেশী পরিমানে রাশিয়া থেকে গ্যাস আমদানীর জন্য আলোচনায় বসতে বাধ্য করছে. মার্চ মাসে মস্কো শহরে গণ প্রজাতন্ত্রী চিনের চেয়ারম্যান সি জিনপিন রাশিয়া থেকে বিপুল পরিমানে গ্যাস কেনার ইচ্ছার কথা সমর্থন করেছিলেন.