আজ থেকে ২১ বছর আগে রুশ জনগনের এক নতুন উত্সবের সূচনা হয়েছিল – রুশ প্রজাতন্ত্রের সার্বভৌমত্ব সম্বন্ধে ঘোষণা গ্রহণ দিবস. এই সিদ্ধান্ত দেশের পার্লামেন্ট নিয়েছিল দেশের আধুনিক ইতিহাসের এক সব থেকে জটিল সময়ে. তার পর থেকে ১২ই জুন – দেশের সবচেয়ে বড় রাষ্ট্রীয় উত্সব দিবস, যেটির সঙ্গে দেশ সদ্য শুরু করেছে অভ্যস্ত হতে.

রাশিয়ার নতুন যুগ শুরু হয়েছিল সংবিধান সংশোধন দিয়ে, সীমানা গঠন দিয়ে ও রাষ্ট্র প্রশাসনের এক সম্পূর্ণ নতুন রকমের ব্যবস্থাপনা দিয়ে, রাষ্ট্র জীবনে গণতান্ত্রিক নীতির প্রাধান্য ঘোষণা দিয়ে. সেই দূরের ১৯৯০ সালে সহর্ষ উল্লাস প্রকাশ করে এই সংবিধান গ্রহণের সময়ে দেশের পার্লামেন্টের সদস্যরা কি ভাবতেও পেরেছিলেন যে, দেশের জন্য কত খানি পাকদণ্ডী খাড়া উপরে ওঠা তৈরী হয়ে রয়েছে? এখন বোধহয়, এটা একটা প্রতীকী প্রশ্নই হতে পারে. বাস্তবে রাশিয়া রাষ্ট্র রূপ পেয়েছে, জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় গুলিকে চিহ্নিত করতে পেরেছে ও বিশ্বের রাজনীতিতে নিজেদের জায়গা নিতে পেরেছে. কোন রকমের সন্দেহই নেই যে, ১২ই জুন - সম্পূর্ণ মানের উত্সব, এই রকম মনে করে “ইন্ডেম” তহবিলের বিশেষজ্ঞ ইউরি করগুন্যুক বলেছেন:

“সেটাই ঘটেছে, যার অপেক্ষায় আমি বহু বছর ধরেই ছিলাম. সোভিয়েত রাষ্ট্র থাকার সময়েই আমি বয়স্ক ও শিক্ষিত একজন পিএইচডি করা লোক ছিলাম. আর ২০ বছর বয়স থেকেই আমি বোধ করতাম, যেন নিজে একটা জেলে রয়েছি, সেই রকমের একটা স্বৈরতান্ত্রিক রাষ্ট্রের মধ্যে. সেটা আমার খুবই খারাপ লাগত, আমি আর দেশ দুই দিকেই যাচ্ছিলাম, আমাদের মোটেও গন্তব্য এক ছিল না. নব্বইয়ের পর থেকে আমার ও রাষ্ট্রের অভিমুখ একই দিকে, আর তাই ১২ই জুন আমার জন্য – স্পষ্টতঃই এক উত্সবের দিন”.

নবীন রুশ রাষ্ট্রের গড়ে ওঠার সময় মোটেও নির্মেঘ ছিল না. তার অসংখ্য কারণ ছিল: সমাজের বিভিন্নতা – তাদের প্রজাতিগত ও ধর্মীয় অন্তর্গঠন, রাজনৈতিক নেতাদের উচ্চাকাঙ্ক্ষা, বিপুল অর্থনৈতিক সমস্যা, বাইরের শক্তির চাপ. এক সময়ে মনে হয়েছিল যে, দেশ গৃহযুদ্ধের ও খণ্ডিত হওয়ার সামনে দাঁড়িয়ে রয়েছে. কিন্তু ২০০০ সালের পর থেকে পরিস্থিতি সহজ হতে শুরু করেছিল.

আজ বলা যেতে পারে যে, রাশিয়া এক প্রভাবশালী রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে. এর অর্থ কি যে, ১২ই জুন দেশের সমস্ত জনগনের কাছে স্বীকৃত ও ব্যক্তিগত উত্সবে পরিণত হতে পেরেছে? বোধহয়, এখনও নয়. আর প্রাথমিক ভাবে এই কারণেই যে, সোভিয়েত সময় সম্বন্ধে নস্টালজিক স্মৃতি এখনও খুবই শক্তিশালী, এই কথা মনে করে হায়ার স্কুল অফ ইকনমিক্সের রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের প্রধান লিওনিদ পলিয়াকভ বলেছেন:

“১২ই জুন – ভাল করে বোঝার জন্য জটিল দিন. সোভিয়েত দেশের মধ্যে থাকার সময়ে, রাশিয়া বাস্তবে নিজেদের স্বাধীনতা ঘোষণা করেছিল. আর আজকের রাশিয়া দিবসকে সোভিয়েত অতীতের সঙ্গে জুড়ে দেওয়ার প্রচেষ্টা, যা আবার করা হচ্ছে সোভিয়েত দেশ নিয়ে এক নস্টালজিক সামাজিক মানসিকতার মধ্যে, তা এই উত্সবের দিনটিকে কিছুটা হেয় করে ও তার মর্যাদা নষ্ট করে দেয়. বর্তমানের সমাজের এক অংশ মনে করেন যে, সোভিয়েত দেশের ভেঙে যাওয়া – এক বৃহত্ ভূ-রাজনৈতিক ও মানবিক ট্র্যাজেডি. আবার একই সময়ে এই দিনের সঙ্গেই আমরা সার্বভৌম রাশিয়ার গড়ে ওঠাকে জড়িয়ে রাখি. এটাতেই মূল সমস্যা রয়েছে”.

প্রসঙ্গতঃ, কেউই সেই আদি সত্যকে পাল্টে দেয় নি – ইতিহাসকে পিছনে ঘুরিয়ে দেওয়া যায় না, পুরনো সময়ে ফেরত যাওয়া যেতে পারে না. সুতরাং এই নস্টালজিক মনোভাব কখনো না কখনো কাটবেই. অন্তত পক্ষে, একটা গণ মনোভাব হিসাবে. দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে যেতেই হবে. আর তা এক ইতিমধ্যেই গঠিত, তা সে যত সমস্যাই তাতে থাকুক না কেন, গণতান্ত্রিক দেশ হিসাবে ঘটবেই. এটাই ইতিহাসের সব প্রক্রিয়ার যুক্তি. আর যত বেশী করেই রাশিয়া দিবস দেশের সবচেয়ে উচ্চ মহলে পালিত হতে থাকবে, তত দ্রুতই সেটা রাশিয়া বাসীদের জন্য এক অখণ্ড জাতীয় অভ্যাসে পরিণত হতে থাকবে.