অদূর ভবিষ্যতে মস্কোও বিশ্বের সেই সব বড় নগরীর সাথে একসারিতে স্থান করে নেবে, যেখানে গাড়িচালকদের মতোই সাইকেলচালকরাও স্বচ্ছন্দ বোধ করেন.

     মস্কো নগর কর্তৃপক্ষ একসাথে দু-দুটি সংবাদে নগরবাসীদের খুশি করে তুলেছেন – প্রথমতঃ, রাশিয়ার রাজধানীতে ১৬,৫ কিলোমিটার দীর্ঘ সাইকেল ট্র্যাক বানানো হবে, যা শহরের মধ্যাঞ্চলে সেন্ট্রাল হাউস অফ আর্টিস্টের পাশে অবস্থিত খোলা আকাশের নীচে সংগ্রহশালা ‘মিউজিওন’কে সরাসরি যুক্ত করবে নগরীর পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত ভিকট্রি পার্কের সাথে. ট্র্যাকটি গড়া হচ্ছে মস্কভা নদীর চোখজুড়ানো দুই পাড় জুড়ে.

     উপরন্তু এই সোমবার থেকে রাজধানীর চারটে মেট্রো স্টেশনের পাশেই সাইকেল স্ট্যান্ডের চত্বর খোলা হয়েছে, যদিও তাদের সামর্থ্য সামান্য – মাত্র ৩০০টি সাইকেল রাখার জায়গা. কিন্তু মেয়র সের্গেই সবিয়ানিন আশ্বাস দিচ্ছেন – এখানেই শেষ নয়, এই তো শুরু – খুব শীঘ্রই বিভিন্ন স্টেশনের পাশে চত্বর উন্মুক্ত করা হবে ১০ হাজার বাইসাইকেলের স্ট্যান্ডের জন্য

    যারা এখনো বাইসাইকেল কিনে উঠতে পারেননি, তাদের জন্য নগর প্রশাসন ‘ব্যাঙ্ক অফ মস্কো’র সাথে যৌথভাবে ঘন্টাপিছু বাইসাইকেল ভাড়া নেওয়ার বেশ কয়েকটি জয়েন্ট খুলছেন, যে রকম লন্ডন, প্যারিস, আমস্টার্ডামে দেখতে পাওয়া যায়. অতঃপর মস্কোর খোদ কেন্দ্রে সাইকেল সাময়িকভাবে ভাড়া নেওয়া খুব সহজ – ব্যাঙ্কের আবেদনপত্র নিজস্ব তথ্য জানিয়ে পূরণ করে একবারের টিকিট অথবা নিয়মিত মেম্বারশিপ কার্ড নেওয়া যেতে পারে. দামও খুব বেশি নয় – ঘন্টাপিছু ৩০ রুবল(প্রায় ১ ডলার), প্রথম ঘন্টা অবৈতনিক. তবে দেখা যাচ্ছে, যে মেম্বারশিপ কার্ডের চাহিদা বেশি. মাসিক মাত্র ৪৫০ রুবল দিয়ে সাইকেল যে কোনো জয়েন্টে, যত সময়ের জন্য ইচ্ছা, ভাড়া নেওয়া যেতে পারে. মনে হচ্ছে, যে সাইকেল ভ্রমণপিপাসুদের এটা যতপরনাই খুশি করেছে – প্রথম দুই সপ্তাহেই প্রায় সাড়ে ছয় হাজার নিয়মিত সদস্য নথিভুক্ত হয়েছে.

    মস্কো নগরীর পরিবহন দপ্তর যে পরিকল্পনা করেছে, তাতে সাইকেল ভাড়া নেওয়া ও স্ট্যান্ড করানো বিশাল নাগরিক পরিবহন ব্যবস্থা উন্নয়নের সামান্য এক অংশ মাত্র. ভবিষ্যতে শুধুমাত্র আজকের দিনে গাড়ির পার্কিং লটেই তাদের জন্য আলাদা জায়গা নির্ধারণ করাই নয়, সাইকেল চালকদের জন্য ১৬০ কিলোমিটার জুড়ে নগরীতে পথসংকেত থাকবে. ইন্টারনেট সাইট velo.mos.ru ইতিমধ্যেই কাজ করতে শুরু করেছে , যেখানে সাইকেল ভাড়া করার, সারানোর জায়গাগুলি সম্পর্কে সবিষদে সব তথ্য পাওয়া যায়.

    এই প্রসঙ্গে  বলি, যে যদি চাকুরিজীবি ও শিক্ষার্থী মস্কোবাসীদের একাংশও তাদের খানিকটা পথ সাইকেলে চড়ে যায়, তাহলে শহরে যানজট কমবে. সন্দেহপ্রবণদের মতে, যারা গাড়ি ছেড়ে সাইকেলে চড়বে – সে রকম মস্কোবাসীর সংখ্যা খুব একটা বেশি নয়. কিন্তু আশাবাদীদের বিশ্বাস, যে এটা সে রকম নয়. মস্কোবাসীরা যে আদপেই গাড়ি ছেড়ে সাইকেল চড়বে, তার পেছনে যুক্তি হচ্ছে ইদানীংকালের নাগরিক ট্রেন্ড – স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এবং সর্বক্ষেত্রে প্রাকৃতিক দূষন এড়িয়ে চলা.

    অবশ্যই এখনই আন্দাজ করা সম্ভব নয়, যে মস্কোয় এই পরিকল্পনা কতটা ফলপ্রসূ হবে. কারণ উষ্ণ গ্রীস্মের পরে আসবে ঠান্ডা ভেজা শরত, তারপরে শীতের রমরমা. থাকবে কি সাইকেলপ্রেমীদের এত আগ্রহ? সময়ই তা প্রমাণ করবে.