বিশ্বের সংবাদ মাধ্যমে এই কয়েকদিন আগেও তুরস্ক নিকটপ্রাচ্যে এক তুলনামূলক ভাবে শান্ত ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন কেন্দ্রের ইমেজ বজায় রাখতে পেরেছিল, যা এবারে লক্ষ্যণীয় ভাবেই আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে পাল্টে যাচ্ছে. এই ঘটনার কারণ নিয়ে চিন্তা ভাবনা করে রাজনীতিবিদ স্তানিস্লাভ তারাসভ বলেছেন:

“মাত্র সপ্তাহ দুয়েক আগেই বিখ্যাত আন্তর্জাতিক অর্থনীতিবিদ জেফরি স্যাক্স প্রজেক্ট সিন্ডিকেট নামের জার্নালে তুরস্কের আশ্চর্য নিয়ে লিখেছিলেন. কিন্তু তাঁর এই মূল্যায়ণ এখন দ্বিতীয় সারিতে পিছিয়ে গিয়েছে. বিদেশী সংবাদ মাধ্যমে এখন মুখ্য মনোযোগ দেওয়া হয়েছে তুরস্কের প্রতিবাদী আন্দোলন নিয়ে, যা নিজের প্রসারে একেবারেই অতুলনীয় হয়েছে. আর যেটা, এই দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিশ্লেষণ করার জন্য কারণ হয়েছে অনেক প্রসারিত ভাবেই এবং সেই সব বিষয়কে নিয়ে বিচার করার জন্যেও, যা আগে কখনও বলা হয় নি অথবা হলেও হয়েছে নীচু গলাতেই”.

এই প্রসঙ্গে দ্য ওয়াল স্ট্রীট জার্নাল লিখেছে যে, এখন প্রথম ও প্রধান সমস্যা, যা তুরস্কের সরকারের সামনে রয়েছে, সেটা – দেশের পরিস্থিতির শিক্ষিত ভাবে অনুসন্ধানের আর এই সঙ্কট থেকে বের হওয়ার পথের সন্ধান করা. একদিকে – দেশের দ্রুত সামাজিক উন্নয়ন. আর অন্যদিকে – প্রতিবাদী আন্দোলন ও নতুন সব গুরুতর সমস্যা, যা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইস্তাম্বুলের কেন্দ্রে তাক্সিম স্কোয়ারের পুনর্গঠনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের নামে বাইরে বেরিয়ে পড়েছে. যদি এটা শুধু “বেড়ে ওঠার আনুষঙ্গিক রোগই” হয়, তবে থাইল্যান্ড ও চিনের এবং আরও অনেক দ্রুত উন্নতিশীল অর্থনীতির উদাহরণ আঙ্কারাকে ধারণা করার সুযোগ করে দেবে: প্রতিবাদ ঝিমিয়ে পড়বে ও লোকরা নিজেদের অর্থনৈতিক সমস্যার সমাধান নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়বে. প্রসঙ্গতঃ, এই নিয়েই কয়েক দিন আগে তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী নিজের উত্তর আফ্রিকা সফরের সময়ে বলেছেন, যখন তিনি ইস্তাম্বুলের আন্দোলন নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন.

কিন্তু তুরস্কে আন্দোলন থামছে না, যা দ্বিতীয় সমস্যার উদ্ভব করেছে: তথাকথিত গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সরকারের এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার ক্ষমতা নিয়ে. এখানে আমাদের দৃষ্টিকোণ থেকে সব কিছু মোটেও একই রকমের লাগছে না. এরদোগান ঘোষণা করেছেন যে, তাঁর সহ্য ক্ষমতা অসীম নয়, আর তিনি মিছিলের লোকদের বলেছেন “লুঠেরা”, যারা তার মতে, “দেশে সন্ত্রাস নিয়ে এসেছে”, তিনি আবার সরকার বিরোধী মিছিলে যারা অংশ নিয়েছে, তাদের বলেছেন যে, “ওদের এই প্রতিবাদের জন্য খুবই বড় দাম দিতে হবে”. একই সময়ে প্রধানমন্ত্রী আহ্বান করেছেন নিজের পক্ষের লোকদের মন্ত্রীসভার সমর্থন করে ইস্তাম্বুলে ও আঙ্কারায় মিছিল ও সমাবেশ করার.

এর অর্থ হল যে, তুরস্কে ঘটনা আপাততঃ মোটেও তুরস্কের উপ প্রধানমন্ত্রী ব্যুলেন্ত আরীঞ্চ যে রকম ভেবেছিলেন, সেই রকমের হচ্ছে না. যখন আরীঞ্চ মিছিলের লোকদের সামনে ক্ষমা চেয়েছিলেন ও স্বীকার করেছিলেন যে, যারা ইস্তাম্বুলে গেজি পার্ক বাঁচানোর জন্য রাস্তায় নেমেছিলেন, তারা ঠিকই করেছেন. তখন অনেকেরই মনে হয়েছিল যে, প্রতিবাদীদের সঙ্গে আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে. এখন কিন্তু, কেউই উদ্ভূত বিরোধের ক্ষমতা নিয়ে ও আঙ্কারার সম্ভাবনা নিয়ে রাজনৈতিক সমঝোতার ফর্মুলা বানানো কতটা হতে পারে, তা নিয়ে পূর্বাভাস দিতে চাইছে না, এই রকমেরই কথা লেখা হয়েছে আমেরিকার ফরেন পলিসি জার্নালে.

0প্রধানমন্ত্রী এরদোগান নির্বাচনের উপরে বাজী ধরছেন. “মাত্র সাত মাস বাকী রয়েছে স্থানীয় নির্বাচনের. আমি চাই ওদের শিক্ষা দিতে. এর জন্য আপনাদের উচিত্ হবে গণতান্ত্রিক নিয়ম মেনে ভোট দেওয়ার”, বলেছেন তিনি. কিন্তু প্রথমতঃ, সাত মাস – এটা অনেকখানি সময়, যার মধ্যেই দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে হবে. আর দ্বিতীয়তঃ, তুরস্কের রাষ্ট্রপতি আবদুল্লা গ্যুল বলেছেন – “গণতন্ত্র – এটা শুধু নির্বাচনই নয়. এটা আবার এক ইচ্ছা ও ক্ষমতা, যা নির্বাচনের মাঝের সময়ে জটিল রাজনৈতিক সমস্যার সমাধান করতে দরকার”. আপাততঃ, এই ধরনের ইচ্ছা সরকার দেখাচ্ছে না.