“রাশিয়া টুডে” (RT) চ্যানেলের নতুন স্টুডিও দেখতে এসে ভ্লাদিমির পুতিন উল্লেখ করেছেন যে, “২০০৫ সালে একেবারে শুরু থেকেই এই চ্যানেলকে ভাবা হয়েছিল যে, বিশ্বের সংবাদ মাধ্যমের মঞ্চে আরও একটি তথ্য মূলক চ্যানেলের উদয় হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে, যা শুধু নিরপেক্ষ ভাবে আমাদের দেশে রাশিয়াতে যা হচ্ছে তা নিয়েই খবর দেবে না, বরং চেষ্টা করবে বিশ্বের তথ্য প্রবাহে অ্যাংলোস্যাক্সন সংবাদ মাধ্যমের একচেটিয়া অধিকারকেও ভেঙে দিতে চেষ্টা করবে”. “আর আমার মনে হয়েছে যে, এটা সম্ভব হয়েছে”, - যোগ করেছেন রাষ্ট্রপতি.

ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, “পারমানবিক অস্ত্র নিয়ে ধারণাকে ঝাপসা করে দেওয়ার দরকার নেই”. তিনি আন্তর্জাতিক সমাজকে সীমিত ক্ষমতার পারমানবিক অস্ত্র ব্যবহারের তত্ত্ব বাস্তবায়নের প্রচেষ্টার বিষয়ে সাবধান করে দিয়েছেন.

“চিন্তা করে দেখুন, এই সীমাকে কমিয়ে দেওয়া হলে পারমানবিক অস্ত্র ব্যবহার নিয়ে বাস্তব ঘটনাকে এটা কতখানি অস্পষ্ট করে দিতে পারে, আর এটা কি পরিণতিতে আমাদের নিয়ে যেতে পারে? কোথায় এই সীমার অবস্থান, আর কে এটা ঠিক করেছে?” রাষ্ট্রপতির কথামতো, “এখন বহু আন্তর্জাতিক সমস্যা ও হুমকি রয়েছে নিরাপত্তা বিষয়ে. এর মধ্যেই শুধু একটি সম্ভাবনা রয়েছে, এটার সমাধানের, তা হল আন্তর্জাতিক অধিকারের কাঠামোর মধ্যে সম্মিলিত ভাবে কাজ করাতে”.

সিরিয়া প্রসঙ্গে পুতিন বলেছেন যে, সেখানে রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণের সম্ভাবনা রয়েছে. “রাশিয়া এই কারণেই আশঙ্কা করছে যে, সিরিয়ার বিরোধে বাইরে থেকে হস্তক্ষেপ করা হলে বর্তমানের ক্ষমতাসীন প্রশাসনের পতন হতে পারে, তখন সিরিয়াতে রসদের জন্য শুরু হবে আন্তর্প্রজাতি লড়াই, যা এই এলাকাতে এক নতুন সন্ত্রাসবাদের কুণ্ড তৈরী করবে. তিনি আবারও বিশেষ করে উল্লেখ করেছেন সিরিয়ার বিরোধে বাইরের হস্তক্ষেপ হতে না দেওয়ার বিষয়ে আর আশা প্রকাশ করেছেন যে, বিগত সময়ে নেওয়া শান্তির প্রয়াস গুলি, যার মধ্যে রুশ- মার্কিন প্রয়াস এক আন্তর্জাতিক সম্মেলন ডাকার বিষয়ে করা হয়েছে, তা সম্ভাবনা দেবে সিরিয়াতে রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ করার”.

রাশিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক নিয়ে বলতে গিয়ে ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন যে, “রুশ ও মার্কিনদের মধ্যে কোনও আদর্শগত ব্যবধান নেই. তিনি বলেছেন, আমাদের আজ বাস্তবে প্রায় কোন রকমের আদর্শের সংঘাত নেই, আমাদের শুধু রয়েছে ভিত্তিমূলক ও সাংস্কৃতিক নীতি সংক্রান্ত পার্থক্য. আমেরিকার আত্ম জ্ঞানের ভিত্তিতে রয়েছে ব্যক্তিকেন্দ্রিক আদর্শ, আর রাশিয়ার ভিত্তি গোষ্ঠী গত আদর্শ”.