ব্রিকস গোষ্ঠী এবারে BRIICS হতে পারে. আগামী ১৫ বছরের মধ্যে এই দেশ গুলির অনানুষ্ঠানিক ক্লাবে সম্ভবতঃ যোগ দিতে পারে ইন্দোনেশিয়া. এই বিষয়ে সোমবারে আন্তর্জাতিক বিষয়ে রাশিয়ার লোকসভার আন্তর্জাতিক কাজকর্ম পরিষদের প্রধান আলেক্সেই পুশকভ ঘোষণা করেছেন. একটি বৃহত্তম মুসলমান দেশ, দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার বৃহত্তম দেশ ও অর্থনৈতিক উন্নতির গতিতে এক বিশ্ব সেরা দেশ – ইন্দোনেশিয়া ব্রিকস গোষ্ঠীতে যোগ দেওয়ার জন্য এক সম্ভাব্য প্রার্থী.

আজ, যা মনে হচ্ছে স্রেফ একটা ফাটকা বলে, তা ১০-১৫ বছর পরে হবে স্পষ্ট দেখতে পাওয়ার মতো, এই রকম বিশ্বাস নিয়ে বলেছেন রাশিয়ার লোকসভার আন্তর্জাতিক কাজকর্ম পরিষদের সভাপতি আলেক্সেই পুশকভ. যেমন, প্রায় তিরিশ বছর আগে চিনের দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নতির বিষয়ে খুব কম লোকই বিশ্বাস করতেন. আজ তাদের বিশ্ব জোড়া ভূমিকা, ব্রিকস গোষ্ঠীর অন্যান্য সদস্যদের মতো কেউই আর তর্কে আনে না. ইন্দোনেশিয়ার সম্ভাব্য লাফ দেওয়া নিয়ে অর্থনীতিবিদ সের্গেই খেস্তানভ বলেছেন:

“ব্রিকস গোষ্ঠী নিয়ে ধারণা সৃষ্টি করেছিলেন জিম ও’নিল, আর তা সে জন্যেই করা হয়েছিল যে, অর্থনীতিতে দ্রুত উন্নতি করা দেশ গুলিকে একটি অনানুষ্ঠানিক দলে টানা. ইন্দোনেশিয়া যে যথেষ্ট দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নতির গতি দেখাচ্ছে, তা বিচার করলে আর তারই সঙ্গে জনসংখ্যা এবং অর্থনীতির পরিমানও হিসেবে আনলে ব্রিকসের অন্যান্য দেশ গুলির সঙ্গে একটি তুলনা করা সম্ভব হয়, তাই এই গোষ্ঠীতে তাদের অন্তর্ভুক্ত করা হতেই পারে”.

ইন্দোনেশিয়ার ব্রিকস গোষ্ঠীতে যোগদান আরও সেই কারণে প্রামাণ্য যে, এই এশিয়া – প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকাতেই বর্তমানে বিশ্ব অর্থনীতির কেন্দ্র সরে আসছে. কিন্তু অন্যদিক থেকে এই ধরনের পদক্ষেপ ক্লাবের বর্তমানের ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে, যেখানে এমনিতেই এশিয়ার দুটি বড় ক্রীড়নক – ভারত ও চিন রয়েছে. তার ওপরে নতুন রাষ্ট্রদের ব্রিকস গোষ্ঠীর পুরনো সদস্যদের আলোচনার তালিকার সঙ্গে নিজেদের স্বার্থেরও যোগ সাধন করতে হবে. তাই এই বিষয়ে মন্তব্য করে রাজনীতিবিদ আলেকজান্ডার অর্লোভ বলেছেন:

“পাঁচ দেশের কাঠামোর মধ্যে বহু ক্ষেত্রে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা চলছে. ইন্দোনেশিয়া কি তাতে তৈরী আছে? যদি যে কোন দেশের জন্যেই ব্রিকস গোষ্ঠীতে প্রবেশের ইতিবাচক দিক থাকে, তবে তার জন্য ক্ষতিও আছে. নতুন সদস্যের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার ফলে বাড়তি সমস্যা তৈরী হতে পারে, যা সমাধান করা দরকার. ব্রিকস কাঠামোর মধ্যেই পরস্পর বিরোধ রয়েছে, তার মধ্যে চিন ও ভারতের মধ্যেও. ক্লাবের মধ্যে তাদের উপস্থিতি দ্বিপাক্ষিক বিরোধ সমাধানেরও কাজ করে. কিন্তু যখন নতুন সদস্য উদয় হবে, তখন এখানে এক সারি পারস্পরিক বিরোধও দেখতে পাওয়া যাবে. এটাও মনে রাখা দরকার সব সময়েই”.

কিন্তু, ব্রিকস গোষ্ঠীর ভেতরের সমস্ত বিরোধ থাকা স্বত্ত্বেও (শেষটি উন্নয়ন ব্যাঙ্কের ভবিষ্যত নিয়ে), পাঁচটি রাষ্ট্রের ও অন্য দ্রুত উন্নতিশীল দেশ গুলিরও স্পষ্ট দেখতে পাওয়ার মতো সম্ভাবনাই রয়েছে. প্রাইস ওয়াটার হাউস কুপার্স সংস্থার তথ্য অনুযায়ী ২০৫০ সালে ব্রিকস দেশ গুলির সঙ্গে মেক্সিকো, ইন্দোনেশিয়া ও তুরস্কের সম্মিলিত গড় বার্ষিক উত্পাদন যোগ হলে, তা বড় সাত দেশ গুলির সম্মিলিত উত্পাদনের চেয়ে দেড় গুণ বেশী হবে.

কয়েকদিন আগের ডারবানে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের পরে ব্রিকস গোষ্ঠীতে সম্ভাব্য যোগদানের বিষয়ে ইজিপ্ট ঘোষণা করেছিল. কয়েকদিন আগে সংবাদ মাধ্যমে খবর বেরিয়েছিল যে, কাজাখস্থান একই ধরনের ইচ্ছা প্রকাশ করেছে.