রাষ্ট্রসংঘের করা হিসাব অনুযায়ী, পৃথিবীতে সব খাদ্যের মধ্যে এক-তৃতীয়াংশ জঞ্জালে ফেলা হয়. তার উত্পাদনের পেছনে বিশাল পরিমাণ প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহার করা হয়ে থাকে, যার অনেক কিছুই পূরণ করা কষ্টসাধ্য. প্রকৃতিকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য রাষ্ট্রসংঘ মানুষকে "ভাবো - খাও - রক্ষা করো" - এই মূলনীতি পালন করার ডাক দিচ্ছে.

       নিজের থালায় খাবার নেওয়ার আগে মানুষের ভেবে দেখা উচিত্, যে সে সবটুকু উদরস্থ করতে পারবে কিনা. প্রাণপণে এর দাবী জানাচ্ছেন রাষ্ট্রসংঘের অধীনস্থ খাদ্য কমিশনের বিশেষজ্ঞরা. এক-তৃতীয়াংশ খাবার জঞ্জালে যায়, যার একাংশ খেয়ে ওঠা হয় না, বাকিটা পচে যায় বা নষ্ট হয়ে যায় এমনকি ফ্রিজেও. পথ্য বিশেষজ্ঞা ইরিনা দিরিচোভা উল্লেখ করছেন, যে আজকের দিনে বড্ড বেশি বাড়তি খাদ্যদ্রব্য উত্পাদন করা হচ্ছে. ক্রয়ক্ষমতা বাড়ার সাথেসাথে লোকে আরও বেশি পরিমাণে তাদের জন্য অপ্রয়োজনীয় অতিরিক্ত খাবারদাবার কিনছে.--

       বাস্তবে মানবসমাজ খাদ্যে ভারসাম্য খুঁজে পেতে শেখেনি, এবং আমার মতে যত দিন যাচ্ছে পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটছে. বিপণন পদ্ধতি বিকাশ লাভ করছে, যা মানুষকে শুধু প্রয়োজনের অতিরিক্ত খাদ্যদ্রব্য কিনতেই বাধ্য করছে না, মানুষকে কেনাচ্ছে পরিকল্পিত তালিকার বাইরের দ্রব্যও. কাদের জন্য এটা লাভজনক, তা সহজবোধ্য.

       রাষ্ট্রসংঘের তথ্য অনুযায়ী, এক লিটার প্যাকেটের দুধ উত্পাদনের জন্য প্রয়োজন হয় ১০০০ লিটার প্রাকৃতিক জলের, হ্যামবার্গার বানাতে খরচা হয় ১৬ হাজার লিটার জল. পরিভোগীদের ঠিক যতটুকু প্রয়োজন ঠিক ততটুকু খাদ্য উত্পাদন করা হলে বিশাল পরিমাণ জৈব সম্পদ সংরক্ষন করা যেতে পারে. তবে এটাও ঠিক, যে খাদ্যদ্রব্য উত্পাদনে বিপুল হ্রাস ঘাটতিতে এবং ফলস্বরুপ, মূল্যবৃদ্ধিতে পর্যবসিত হতে পারে.

       আজ পৃথিবীর উন্নত দেশগুলিতে যেখানে খাদ্যের অভাব নেই, সেখানে নতুন এক সমস্যার উদ্ভব হয়েছে - শরীরে বিপুল মেদবৃদ্ধি. রাষ্ট্রসংঘের খাদ্য কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, আজ পৃথিবীতে যখন ২০০ কোটি মানুষ খাদ্যাভাবে ভুগছে, তখন ১৫০ কোটি মানুষের বাড়তি ওজন. তার মানে দাঁড়াচ্ছে এই, যে যখন বিশ্বের কোনো কোনো এলাকায় মানুষ অনাহারে মরছে, তার পাশাপাশি সমৃদ্ধ এলাকায় বাড়তি খাবার জঞ্জালে যাচ্ছে. উদ্বৃত্ত ওজনের দরুন আজকাল শিশুরা এমন সব রোগের শিকার হচ্ছে, আগে সেই সব রোগে ভুগতো শুধু প্রাপ্তবয়স্করা. পথ্য বিশেষজ্ঞা ইরিনা দিরিচোভা মনে করেন, যে এর উপশম সম্ভব, যদি ছোটবেলা থেকে খাদ্যগ্রহণের কৃষ্টি শেখানো যায় ও খাবারদাবারের প্রতি যত্ন নিতে শেখানো যায়.--

        সচেতনতা সৃষ্টির কাজ করা দরকার সরকারি স্তরে. খাবারের প্রতি মনযোগী হতে শেখাতে হবে. আমরা নিজেদের পরিবারে নমুনা দিই, যে মানুষের উদরস্থ করা এক-চতুর্থাংশ খাবারই সুস্থ জীবনের জন্য যথেষ্ট, বাকিটা খাওয়াবে তার ডাক্তারদের.

        জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়নে মঙ্গোলিয়া হচ্ছে খাদ্যের প্রতি সবচেয়ে যত্নশীল দেশ. সবচেয়ে নির্বিকার দেশগুলি হচ্ছে আমেরিকা, ক্যানাডা, গ্রেট ব্রিটেন ও একসারি ইউরোপীয় সংঘের দেশ. এমনকি আফ্রিকা মহাদেশের দক্ষিণাংশে, যেখানে পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে বেশি খাদ্যাভাব, সেখানে পর্যন্ত বছরে মাথাপিছু ১০ কেজি খাবার জঞ্জালে বিসর্জিত হয়.