নিজেদের দেশের জনগনের উপরে নজর রাখা নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্ক্যান্ডাল এবারে আচমকা নতুন মোড় নিয়েছে. জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা এবারে দাবী করেছে সংবাদ মাধ্যমে তথ্য ছড়িয়ে পড়া নিয়ে ফৌজদারী মামলা দায়ের করার. এই সম্বন্ধে এখনও কোনও শেষ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় নি. যদি এই দাবীকে বাস্তবায়িত করা হয়, তবে কোপ পড়বে ব্রিটেনের দ্য গার্ডিয়ান সংবাদপত্রের সাংবাদিকদের উপরে ও আমেরিকার ওয়াশিংটন পোস্টের উপরেও. আর এটা হবে আমেরিকার প্রশাসনের সঙ্গে সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি দাঁড়ানোয় আরও একটি খণ্ড চিত্র.

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গুপ্তচর বিভাগ এবারে প্রতিরক্ষা ছেড়ে আক্রমণে নামছে. আমেরিকার জনগনের উপরে নজর রাখা নিয়ে কয়েকদিন ধরে আত্মপক্ষ সমর্পণ করার চেষ্টা করার পরে জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা ঠিক করেছে এবারে সেই সব দোষীদের ধরার, যারা এই খবর ফাঁস করে দিয়েছে, কারণ বিষয়টা হল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জনগনের উপরে নজরদারি করার জাতীয় পরিকল্পনা. সংস্থাকে অবশ্য মামলা করতে না দেওয়াও হতে পারে, তবে তা হওয়ার খুবই কম সম্ভাবনা. বিগত সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন খবর ফাঁস হওয়া নিয়ে সত্যিকারের লড়াই শুরু করেছে. এই শেষ স্ক্যান্ডাল নিয়েও দেশের রাষ্ট্রপতি বারাক ওবামা সন্তুষ্ট নন. তিনি এই ঘটনা নিয়ে মন্তব্য করে যা বলেছেন তা হল:

“আমি এই ধরনের তথ্য ফাঁস হওয়াকে মোটেও স্বাগত জানাই না, কারণ এই পরিকল্পনা গুলিকে কোন কারণ ছাড়া মোটেও গোপনীয় রাখা হয় নি. আমি বুঝতে পারি যে, অনেকেরই এই ধরনের পরিকল্পনার গোপনীয় বলে মর্যাদা দেওয়াটাতেই সন্দেহ হয়েছে. কিন্তু আমাদের সময়ে বহু পরিকল্পনাই এই ধরনের গোপনীয়. যেমন সন্ত্রাসের সঙ্গে লড়াই করার প্রকল্প. আমাদের লক্ষ্য – আমাদের দেশে যাতে প্রতিপক্ষ কোন রকমে আঘাত হানতে না পারে. আর যদি আমাদের প্রতিটি পদক্ষেপ সংবাদ পত্রের শিরোনামে অথবা টেলিভিশনের খবরে দেওয়া হয়, তবে সন্ত্রাসবাদীরা প্রত্যুত্তরে ব্যবস্থা নিতে পারে. এই কারণেই এই ধরনের পরিকল্পনা গুলি গোপনীয়. আর যদি এই ধরনের খবর ফাঁস হয়ে যায়, তবে তার ফলে আমাদের সন্ত্রাস বিরোধী পরিকল্পনা গুলিই বিপদে পড়বে, নির্দিষ্ট লোকজনের কাজ কর্মও. এটা খুবই বিপজ্জনক, আর তা আমাদের দেশের নাগরিকদের সুরক্ষা দেওয়ার সম্ভাবনাই কমিয়ে দেয়”.

স্ক্যান্ডাল জ্বলে উঠেছে গত সপ্তাহে. ব্রিটেনের সংবাদপত্র দ্য গার্ডিয়ান দলিল প্রকাশ করেছে, যাতে প্রমাণ করা সম্ভব হয়েছে যে, আমেরিকার গুপ্তচর বিভাগ অনলাইনে আমেরিকার সমস্ত টেলিফোন কোম্পানী ও অন্যান্য যোগাযোগ কোম্পানীর সমস্ত গ্রাহকদের ফোন ইত্যাদি সম্বন্ধে খবর পেয়ে থাকে. এর পরে দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট সংবাদপত্র আরও একটি গোপনীয় ব্যবস্থা নিয়ে খবর ফাঁস করে দিয়েছে, যা সবচেয়ে প্রভাইডার কোম্পানী গুলির গ্রাহকদের সমস্ত ইন্টারনেট গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ করতে পারে. সরকার বাধ্য হয়েছে স্বীকার করতে যে, এই দুটি পরিকল্পনাই বাস্তবে রয়েছে কিন্তু ঘোষণা করেছে যে, এই সব কিছুই করা হয়েছে আইন সম্মত ভাবেই. দেখা গেল যে, জনগনের উপরে নজরদারি সম্বন্ধে মার্কিন কংগ্রেসে খুবই ভাল করে জানা রয়েছে – সেখানেই এই ধরনের আইন আবার গৃহীত হয়েছে. আর এই নিয়ে নির্দেশ স্বাক্ষর করেছে বিশেষ গোপন আদালতে.

এই ইতিহাস স্বাভাবিক ভাবেই সমাজে প্রবল প্রতিক্রিয়া তৈরী করেছে. গুপ্তচর বিভাগের কর্তৃপক্ষের কাছে আরও বেশী করেই প্রশ্নের উদ্ভব হয়েছে.

যদি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আইন মন্ত্রণালয় এই স্ক্যান্ডালের বাস্তব ঘটনা নিয়ে ফৌজদারী মামলা দায়ের করতে দেয় তবে তাতে ফাঁসবেন ব্রিটেনের দ্য গার্ডিয়ান, আমেরিকার দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের সাংবাদিকরা, যারা এই সব চাঞ্চল্যকর খবর প্রকাশ করেছেন. আর এটা হবে, খুব কম করে হলেও সংবাদ মাধ্যমকে নজরবন্দী করে রাখার তৃতীয় উদাহরণ. মনে করিয়ে দিই যে, এর আগে আইন মন্ত্রণালয় অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস সংস্থার সাংবাদিকদের উপরে নজরদারি করতে নির্দেশ দিয়েছিল ও তারই সঙ্গে ফক্স নিউজ টেলিভিশন চ্যানেলের এক সংবাদ প্রতিনিধির উপরেও. আর এই ইতিহাসগুলি বর্তমানে হোয়াইট হাউসের প্রধানের ইমেজের উপরেই এক অনুভবের উপযুক্ত আঘাত হেনেছে.