ফানমুঞ্চজমে উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার প্রশাসনিক প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে. অথচ মাত্র দুই মাস আগেই পিয়ংইয়ং এর সরকারি প্রতিনিধিরা সিওল শহরকে আগুনের সমুদ্র বানানোর ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং জাপানের উপরে পারমানবিক আঘাত হানার হুমকি দিয়েছিল.

ওপর থেকে দেখলে, এই স্বল্প সময়ের মধ্যে কিছুই পাল্টায় নি, কিন্তু পিয়ংইয়ং থেকে এখন একেবারেই অন্য ভাষণ দেওয়া হচ্ছে. জন গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কোরিয়ার সরকারি মুখপাত্ররা দক্ষিণ কোরিয়ার পক্ষ থেকে যোগাযোগ করার বিষয়ে প্রস্তুত থাকাকে স্বাগত জানাচ্ছে.

কিছু দক্ষিণ কোরিয়ার সংবাদ মাধ্যমে পিয়ংইয়ং এর ব্যবহারে এই ধরনের আচমকা মোড় ফেরাকে বলা হচ্ছে চিনের কূটনৈতিক শক্তি প্রয়োগের সাফল্য হিসাবে, যা গত কয়েক মাস ধরে উত্তর কোরিয়ার কাজকর্মে মোটেও সন্তুষ্ট ছিল না – সেই ধরনের কাজ, যেমন, পারমানবিক ও রকেট ছোঁড়ার পরীক্ষা. কিন্তু চিনের কূটনীতিবিদদের সক্রিয়তাকে সম্পূর্ণ ভাবে মর্যাদা দিলেও, এই ধরনের জোর দিয়ে বলার সঙ্গে খুবই কষ্টকর হয় সহমত হওয়া. সব মিলিয়ে এই ধরনের আচমকা মোড় ফেরা অর্থাত্ হুমকি থেকে শান্তির পথে চলার ইচ্ছা দেখানো কোরিয়ার কূটনীতির জন্য খুবই স্বাভাবিক. তার ওপরে ইতিহাসই প্রমাণ দিয়েছে যে, এই ধরনের উপায় সব মিলিয়ে খুব একটা খারাপ কাজ করে না, তাদের জন্য.

পিয়ংইয়ং নিয়মিত ভাবেই এক তিন পদক্ষেপের উপায় ব্যবহার করে থাকে. প্রথমে তারা একটা সঙ্কট তৈরী করে, তারপরে আলোচনা প্রস্তাব করে, আর শেষে সঙ্কট দিয়ে যে প্রভাব তৈরী করতে পেরেছে, তার সঙ্গে তুলনা মূলক ছাড় আদায় করে নেয়. এই স্ট্র্যাটেজি খুবই সাফল্যের সঙ্গে কিম ইর সেন ব্যবহার করেছেন নব্বইয়ের দশকে. তখন উত্তর কোরিয়া নিজেরাই নিজেদের পারমানবিক পরিকল্পনা নিয়ে খবর বাজারে ছড়াতে শুরু করেছিল ও ঠিক তখনই উত্তর কোরিয়ার প্রতিনিধি প্রথমবার সিওলকে অগ্নি সমুদ্রে পরিণত করা হুমকি দিয়েছিলেন. ফলে ১৯৯৪ সালে জেনেভা শহরে এক কাঠামো সূচক সমঝোতা করা হয়েছিল ও যেটাকে মনে করা যেতে পারে উত্তর কোরিয়ার কূটনীতির সবচেয়ে বড় সাফল্য বলেই.

এই ধরনের কৌশল তার পরেও ব্যবহার করা হয়েছিল. যেমন, ২০০৭ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যারা তার আগে পাঁচ বছর ধরে উত্তর কোরিয়া নিয়ে এক শান্তিতে অনিচ্ছুক অবস্থানে ছিল, তারাই রাজী হয়েছিল পিয়ংইয়ংকে আবার করে সহায়তা দিতে. এখানে কঠিন হবে উল্লেখ না করলে যে, এই ধরনের সিদ্ধান্ত ২০০৬ সালে উত্তর কোরিয়ার পারমানবিক পরীক্ষার অব্যবহিত পরেই নেওয়া হয়েছিল.

কিন্তু পরবর্তী বছর গুলিতে এই ধরনের কৌশল প্রয়োগের ফলপ্রসূতা- প্রাথমিক ভাবে এই কারণেই যে, চারপাশের সকলের কাছেই তা স্পষ্ট হয়েছিল বলে, কাজ দিচ্ছিল না. যখন পিয়ংইয়ং আবার করে এই ধরনের সঙ্কটের পরিস্থিতি অনুভব করাতে শুরু করে, তখন এই প্রচারে আগের মতই সাংবাদিকরা প্রথমে ধুয়ো তোলেন, কিন্তু কূটনীতিবিদেরা একেবারেই নির্বিকার থাকেন. তাই এবারেও যখন মার্চ ও এপ্রিল মাসে সিওলে বিশ্বের প্রথম সারির সংবাদ সংস্থার সমস্ত সাংবাদিকরা গিয়ে পৌঁছেছিলেন, তখন তাঁরা দেখে অবাক হয়েছিলেন যে, দেশের কূটনৈতিক দপ্তর ও সিওলের সাধারন লোকরা এই সঙ্কটকে, যেটাকে তাঁরা চাইছিলেন আন্তর্কোরিয়া সঙ্কট বলে দেখাতে, তাতে কোন ভাবেই প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে না. তখন সমস্ত বিশেষজ্ঞরাই, সব মিলিয়ে বুঝেছিলেন যে, পিয়ংইয়ং থেকে এই ধরনের হুমকির কোনও মানে হয় না. প্রসঙ্গতঃ, এই ধরনের নির্বিকার শান্ত প্রতিক্রিয়া, যা, যাদের লক্ষ্য করে এই হুমকি দেওয়া হয়েছে, তাদের করতে দেখে সঙ্কটের অনুভূতিকে এবারে বেশী জোর দিয়েই চাগিয়ে তোলার চেষ্টা করা হয়েছিল.

আর তা স্বত্ত্বেও, মনে হয় যে, আপাততঃ পরিস্থিতি উত্তর কোরিয়ার পরিকল্পনার সঙ্গেই তাল মিলিয়ে পাল্টাচ্ছে. উত্তেজনা বাড়ানোর প্রচার চালানোর পরে আলোচনার প্রস্তাব করা হয়েছে – আর এই প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে.

আপাততঃ একটা ভিত্তি তৈরী হয়েছে মনে করার যে, এবারের আলোচনাও সফল হবে, কম করে হলেও কেসন শিল্প এলাকার কাজকর্ম আবার করে শুরু হবে ও এমন সম্ভাবনাও বাদ দেওয়া যায় না যে, ২০০৮ সালের গরম কাল থেকে বন্ধ হয়ে থাকা কীমগান পর্যটন শিল্প তালুক প্রকল্পও আবার করে চালু হতে পারে, য়েখানে দুই কোরিয়া এক সাথেই কাজ করবে. যদি এই সব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তবে তাকে স্বাগত জানানো উচিত্. কিন্তু আবার এমন ভয়ও রয়েছে যে, পিয়ংইয়ং এই ধরনের সাফল্যকে নিজেদের চমত্কার কৌশলের বিজয় বলেই মনে করে আবার ব্যবহার করতে চাইতে পারে – যা সারা বিশ্বের জন্যই একটা ঝুঁকির ব্যাপার.