ইরানে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আগে মাত্র চার দিন বাকী. রাষ্ট্রপতি পদ প্রার্থীরা সক্রিয়ভাবে টেলিভিশনে বিতর্কে অংশ নিচ্ছেন ও ভোটারদের সঙ্গে দেখা করছেন. তাঁদের বক্তৃতার প্রধান বিষয় হচ্ছে দেশের আভ্যন্তরীণ নীতির সমস্যা ও অর্থনৈতিক সঙ্কট থেকে বের হওয়ার পথ খোঁজা.

এক পাশে পড়ে রয়েছে পররাষ্ট্র নীতি সংক্রান্ত প্রশ্ন গুলি, যা রাষ্ট্রপতির আসনে বসার বিষয়ে আগ্রহী প্রার্থীরা অনেক কম সময়ই দিচ্ছেন তাঁদের ভাষণে ও বিতর্কের ক্ষেত্রে. একই সঙ্গে স্পষ্টই বোঝা যাচ্ছে যে, ঐস্লামিক প্রজাতন্ত্রের তাদের আঞ্চলিক ও বিশ্বের সহকর্মী ও প্রতিদ্বন্দ্বী দেশ গুলির সঙ্গে পারস্পরিক ভাবে কাজ করার ক্ষেত্রে নীতির প্রশ্ন নতুন রাষ্ট্রপতির প্রত্যহের তালিকা থেকে কোথাও চলে যাবে না.

এই কথা সত্য যে, ইরানের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, দেশের পারমানবিক পরিকল্পনা নিয়ে পরিস্থিতি – এই বিষয় গুলি বিগত বছর গুলিতে সমগ্র বিশ্ব সমাজের মনোযোগের কেন্দ্রে রয়েছে. আর এটা ব্যাখ্যা করা যায়. কারণ ইরান একটি আঞ্চলিক ভাবে বৃহত্ রাষ্ট্র, তাদের রাজনীতির অনেকটাই নিকট ও মধ্য প্রাচ্যের সঙ্গে জড়িত. তাই যিনিই ইরানের নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হোন না কেন, তাঁকে অবশ্যই, এই দুটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন নিয়ে প্রাথমিক ভাবেই কাজ করতে হবে এই কথা রেডিও রাশিয়ার প্রতিবেদক ইভান জাখারভকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে বলেছেন তেহরানের বিখ্যাত রাজনীতিবিদ হাসান হানিজাদে, তিনি এই প্রসঙ্গে যোগ করেছেন:

“ইরানের জনগনের প্রয়োজন এমন একজন রাষ্ট্রপতি, যিনি বাইরের দেশ গুলির সঙ্গে ভরসার সম্পর্ক তৈরী করে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থার হাল ফেরাবেন. প্রার্থীদের মধ্যে যিনিই এইটা সম্পন্ন করতে পারবেন, তিনিই আগামী নির্বাচনে জয় লাভ করবেন”.

ইরানের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই অঞ্চলের সহকর্মী দেশ – সিরিয়া. হাসান হানিজাদের মতে, তেহরান বাশার আসাদের প্রশাসনকে সমর্থন জানানো চালিয়ে যাবে, তাই তিনি বলেছেন:

“বর্তমানের সিরিয়ার প্রশাসনের সঙ্গে পারস্পরিক সম্পর্ক – এটা সরাসরি ঐস্লামিক প্রজাতন্ত্র ইরানের জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন, আর রাষ্ট্রপতি কোন ভাবে সম্পূর্ণ গোড়া থেকে এই সম্পর্ককে অন্য দিকে ঘুরিয়ে দিতে পারেন না, যা বাস্তবেই স্ট্র্যাটেজিক. ঐস্লামিক প্রজাতন্ত্র ইরানের কোনও রাষ্ট্রপতিরই এই ক্ষমতা সংবিধান অনুযায়ী নেই, কারণ পররাষ্ট্র নীতির অভিমুখ নির্ধারণ করে থাকেন সর্বময় কর্তা. নতুন রাষ্ট্রপতি, সে তিনি যে গোষ্ঠীরই হোন না কোন – সংরক্ষণশীল অথবা সংশোধন পন্থী – তাঁকে আসাদকে সমর্থনের রাজনীতিই করতে হবে”.

তেহরানের রাজনীতিবিদের মতে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি সম্পর্কের বিষয়েও কোন রকমের পরিবর্তন আশা করা যেতে পারে না. ইরানের নতুন রাষ্ট্রপতির পররাষ্ট্র নীতিতে প্রাথমিক হবে পারমানবিক সমস্যার সমাধান, তাই হানিজাদে বলেছেন:

“ইরান নিজেদের পারমানবিক পরিকল্পনা নিয়ে অবস্থান বজায় রেখে যাচ্ছে, যা তেহরানের জন্য পররাষ্ট্র নীতিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, আর তা ততদিন অবধি করা হবে, যতদিন না তাদের ও “ছয় মধ্যস্থ পক্ষের” মধ্যে সমঝোতা করা সম্ভব হবে. এই বিষয়ে আশা নিয়ে যে, ইরানের পারমানবিক প্রযুক্তি ক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিক ও অর্থনৈতিক লক্ষ্যে ব্যবহারের অধিকার বজায় থাকবে”.

নতুন রাষ্ট্রপতি হওয়ার পরে ইরানের সঙ্গে আলোচনার প্রক্রিয়া “ছয় মধ্যস্থ পক্ষ” কি ভাবে নেবে, তা খুব শীঘ্রই জানা যাবে.