৬ই জুন আলেকজান্ডার পুশকিনের জন্মদিন পালিত হয়েছে – সবচেয়ে বিখ্যাত রুশ কবির জন্মদিন ঐতিহ্য মেনেই রাশিয়াতে পালন করা হয়েছে. এটা একই সঙ্গে রুশ ভাষা দিবসও বটে. কারণ আধুনিক রুশ সাহিত্যের ভাষার জনক হিসাবে গণ্য করা হয়ে থাকে আমাদের সকলের প্রিয় কবিকেই. কবিতা পাঠের প্রতিযোগিতা, পুশকিনের কবিতা অবলম্বনে সঙ্গীত, তাঁর গদ্য সাহিত্য অনুসরণ করে নাট্য রূপ, সিনেমা – এই সবই শুধু খুব কম অনুষ্ঠানের তালিকা, যা রাশিয়ার সমস্ত দেশ জুড়ে এই সপ্তাহে পালন করা হয়েছে. তাদের মধ্যে কিছু অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন হিন্দুস্তানের অতিথিরাও. নয়াদিল্লী শহরের জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের রুশ গবেষণা কেন্দ্রের প্রফেসর মিতা নারায়ণ ও দিল্লীর “ব্লু বেলস্ ইন্টারন্যাশনাল” স্কুলে রুশী পড়ার শিক্ষিকা নিতু আর্য যোগ দিয়েছিলেন মস্কো শহরের উত্সবে, তাঁরা শহর ও উপকণ্ঠের কিছু স্মরণীয় জায়গায় বেড়াতে গিয়েছেন, যা কবির জীবনের কিছু গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সঙ্গে যুক্ত ছিল. আর তারই সঙ্গে যোগ দিয়েছেন পুশকিন সাহিত্য উত্সবে.

ভারত থেকে পাওয়া খবর অনুযায়ী দিল্লী, মুম্বাই, চেন্নাই ত্রিবান্দ্রম শহরে আলেকজান্ডার পুশকিনের জন্মদিন ও রুশ ভাষা দিবস উপলক্ষে অনুষ্ঠান হয়েছে. রাজধানীতে এই উত্সবে যোগ দিয়েছে আমার স্কুলের ছেলেমেয়েরা আর ছাত্ররা যোগ দিয়েছে, এই কথা উল্লেখ করে নিতু আর্য বলেছেন:

“সেই সব ছাত্ররা, যারা রুশ ভাষা পড়ে, তারা পুশকিনের মূর্তিতে মালা দিয়েছে, এই মূর্তি দিল্লী শহরে রুশ বিজ্ঞান ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের থেকে অল্প দূরেই আছে, ভারতের সাহিত্য অকাদেমির উল্টো দিকে. এখানে মূর্তির সামনে তারা আবৃত্তি করেছে মহান কবির কবিতা. আর তারপরে রুশ কেন্দ্রে সঙ্গীতানুষ্ঠান হয়েছে. তাতে রুশী, ইংরাজী, হিন্দী ভাষায় পুশকিনের সাহিত্য পাঠ করা হয়েছে, কবির লেখা বিখ্যাত ইভগেনি অনেগিন কাব্য নাটিকার কিছু দৃশ্য অভিনয় করা হয়েছে”.

এখন আমার ক্লাসে রুশ ভাষা পড়ে ২৫ জন ছাত্রছাত্রী. বিগত বছর গুলিতে স্কুলে রুশী ভাষা পড়ার আগ্রহ খুবই দেখার মতো বাড়ছে.

বাংলাদেশে রাজধানী ঢাকা শহরে রুশ সংস্কৃতি কেন্দ্রে আলেকজান্ডার পুশকিনের জন্মদিন ও রুশ ভাষা দিবস উপলক্ষে যে অনুষ্ঠান আগামী ৬ই জুন তারিখে করা হতে চলেছে, তার একটা মহড়া হয়েছে – খবর দিয়েছেন কেন্দ্রের ডিরেক্টর আলেকজান্ডার দিওমিন, তিনি বলেছেন:

“পুশকিনের উত্সবে বাংলাদেশের কবিদের আমন্ত্রণ করা হয়েছে. তাঁরা ঠিক করেছেন রুশ সাহিত্যের প্রভাব, যা বহু বাঙালী কবি সাহিত্যিকের লেখায় দেখতে পাওয়া যায়, তা নিয়ে আলাদা করে বলবেন. এই বারে সঙ্গীতানুষ্ঠানে অংশ নেবে যেমন বাচ্চারা, তেমনই কিশোর কিশোরীরাও. কবিতা, গান হবে রুশী ও বাংলা ভাষায়”.

একই দিনে পাকিস্তানেও একই কারণে উত্সবের আয়োজন করা হয়েছে করাচী শহরে রুশ বিজ্ঞান- সংস্কৃতি কেন্দ্রে. তাতে যাঁরা অংশ নেবেন, তাঁরা বিখ্যাত রুশ কবির জীবনীর সঙ্গে পরিচিত হবেন, পুশকিনকে নিয়ে তাঁর বন্ধুদের স্মৃতিচারণ শুনতে পাওয়া যাবে. সেখানে রাশিয়ার প্রথম স্থানে থাকা কবির ছন্দময় কবিতা পড়া হবে উর্দু ও রুশ ভাষায়. এই সংস্কৃতি কেন্দ্রে পাকিস্তানের যে সব ছেলেমেয়েরা রুশ ভাষা পাঠ করে, তারাই এই অনুষ্ঠানটি করবে.