ভারত ও পাকিস্তানের সম্পর্কে নতুন এক স্ক্যান্ডাল শোরগোল তুলেছে. ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সুশীল কুমার শিন্ডে পাকিস্তানের গুপ্তচর বাহিনীকে দোষ দিয়েছেন শিখ গোষ্ঠীর লোকদের ভারতে সন্ত্রাসবাদী কাজকর্মের জন্য দলে টানছে বলে. ইসলামাবাদে অস্বীকার করা হয়েছে মন্ত্রীর বয়ানকে, আর দোষ দেওয়া হয়েছে যে, দিল্লী থেকে পাকিস্তানের নতুন প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের প্রশাসনের সঙ্গে সম্পর্ক ঠিক করতে চাওয়া হচ্ছে না. আমাদের সমীক্ষক সের্গেই তোমিন এই প্রসঙ্গে মন্তব্য করে বলেছেন:

“ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সুশীল কুমার শিন্ডের ঘোষণা, যা ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে নতুন পাক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের সময়ে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বিষয়ে ভবিষ্যত সম্ভাবনাকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে, তা করা হয়েছে দেশের আভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার সমস্যা নিয়ে আলোচনার জন্য আয়োজিত সম্মেলনে. বিভিন্ন আদর্শে উদ্বুদ্ধ সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের সক্রিয়তা বৃদ্ধি প্রসঙ্গে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের প্রধান শিখদের বিচ্ছিন্নতাবাদ আন্দোলনের কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন, যা পাঞ্জাব রাজ্যে শুরু হয়েছিল ও বিগত দশক গুলিতে মনে করা হয়েছিল যে, তা শেষ হয়ে গিয়েছে”.

“পাকিস্তানের আইএসআই সংস্থা শিখ যুব সমাজকে সন্ত্রাসবাদী কাজ কর্ম করার জন্য প্রশিক্ষণ দিচ্ছে, তারা এর জন্য ধরপাকড় করে নিয়ে যাওয়া লোক, বেকার ও অপরাধীদের ব্যবহার করছে”, - ঘোষণা করেছেন ভারতীয় মন্ত্রী. ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের কথা উল্লেখ করে তিনি জানিয়েছেন যে, এই ধরনের অন্তর্ঘাত মূলক কাজকর্মের জন্য ইউরোপ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও শিখ যুব সম্প্রদায়কে টার্গেট করা হয়েছে. শিখ চরমপন্থার নতুন অধ্যায়ে আরও একটি বিশেষত্ব লক্ষ্য করতে পাওয়া যাচ্ছে – তা হল এর ভৌগোলিক প্রসার – এখন শিখ সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীর সক্রিয় কর্মীরা শুধু পাঞ্জাব রাজ্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, যেখানে শখ ধর্মের প্রধান তীর্থ স্থান রয়েছে – অমৃতসরের স্বর্ণ মন্দির, আর তারা দেশের অন্যান্য জায়গায় সন্ত্রাসবাদী কাজকর্ম করতে চাইছে. এই প্রসঙ্গে তোমিন বলেছেন:

“ভারতের শক্তি প্রয়োগ বাহিনীর নেতৃস্থানীয় ব্যক্তির ঘোষণা তাত্ক্ষণিক ভাবেই ইসলামাবাদে অস্বীকার করা হয়েছে”.

“পাকিস্তান এই অভিযোগ অস্বীকার করে যে, সরকারি দপ্তর থেকে ভারতের পাঞ্জাবে সন্ত্রাসবাদীদের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে. এই ধরনের অভিযোগের ভিত্তি নেই ও তা সমবেদনা জানানোর যোগ্য. এই ধরনের ঘোষণা আমাদের দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রক্রিয়াকে ধ্বংস করতে পারে”, - সাবধান করে দিয়ে বলেছেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রতিনিধি ইজাজ আহমাদ চৌধুরী.

এখানে উল্লেখ যোগ্য হল যে, নতুন শক্তি অর্জন করে বাগযুদ্ধ দিল্লী ও ইসলামাবাদের মধ্যে যখন শুরু হয়েছে, ঠিক তখনই পালিত হচ্ছিল অমৃতসরে ট্র্যাজিক ঘটনার ২৯তম বার্ষিকী. ১৯৮৪ সালের জুন মাসে তখনকার ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতী ইন্দিরা গান্ধীর সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল “অপারেশন ব্লু-স্টার” করার মতো কঠোর ও কঠিন কাজের, যাতে স্বর্ণ মন্দিরে লুকিয়ে থাকা শিখ খালসা গোষ্ঠীর নেতা ও তাদের জমানো প্রচুর অস্ত্র রসদ উদ্ধার করা সম্ভব হয়, এই ধর্ম স্থানের ভিতরে জোর করে ঢুকে. সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে এই মন্দির সন্ত্রাসবাদী মুক্ত করার কাজ করা হয়েছিল তিনদিন ধরে, সরকারি তথ্য অনুযায়ী ৮৩ জন ভারতীয় সেনা ও মন্দিরে থাকা ৪৯২ জনের মৃত্যু হয়েছিল – তাদের মধ্যে যেমন ছিল জঙ্গীরা, তেমনই ছিল ধর্মপ্রাণ শিখ মানুষ. তারই মধ্যে শিখ সংগঠনের সক্রিয় কর্মীরা জোর দিয়ে বলছে যে, সরকারি তথ্যের চেয়ে সত্যিকারের ক্ষয় ক্ষতির পরিমান কয়েক গুণ বেশী.

স্বর্ণ মন্দির পরিষ্কার করে দেওয়ার পরে ও তার মূল্য হিসাবে সেই বছরের অক্টোবর মাসে নিজের শিখ দেহরক্ষীদের হাতেই খুন হয়েছিলেন ভারতের নেত্রী ইন্দিরা গান্ধী – তারপর থেকে পাঞ্জাবে গত তিন দশকে আর খালসা আন্দোলনের কথা শোনা যায় নি.

কিন্তু আজ এই রাজ্যে নতুন শক্তিতে বেড়ে উঠছে এই বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন. ২৯তম বার্ষিকী, যা এই মন্দিরের লড়াই নিয়ে পালিত হচ্ছে, তার জন্যে অমৃতসরে শিখ গণহত্যার স্মৃতিতে মিছিল করা হয়েছে, যার উদ্যোগী হয়েছে আবারও সেই “খালসা দল”. তাদের নেতা হর চরণজিত্ সিং ধামি কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে দাবী করেছেন স্বর্ণ মন্দিরে নিহতদের সম্পূর্ণ তালিকা প্রকাশের. তাঁর কথামতো, ১৯৮৪ সালের জুন মাসের ক্ষত এখনও সারানো হয় নি. তাই তোমিন যোগ করেছেন:

“এই ভাবেই ভারত সরকার নতুন এক গুরুতর হুমকির সম্মুখীণ হয়েছে – যা শিখ বিচ্ছিন্নতাবাদের সমস্যা হিসাবে নতুন করে মাথা চাড়া দিয়ে উঠছে. ভারতে প্রশাসন চেষ্টা করছে এটাকে বাইরের থেকে উস্কানি হিসাবে দেখাতে – পাকিস্তানের হাত দিয়ে করা বলে. যদিও ভারতের মন্ত্রীসভার প্রধান মনমোহন সিংহ নিজেই এই সম্প্রদায়ের লোক, তবুও তা পাঞ্জাবে আবেগ প্রশমনে সহায়তা করছে না”.

এরই মধ্যে দিল্লীতে কেন্দ্রীয় সরকারের ও পঞ্জাবের প্রশাসনের মধ্যে সংঘর্ষ বাড়ছে. মনমোহন সিংহের ক্যাবিনেটের জন্য খুবই অপ্রিয় চমক হয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফ থেকে সন্ত্রাস মোকাবিলার জন্য রাজ্যে বিশেষ কেন্দ্র তৈরীর পরিকল্পনা, যা পাঞ্জাবের প্রশাসন মেনে নিতে চায় নি. পাঞ্জাব রাজ্যের উপ মুখ্যমন্ত্রী সুখবির সিং বাদল বলেছেন, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হলে তা হবে রাজ্যের বিষয়ে অনধিকার হস্তক্ষেপ করা.

আজ ভারতের সঙ্ঘবাদ আরও একটি মজবুত হওয়ার পরীক্ষার সামনে পড়েছে.