বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে নিরাপত্তা কর্মীদের দমন-পীড়নের কারণে তুর্কি উপ-প্রধানমন্ত্রী বিউলেনত আরিনচ ক্ষমা চাওয়ার পরে ইস্তাম্বুলের প্রাণকেন্দ্রে এখনো থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। বিক্ষোভকারীদের সাথে একাত্বতা প্রকাশ করেছে দেশের বিভিন্ন শীর্ষ শ্রমিক সংগঠনগুলো। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপ করতে পারে বলে এমন মন্তব্য করেছেন বিশেষজ্ঞরা। যদিও তুর্কি সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে এ ধরণের কোন বিবৃতি এখনো আসে নি।

পরিস্থিতি যদি আরো খারাপের দিকে এগিয়ে যায় সেক্ষেত্রে সেনাবাহিনী কি পদক্ষেপ গ্রহণ করবে?।নিরপেক্ষ অবস্থান কি তাঁরা ধরে রাখবে? ।

আর্মিদের অবস্থান ও ইস্তাম্বুলের ঘটনা নিয়ে মতামত জানিয়েছেন তুর্কি সেনাবাহিনীর আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ দপ্তরের সাবেক জেনারেল হালদুন সলমাজতুরক।

"তাসকিম স্কয়ারে জড়ো হয় বিক্ষোভকারীরা আংকারায় ক্ষমতাসীন পার্টির নেতাদের সাথে সাক্ষাত করে তাদের দাবী-দাওয়া তুলে ধরেছেন। যদিও এখানে তাকসিম পার্কের পুনর্গঠন নিয়ে কথা হলেও সামাজিক চারিত্রিক কিছু দাবির কথা উঠে আসে। রাজেপ তাইপ এরদোগানের চুড়ান্ত বিবৃতি শুনলে পরিষ্কার দেখতে পাওয়া যাচ্ছে যে, বিক্ষোভকারীদের ওই সব শর্তাবলী কতোটা গুরুত্ব বহন করছে।

হালদুন সলমাজতুরক বলছেন, ওই সব দাবী-দাওয়া ও প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের মধ্যে যথেষ্ট ফারাক রয়েছে। তাছাড়া, সরকার হয়ত কিছুটা শিথিল ভূমিকা পালন করতে পারে । কেন?, মূল কারণ হচ্ছে, তুরস্কের আজকে ক্ষমতাসীন দলকে ন্যায় ও উন্নয়নের পথে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। আফ্রিকা সফরে যাওয়ার পূর্বে দেয়া এক বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী পুনরায় কঠিন হুশিয়ারি উচ্চারন করেছেন। কিন্তু এরদোগান আর আফ্রিকা সফরে যেতে পারেন নি। তার সহকারীবিউলেনত আরিনচ রাষ্ট্রপতির সাথে সাক্ষাত করেছেন এবং মন্ত্রী পরিষদের সবাইকে নিয়ে বৈঠক করেছেন। আরিনচ প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সম্পূর্ণ বিরোধীতা করেছেন। এতে করে পরিষ্কার হলো যে, মন্ত্রী পরিষদে কারা বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর বিপক্ষে অবস্থান করছেন। এমন পরিস্থিতিতে এরদোগানের সিদ্ধান্ত থেকে সরে দাঁড়ানো ছাড়া অন্য কোন পথ নেই। তাই আমার মনে হচ্ছে যে, ইস্তাম্বুলে যারা বিক্ষোভ করছেন তাদের দাবী কিছুটা হলেও মেনে নেয়া হবে।"

শুরু থেকে ইস্তাম্বুলের বিক্ষোভ কর্মসূচিকে নিয়ে তুর্কি আর্মিদের অবস্থান পর্যবেক্ষন করছেন। তবে এখন পর্যন্ত সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে কোন ধরণের বিবৃতি দেয়া হয় নি। যদি পরিস্থিতি আরো অবনতির দিকে অগ্রসর হয় তাহলে আর্মি কি কোন পদক্ষেপ নিতে যাবে?।

হালদুন সলমাজতুরক বলেন, "কয়েক কোটি মানুষের কষ্টকে উপেক্ষা করে এরদোগান নিজের বিবৃতির মধ্য দিয়ে দায়িত্বহীনতার পরিচিতি দিয়েছেন। তিনি পুনরায় ক্ষিপ্ত স্বভাব দেখিয়েছেন। অবশ্যই, সেনাবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা এ বিষয়গুলো লক্ষ্য করেছেন। বর্তমানে তুর্কি সেনাবাহিনীর প্রায় ১ হাজার শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সামরিক বিপ্লব আয়োজনের সহযোগিতা করার অভিযোগে বিচার কাজ চলছে।

তবে আর্মি কি পরিস্থিতিতে হস্তক্ষেপ করবে?। না , আর্মির একদম তার দরকার নেই। তবে, ইস্তাম্বুলের আন্দোলন শুরুর দিন থেকে উপ-প্রধানমন্ত্রী মেহমেত আলি শাহিনসহ বেশ কয়েকজন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী এ বিক্ষোভকে পরিকল্পিত কর্মসূচী বলে উল্লেখ করেছেন এবং এর মূল উদ্দেশ্য সামরিক বিপ্লব ঘটানো। কেউই জনগনের কাছে সামরিক হুমকি নিয়ে আসার ইচ্ছা প্রকাশ করছে না। সেনাবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারাও এই নীতিকে সমর্থন জানিয়েছন।

আপনারা তুরষ্কে চলমান আন্দোলন কর্মসূচি নিয়ে সাবেক জেনারেল হালদুন সলমাজতুরকের মতামত শুনলেন ।"