ইউরোপিয়ান ফোটোইলেক্ট্রিক এ্যাসোসিয়েশন পূর্বাভাস দিচ্ছে, যে ২০২০ সাল নাগাদ সৌরশক্তি চরম জনপ্রিয়তা অর্জন করবে. ২০১২ সালটা ছিল প্রতীক স্বরূপ - এই বছরে মোট উতপাদিত সৌরশক্তি ১০০ গেগা বাইট অতিক্রম করেছে এবং এ্যাসোসিয়েশনের পূর্বাভাস এরকম, যে আগামী ৬ বছরের মধ্যে অঙ্কটা ছয় গুণ বাড়বে. ইতিপূর্বে আন্তর্জাতিক বিদ্যুত্ এজেন্সি পূর্বাভাস দিয়েছিল, যে ২০৫০ সালের মধ্যে সৌরশক্তি পৃথিবীতে অন্য সব জ্বালানীকে পিছু হটিয়ে দেবে. তবে বিশেষজ্ঞরা এই বিষয়ে সতর্ক থেকে বলছেন, যে অদূর ভবিষ্যতে প্রাকৃতিক গ্যাস ও পারমানবিক বিদ্যুত শীর্ষস্থান ছাড়বে না.

    ২০১২ সালের পরিসংখ্যান সত্যিই বিস্ময়কর - এক বছরে সৌরশক্তি ৩০ গেগাবাইট বেশি উত্পন্ন করা হয়েছে, যা বেশ কিছু পারমানবিক বিদ্যুত্কেন্দ্রে মোট উত্পাদনের থেকে বেশি. এই ক্ষেত্রে জার্মানী চ্যাম্পিয়ন - গত বছর ৮ গেগাবাইট সৌরশক্তি বেশি উতপাদন করেছে. এবার আসুন, বিশ্লেষণ করে দেখা যাক, যে পরিবেশ বান্ধব এই শক্তি কিসের দৌলতে এত উর্ধশ্বাসে দৌড়াতে শুরু করেছে.

    এটা মুলতঃ ইউরোপিয় দেশগুলিতে সরকারি অনুদানের সুবাদে. তবে ইতালি ও স্পেনে ক্রমশঃই বেশি করে গোপনে অনুদান দেওয়া বন্ধ করার দাবীতে জনগণ সোচ্চার হচ্ছে. ন্যাশন্যাল এনার্জি ইনস্টিটিউটের মুখ্য আধিকারিক সের্গেই প্রভাসুদভ বলছেন, যে এমনকি জার্মানী পর্যন্ত এই খাতে অনুদান দেওয়া বন্ধ করছে. -

    এখন ওরা বলছে, যে যেসব সংস্থা এই শিল্পক্ষেত্রে লগ্নি করেছে, তাদের অনুদান দেওয়া দরকার, তবে নতুন কোনো সার্কিট লাইন বানানো উচিত্ হবে না. ফলশ্রুতিতে গত বছর এই ক্ষেত্রে বিনিয়োগ ব্যাপকমাত্রায় হ্রাস পেয়েছে এবং সরকারি অনুদান বিনা এই ক্ষেত্রে উন্নয়ন ঘটানো সম্ভব নয়.

    আরও একটা ব্যাপার আছে - বলছেন এনার্জি ডেভেলপমেন্ট ফান্ডের অধ্যক্ষ সের্গেই পিকিন. -

    বিকল্প জ্বালানী শক্তিকে অর্থনীতির বুনিয়াদে পরিণত করতে হলে দিবারাত্রি ও আবহাওয়া নির্বিশেষে চাহিদা মতো বিদ্যুত্শক্তি যোগান দিয়ে যেতে হবে, যার সুরাহা করার পেছনে দরকার বিশাল অঙ্কের বিনিয়োগ - গোটা বিদ্যুত্ সরবরাহ ব্যবস্থাটাকেই খোলনলচে সমেত বদলাতে হবে. নতুন বাজার গুলি নিয়ে আশাব্যঞ্জক পূর্বাভাসের কথা বলতে গেলে চীন, ভারতের মতো দ্রুত উন্নয়নশীল দেশগুলির প্রসঙ্গ তুলতে হয়. সেখানেও কিন্তু জবাবের তুলনায় সওয়ালই বেশি - বলছেন সের্গেই পিকিন. -

    কোনোমতেই সৌরশক্তি ভারতের মতো দেশের জ্বালানী নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে পারবে না. জনসাধারণের বড় এক অংশের এখনো বিদ্যুত্ ব্যবহার করার মতো আর্থিক সামর্থ্য নেই. দেশের বিভিন্ন সুদূর তেপান্তরের প্রান্তে বিদ্যুতের লাইন বসানোর জন্য ব্যয় কমাতে সৌরশক্তি উত্পাদন করা যেতে পারে, তবে খরচ হিসাব করে দেখলে বড় বড় শিল্পনগরীতে এখনো পারমানবিক বিদ্যুত্ই সবচেয়ে লাভজনক.

    পারমানবিক বিদ্যুত্কেন্দ্র গড়ার নতুন নতুন বরাত এই তত্ত্বের বাস্তবায়িকতাই প্রমাণ করে. রাশিয়া চীনে সদ্য একটা পারমানবিক বিদ্যুতকেন্দ্র চালু করলো, ভারতেও খুব শীঘ্রই চালু করতে চলেছে. ভিয়েতনাম ও দক্ষিণ আফ্রিকায় পারমানবিক বিদ্যুত্কেন্দ্র নির্মাণ করার চুক্তি স্বাক্ষর করেছে রাশিয়া. ঐ সব দেশে সৌর শক্তি অঢেল, তা সত্বেও প্রবণতাটা আপনারা নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন.