তুরস্কের সরকার এখন খুব সন্ত্রস্ত পদক্ষেপ নিচ্ছে, যাতে গত সপ্তাহের শেষ থেকে দেশের অর্ধেক শহর গুলিতে শুরু হওয়া এই গণ বিক্ষোভকে শান্ত করা সম্ভব হয়. দেশের উপ প্রধানমন্ত্রী ব্যুলেন্ত আরীঞ্চ এই প্রতিবাদ আন্দোলনের আয়োজকদের সঙ্গে দেখা করতে রাজী হয়েছেন ও এমনকি স্বীকার করেছেন যে, তাদের অসন্তোষের একেবারে প্রাথমিক কারণ গুলি – ইস্তাম্বুলের গেজি পার্ক ধ্বংস করে দেওয়া – ন্যায্য ও আইন সঙ্গত.

কিন্তু এটা শুধু তার পরেই ঘটেছে, যখন মিটিংয়ের লোকেরা রাজনৈতিক দাবী দাওয়ার কথা তুলেছে, তার মধ্যে মন্ত্রীসভার ইস্তফার কথাও রয়েছে. দেখাই যাচ্ছে যে, তুরস্ক রাজনৈতিক সঙ্কটের একটা চৌকাঠে দাঁড়িয়ে রয়েছে, বিশেষজ্ঞরা এই বিষয়ে একমত. ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল ন্যায় ও বিকাশ দলের নেতৃত্বে “মৃদু ঐস্লামিকদের” সঙ্গে দ্বন্দ্বের সর্ব্বোচ্চ পর্যায় শুরু হয়েছে ওসমান সাম্রাজ্যের পরের তুরস্কের লোকদের, যারা ধর্ম নিরপেক্ষ দেশের ঐতিহ্য মানা সমর্থক.

এই প্রক্রিয়াগুলি বিশেষজ্ঞদের মতে, বাড়তে শুরু করেছে তার পর থেকেই, যখন তুরস্ক সক্রিয়ভাবে আরব বসন্তের প্রক্রিয়াতে যোগ দিয়েছে. আর বিশেষ করে যখন তারা প্রতিবেশী সিরিয়াতে প্রশাসন বিরোধী শক্তিকে সমর্থন জানিয়েছে. বিগত দুই তিন বছর ধরে পররাষ্ট্র নীতি সংক্রান্ত পদক্ষেপ তুরস্কে নেওয়া হয়েছে আঙ্কারার পশ্চিমের ও আরব সহকর্মী দেশ গুলির সঙ্গে একমত হয়েই. আর তুরস্কের সমাজের মতামত নিয়ে প্রশাসন খুব একটা সক্রিয় ভাবে আগ্রহ প্রকাশ করে নি.

এখন প্রায় শতকরা ৫০ ভাগ তুর্কী লোক এরদোগানের পররাষ্ট্র নীতিকে সমর্থন করছেন না, এই কথা উল্লেখ করে তুরস্ক বিশারদ স্তানিস্লাভ তারাসভ বলেছেন:

“অনেক রাজনৈতিক শক্তিই এরদোগানের পদত্যাগ দাবী করেছে, আর আমার মনে হচ্ছে যে, ক্ষমতায় আসন বদল খুবই সম্ভাব্য. এখন রাষ্ট্রপতি আবদুল্লা গ্যুল রাজনৈতিক জনপ্রিয়তার রেটিংয়ে প্রথমে রয়েছেন, দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন বিরোধী দলের নেতা কামাল কীলীচদারোগলু, গণ- প্রজাতান্ত্রিক দলের নেতা. বোধহয়, এই দুই চরিত্রের মধ্যেই এই বারের খেলা হবে”.

তুরস্কের রাস্তা ও স্কোয়ারে এখন যা হচ্ছে, - এটা স্তানিস্লাভ তারাসভের কথামতো, এক ধরনের পরীক্ষা. কথা হচ্ছে নীতিগত ভাবে এক বেছে নেওয়া নিয়ে: দেশ কি ধর্ম নিরপেক্ষই থাকবে, অথবা ঐস্লামিক হওয়ার পথে চলা হবে. আর এই বিরোধই উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে, যা কোন একটা তৃতীয় শক্তি দিয়ে ভর্তি করা যেতে পারে. তার সঙ্গে এই পরিস্থিতিতে এবারে সামরিক বাহিনীর লোকরাও যোগ দিতে পারে.

যাই হোক না কেন, বর্তমানে তুরস্কের সমাজে যে বিরোধ লক্ষ্য করা যাচ্ছে, তার অর্থ হল যে, দেশের নেতাদের ভবিষ্যতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়ে সাবধানতা ও দূরদর্শিতার প্রয়োজন পড়বে. সরকারের যদি কোন দিকে না তাকিয়ে আত্মবিশ্বাসী থাকা সময় পার না হয়েও থাকে, তবে তা এবারে শেষ হতে বসেছে.