আজ ৫ই জুন সারা বিশ্ব জুড়েই পরিবেশ সংরক্ষণ দিবস পালন করা হচ্ছে. রাষ্ট্রসঙ্ঘের সাধারন সভা ১৯৭২ সালে এই দিনটিকে ঠিক করেছিল. কারণ হয়েছিল ২৩টি দেশ থেকে ২২০০ জন বিজ্ঞান ও সংস্কৃতির কর্ণধারদের রাষ্ট্রসঙ্ঘের কাছে এই বিষয়ে আবেদন. তাঁরা অভূতপূর্ব বিপদের সম্ভাবনা নিয়ে সাবধান করে দিয়েছিলেন, যা মানব সমাজকে বর্তমানে পরিবেশ দূষণের জন্য সম্মুখীণ হতে হচ্ছে. প্রশ্ন এই ভাবেই রাখা হয়েছিল যে, "হয় আমরা দূষণ বন্ধ করব, অথবা এই দূষণ আমাদের শেষ করে দেবে".

পৃথিবী নামের মহাকাশ যান এবারে নানা রকমের বিফল হওয়া দেখাতে শুরু করেছে. তার জীবন ধারণের ব্যবস্থা গুলিই নষ্ট হচ্ছে, বন কেটে ফেলা হচ্ছে, জমি জলে ডুবিয়ে দেওয়া হচ্ছে, নদী শুকিয়ে যাচ্ছে. প্রত্যহের নগর পত্তনের ফলে অভ্যস্ত এলাকা থেকে দূরে চলে যেতে বাধ্য হচ্ছে উদ্ভিদ ও প্রাণী জগত. বহু রকমের প্রাণী ও উদ্ভিদ আজ শেষ হয়ে যাওয়ার মুখে, আর তাদের কিছু অংশ আর কখনোই ফিরে আসবে না. আর তাতে শুধু প্রকৃতিরই ক্ষতি হচ্ছে না. বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়ণে প্রায় অর্ধেক মানব সমাজের রোগই পরিবেশ দূষণের কারণেই ঘটছে. মানুষ খারাপ জল পান করছে, ক্যান্সার সম্ভাবনার হাওয়ায় শ্বাস নিচ্ছে. ফলে তাদেরই নিজেদের হাতে তৈরী বেঁচে থাকার জায়গা তাদেরই স্বাস্থ্য এমনকি জীবনের জন্যও ক্ষতিকারক হচ্ছে.

মানুষকে প্রকৃতির সঙ্গে সবচেয়ে কম ক্ষতি করে বেঁচে থাকা শেখাতে চাওয়াই হল বিশ্ব পরিবেশ সংরক্ষণ দিবসের লক্ষ্য, যা রাষ্ট্রসঙ্ঘের উদ্যোগে পালন করা হচ্ছে, এই রকম মনে করে পরিবেশ সংরক্ষণ ও আলোকপাত কেন্দ্র "সংরক্ষিত অরণ্য" সংস্থার ডিরেক্টর নাতালিয়া দানিলিনা বলেছেন:

“এই উত্সব হওয়ার এই জন্যই দরকার যে, লোকের মনোযোগ পরিবেশ সংরক্ষণের বিষয়ে আকর্ষণ করা যায়. এই দিনে খুবই গুরুত্বপূর্ণ হল জনগন ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিবেশ সংক্রান্ত সমস্যার দিকে তাকানো. সেই গুলি নিয়মিত ভাবেই উদ্ভূত হচ্ছে, প্রতি দিনই. আর এই দিনে গুরুত্বপূর্ণ হল কোন একটা ফলাফল ঘোষণা করা ও হতে পারে যে, কিছু ব্যবস্থা নিয়ে ভাবার, যা আমাদের শেষ অবধি নিতেই হবে, আর তা যত তাড়াতাড়ি হবে, ততই ভাল”.

ঐতিহ্য মেনে এই দিনে সারা বিশ্ব জুড়ে নানা রকমের অনুষ্ঠান করা হয়, যা পরিবেশ সংরক্ষণের সমস্যাকে পাশ কাটিয়ে যেতে দেয় না. অংশতঃ, রাশিয়াতে ঘোষণা করা হয়েছে পরিবেশে নেতিবাচক প্রভাব শূণ্য নামের এক কর্মসূচী. এর জন্য স্বেচ্ছায় অংশগ্রহণকারীরা, প্রাথমিক ভাবে কারখানা ও শিল্প প্রকল্প গুলি আজ ৫ই জুন সকাল ৯টা থেকে বেলা ১১টা অবধি সবাই কাজকর্ম বন্ধ করে রেখেছে, যার প্রভাব পরিবেশের উপরে পড়ে. বাকী সবাইকেও এই ধরনের কর্মসূচীকে সমর্থন করতে আহ্বান করা হয়েছে. গাড়ীর বদলে – সাইকেল অথবা হেঁটে বেড়ানো, গাছ কাটার বদলে – গাছ লাগানো, দূষণের বদলে – জায়গা পরিস্কার করা. সারা বছরে মাত্র দুই ঘন্টার কাজ – অথচ প্রকৃতি তাতেই একটু স্বস্তির নিশ্বাস ফেলতে পারে, এই কথা উল্লেখ করে বিশ্ব বন্য প্রাণী তহবিলের "রাশিয়ার প্রকৃতি সংরক্ষণ নীতি" প্রকল্পের ডিরেক্টর ইভগেনি শোয়ার্ত্স বলেছেন:

“এই ধরনের কর্মসূচী, প্রাথমিক ভাবে সেই জন্যেই দরকার, যাতে অনন্ত কাজের শিকল থেকে ছাড়া পেয়ে ভাবা যায়, আর আমি কি করতে পারি অথবা কি করা উচিত্, যাতে আমার পরিবেশ উপরে প্রভাব ২, ২ হেক্টর আনুমানিক জমির সীমানা ছাড়িয়ে বেরিয়ে না যায়. অর্থাত্, যাতে পরিবেশের উপরে প্রভাব বায়োস্ফিয়ারের ক্ষমতার সঙ্গে মানিয়ে চলতে পারে”.

উল্লেখ করব যে, ২০১৩ সাল রাশিয়াতে পরিবেশ সংরক্ষণ বছর বলে ঘোষণা করা হয়েছে. এই বছরের মধ্যে করার জন্য প্রশাসন একসারি কর্মসূচী গ্রহণ করেছেন. অংশতঃ, এই বছরের মধ্যে দেশের রাষ্ট্রীয় প্রশাসনিক ভবন গুলিতে আলাদা করে জঞ্জাল সংগ্রহ করা বাধ্যতামূলক হচ্ছে. তাছাড়া, রাশিয়ার পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ দপ্তর এক সবুজ টেলিফোন লাইন খুলেছে, যেখানে নাগরিকরা পরিবেশ সংরক্ষণ নিয়ে প্রশ্ন ও অভিযোগ জানাতে পারবেন. এই বছর শেষ হবে সারা রাশিয়া জুড়ে পরিবেশ সংরক্ষণ বিদদের এক সম্মেলন দিয়ে.