জুলাই মাসে কাজান শহরে বিশ্ব গ্রীষ্ম ছাত্র অলিম্পিকে মশাল দৌড়ে মস্কো শহরও অংশ নিয়েছে. চড়ুই পাহাড়ে মস্কো রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ভবনের দেওয়াল থেকে ৪০ জন মশাল বাহক রাশিয়ার রাজধানীর পথে মশাল দৌড় করে লুঝনিকি অলিম্পিকের ষ্টেডিয়ামে দৌড় শেষ করেছে.

ছাত্রদের বিশ্ব সঙ্গীত “গাউদিয়ামুস” গেয়ে ইউনিভার্সিয়াড- ২০১৩ প্রতিযোগিতার অগ্নি সংরক্ষণকারী লোকরা এই আগুন সমেত ক্যাপসুল নিয়ে এসেছিলেন মস্কোর রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ভবনের সামনে. প্রথমে মশাল জ্বালানোর অধিকার দেওয়া হয়েছিল আচার্য ভিক্টর সাদোভনিচিকে, তিনি তাই বলেছেন:

“মস্কোর বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য এটা এক বড় সম্মান, দেশের প্রথম বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য, মস্কো শহরে ইউনিভার্সিয়াডের মশাল দৌড় শুরু করার অধিকার পাওয়া. ছাত্র সমাজের ছাত্রাবস্থা ও শিক্ষার প্রতীক এই ভবনের সামনে এই দৌড় শুরু এটাও প্রতীকী ব্যাপার. ১৯৭৩ সালে মস্কো ইউনিভার্সিটি প্রথম ইউনিভার্সিয়াড এই দেশে আয়োজন করেছিল. আজ এখানে আগুন নিয়ে মশাল দৌড় মস্কোর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের মধ্যে আয়োজন করা হয়েছে. আমি সমস্ত রাশিয়ার ছাত্রদেরই সম্বর্ধনা জানাচ্ছি, সকলকেই, যারা এই মশাল দৌড় করা আয়োজন করেছে – মস্কো শহরে এই আগুন এসে পৌঁছনোর জন্য”.

বিশ্ব ছাত্র ইউনিভার্সিয়াড আয়োজনের নব্বই বছরের ইতিহাসে মশাল দৌড় হচ্ছে এই প্রথম. এটা কাজান শহর ও রাশিয়ার পক্ষ থেকে করা উদ্যোগ. তাদের প্রস্তাব আন্তর্জাতিক ছাত্র ক্রীড়া ফেডারেশন সমর্থন করেছে. এই কথা “রেডিও রাশিয়াকে” দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাত্কারে বলেছেন রাশিয়ার ছাত্র ক্রীড়া সঙ্ঘের প্রধান ওলেগ মাতীশিন:

“আমরা চেয়েছিলাম রাশিয়ার ঐতিহ্য, কাজানের ঐতিহ্য যত বেশী সম্ভব দেশ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য যেন অনুভব যোগ্য হয়ে ওঠে. আন্তর্জাতিক ছাত্র ক্রীড়া ফেডারেশন থেকে প্রস্তাব করা হয়েছিল যে, অলিম্পিক আগুন জ্বালানোর উত্সব যেমন অলিম্পিয়াতে করা হয়ে থাকে, তেমনই এই ছাত্র ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আগুন জ্বালানো হোক সরবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে, যেখানে ১৯২৩ সালে প্রথম আন্তর্জাতিক ছাত্র ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হয়েছিল. আন্তর্জাতিক ফেডারেশন এই ধারণাকে সমর্থন করেছিল”.

২০১৩ সালের ইউনিভার্সিয়াডের আগুন সবচেয়ে পুরনো পাল তোলা জাহাজ “সেদভ” চড়ে সারা বিশ্বকে পাক দিয়ে ঘুরে এসেছে. তা গিয়েছে ইউরোপে, আফ্রিকায়, অতলান্তিক মহাসমুদ্র পার হয়েছে, প্রশান্ত মহাসাগরে গিয়েছে বিখ্যাত “হর্ণ” প্রণালী হয়ে. ২৫শে জানুয়ারী ইউনিভার্সিয়াডের আগুন এসে পৌঁছেছিল ভ্লাদিভস্তকে, যে দিনে রাশিয়াতে ছাত্র দিবস পালন করা হয়ে থাকে, ইউনিভার্সিয়াডের আগুন এর পর থেকে রাশিয়ার মধ্যেই পরিভ্রমণ করছে, মস্কো এই ভ্রমণের তালিকায় ১৭তম শহর হয়েছে, যেখানে এই আগুনকে গ্রহণ করা হয়েছে. এই দৌড়ের সময়ে ৮০৮০ মিটার পার হয়েছেন প্রাক্তন বিখ্যাত ক্রীড়াবিদ, ছাত্র ও অন্যান্য বিখ্যাত লোকরা, তারা শেষ করেছেন দৌড় অলিম্পিকের ষ্টেডিয়ামেই. এই রকমই এক মশাল দৌড়ে অংশ নেওয়া খেলোয়াড় ও রাশিয়ার ফুটবল দলের প্রাক্তন গোল রক্ষক রুসলান নিগমাতুলিন “রেডিও রাশিয়াকে” এই সম্বন্ধে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি খুবই সুখী এই আগুন স্পর্শ করতে পেরে, তাই বলেছেন:

“আমি সানন্দে এই অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার আহ্বানে সাড়া দিয়েছি, এটা খুবই মর্যাদার. আমি প্রথম আগুন নিয়ে দৌড় শুরু করেছিলাম, আবার আমি ১৯৯৩ সালের ইউনিভার্সিয়াডে যোগও দিয়েছিলাম, আর তাই বলতে পারি যে, এটা ছাত্রদের জন্য একটা খুব বড় কাজ. প্রত্যেকেই যেন এই ধরনের অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারি, আমি তাই প্রার্থনা করি. আমি খুব খুশী যে, কাজান শহরের ইউনিভার্সিয়াডের আগুন ছুঁতে পেরেছি – আমার নিজের শহরে সেটা হতে চলেছে”.

মস্কো থেকে এই ক্যাপসুল এবারে যাবে পের্ম. ইউনিভার্সিয়াডের আগুন বিশ্বের পঞ্চাশটি শহরে যাবে ও তার জন্য সব মিলিয়ে দেড় লক্ষ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করবে. আর ৬ই জুলাই এই আগুন পৌঁছবে কাজান শহরে আর তার জ্বালিয়ে দেওয়া হবে প্রধান ষ্টেডিয়ামের উপরে. এই ভাবেই তা সারা বিশ্বকে জানান দেবে সাতাশতম বিশ্ব ছাত্র গ্রীষ্ম অলিম্পিকের সূচনাকে.