তুরস্কে গণ বিক্ষোভ কিছুতেই শেষ হচ্ছে না. এর আনুষ্ঠানিক কারণ হয়েছিল দেশের সরকারের সিদ্ধান্ত ইস্তাম্বুলের তাক্সিম স্কোয়ারের কাছে গেজি পার্কের গাছ কেটে ফেলা. কিন্তু খুব তাড়াতাড়িই এই ধরনের মিছিলে রাজনৈতিক স্লোগান জুড়ে গিয়েছিল, তার মধ্যে দেশের মন্ত্রীসভার পদত্যাগের দাবীও. তুরস্কে সামাজিক- রাজনৈতিক উত্তেজনা বেড়েই যাচ্ছে, আর পারস্পরিক অভিযোগ এবারে পারস্পরিক হুমকিতে পরিণত হয়েছে. বিশ্ববিদ্যালয়ের এলাকা ছেড়ে এবারে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ছে.

তুরস্কের যুব সমাজ এই সব মিছিল মিটিং নিয়ে কি ভাবছে? এখানে রেডিও রাশিয়াকে এই নিয়ে তুরস্কের যুব সঙ্ঘের* সভাপতি ও ইস্তাম্বুলের মিছিলের এক সক্রিয় অংশগ্রহণকারী চাগদাশ জেনগিজ বলেছেন:

“তুরস্কের নাগরিকরা জেগে উঠেছেন. গেজি পার্ক স্রেফ একটা শেষ ফোঁটা হয়েছে এই সহ্যের সীমা পার করার জন্য. প্রধানমন্ত্রী এরদোগানের নেতৃত্বে প্রশাসন এর উত্তরে তুরস্কের নাগরিকদের বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগের রাস্তাই ধরে এগিয়ে যাচ্ছে. পুলিশ আমাদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করছে সাঁজোয়া গাড়ী, ব্যাটন ও জলের কামান.

প্রশাসনের পক্ষ থেকে নাগরিকদের বিরুদ্ধে এই লড়াইয়ের সময়ে বহু শত মানুষ ইতিমধ্যেই আঘাত পেয়েছেন. তাদের মধ্যে রয়েছেন বিখ্যাত সব রাজনৈতিক নেতা, সংস্কৃতি জগতের মানুষ, গণতান্ত্রিক বিরোধী পক্ষের প্রতিনিধিরা, আর বহু সংখ্যায় যুব সমাজ. কিন্তু আমাদের থামানো যাবে না. আমরা ক্ষমতাসীন দলের ফ্যাসিস্ট রাজনীতির বিরুদ্ধে সঠিক কাজের জন্য লড়াই করছি.

আমাদের শক্তি প্রয়োগের ফলে আদালত এর মধ্যেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে গেজি পার্কের গাছ কাটা বন্ধ রাখার জন্য, সেই সিদ্ধান্তকে মুলতুবি রাখার. কিন্তু আমাদের দাবী এতেই শেষ হয়ে যাচ্ছে না. আমরা চাই দেশের প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ, মন্ত্রীসভার ইস্তফা. প্রশাসন ইতিমধ্যেই তাদের স্বরূপ দেখিয়ে দিয়েছে. এরদোগান ঘোষণা করেছেন যে, আদালতের সিদ্ধান্ত ও বিক্ষোভকারীদের জোট স্বত্ত্বেও সব কিছুই শেষ অবধি করে ছাড়বেন, যে সিদ্ধান্ত তাঁরা নিয়েছেন, অর্থাত্ গেজি পার্ক ধ্বংস করে দেওয়া হবে. কিন্তু তাঁর এখন কিছুই করা সম্ভব হচ্ছে না: জনতা ইতিমধ্যেই সেই ঘুম ভেঙে উঠেছে, যা জেনে শুনে তাদের পাড়িয়েছিল ক্ষমতাসীন এরদোগানের দল”.

এখানে খুবই স্বাভাবিক যে, এই সব ঘটনার প্রতি অন্য এক দৃষ্টিকোণ থেকে ক্ষমতাসীন দলের যুব সংগঠন দৃষ্টিপাত করেছে. রেডিও রাশিয়াকে এই প্রসঙ্গে ন্যায় ও বিকাশ দলের যুব সংগঠনের ইস্তাম্বুল শাখার রাজনৈতিক ও আইন সংক্রান্ত বিভাগের প্রধান ইয়াসিন উনাল বলেছেন:

“গেজি পার্কে কাজ শুরু হওয়ার পরে কয়েকদিন ধরে তাক্সিম স্কোয়ারে প্রতিবাদ করতে বেরিয়েছিলেন ইস্তাম্বুলের সাধারন মানুষ খুবই স্পষ্ট ইচ্ছা নিয়ে. তারপরে কিছু নির্দিষ্ট লোকজন শুরু করেছিল প্ররোচনা দিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি করার, যার পর থেকে তাক্সিম স্কোয়ারের মিছিল থেকে ইস্তাম্বুলের অন্যান্য এলাকায় এই মিছিলের আগুন ছড়িয়ে পড়েছিল. কিন্তু আসলে সব কিছু এত ভয় পাওয়ার মতো কিছু নয়, যা সংবাদ মাধ্যম ও সামাজিক সাইটে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে. খবরকে খুবই বাঁকা ভাবে দেওয়া হচ্ছে. বিশ্বের সংবাদ মাধ্যমে খবর দেওয়া হচ্ছে যে, সরকার খুব বেশী রকমের শক্তি প্রয়োগ করছে, দেখানো হচ্ছে অগ্নিকাণ্ড, সংঘর্ষ. এমন একটা ধারণা তৈরী হচ্ছে যে, একেবারে গণ অভ্যুত্থান হয়েছে. আসলে স্রেফ আলাদা কিছু শক্তি প্রয়োগের ঘটনা রয়েছে, যা চরমপন্থী গোষ্ঠীরা প্ররোচনা দিয়েছিল করার জন্য.

নিজেদের পক্ষ থেকে আমরা সম্পূর্ণ ভাবেই শান্তিপূর্ণ মিছিলের জন্য সেই সব লোকদের অধিকারকে সমর্থন করি. কিন্তু কিছু মিছিলের লোক মুসলিম চাদর মাথায় দেওয়া মেয়েদের উপরে আক্রমণ করেছে, আর মসজিদেও হানা দিয়েছে. এটা স্পষ্টই হিংসা ছড়ানো, যা কোনও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে চলতে দেওয়া যায় না.

আমরা – খুবই শক্তিশালী সংগঠন, ন্যায় ও বিকাশের দলের ইস্তাম্বুলের যুব সংগঠনের প্রতিনিধি. আমাদের সদস্য সংখ্যা প্রায় কুড়ি লক্ষ. আপাততঃ আমরা শান্ত হয়েই যা ঘটছে, তার প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছি আর কোনও রকমের উস্কানিতে পা দিই নি. কিন্তু প্রয়োজন পড়লে আমরা উপযুক্ত জবাব দিতেও জানি. যারা আজ সরকার ফেলে দিতে চাইছে, আমি তাদের বলবো স্বপ্ন না দেখতে. তাদের প্ররোচনা মূলক কাজকর্ম আরও বেশী করেই আমাদের সারিতে ঐক্য নিয়ে আসবে”.

এখানে তুরস্কের দুটি যুব সঙ্ঘের প্রতিনিধিদের দেশের পরিস্থিতি নিয়ে মত প্রকাশ করা হল.

*- তুরস্কের যুব সঙ্ঘ – ৬৫টি ছাত্র সংগঠন, যেই গুলি দেশের ৪০টি উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আছে, তাদের সকলের জোট. এই জোটের সদস্যরা নিজেদের তুরস্ক দেশের প্রতিষ্ঠাতা মুস্তাফা কামাল পাশা আতাতুর্কের রাজনীতির অনুসরণ কারী বলে মনে করেন, অর্থাত্ তারা বৈপ্লবিক নীতির, দেশপ্রেমের নীতি অনুসরণ করে চলেন, আর চাগদাশ জেনগিজ এঁদেরই সর্বময় নেতা.