খুব শীঘ্রই দিল্লি স্থিত 'গোয়েল পাবলিশার্স' থেকে আধুনিক রুশী ঔপন্যাসিক ভিক্তোরিয়া তোকারেভার রচনা সংকলন প্রকাশিত হবে, অন্যান্য জনপ্রিয় আধুনিক রুশী লেখকদের রচনার অনুবাদও প্রকাশনার জন্য প্রস্তুত হচ্ছে. এই সব বিষয় নিয়ে ও ভারতে রুশী ভাষা ও সাহিত্য চর্চার বর্তমান হাল নিয়ে গোল টেবিল বৈঠক হল মস্কোয় 'রেডিও রাশিয়া'র স্টুডিওতে. ঐ বৈঠকের সঞ্চালক ও আমাদের সহকর্মী কাশ্মীর সিং জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপিকা মিতা নারায়ন ও লেকচারার কিরন সিং গোয়েলের ইন্টারভ্যিউ নিয়েছেন -

    গোল টেবিল বৈঠকের সঞ্চালকের অনুরোধে ভারতীয় অতিথিরা জানালেন, যে কিভাবে রুশী ভাষা তাদের প্রিয়তম পেশায় পরিণত হল. মিতা নারায়ন এবং কিরন সিং গোয়েল দু'জনেই রুশী ভাষা শিখেছিলেন দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ে. তারা নিয়মিত রাশিয়ায় আসেন আপ গ্রেডিং করতে, এবারেও এসেছেন সেই মিশনেই. এর আওতায় তারা সম পেশাধর্মী রুশীদের সাথে ভারতে রুশী ভাষা শিক্ষার বিভিন্ন পাঠ্যপুস্তক প্রকাশনার ব্যাপারে আলোচনা করছেন. ভারতে এমন পাঠ্যপুস্তকের অগাধ চাহিদা.

    গোল টেবিল বৈঠকে অংশগ্রহণকারীরা স্বীকার করছেন, যে নব্বইয়ের দশকে রাশিয়াকে তোলপাড় করা সামাজিক ঘটনাবলীর কারণে রুশ চর্চাবিদদের হাল রীতিমতো খারাপ হয়েছিল. রুশী ভাষা শিক্ষার ভারতীয় উচ্চ শিক্ষায়তনগুলিতে কোটার উপরও এর প্রভাব পড়েছিল - শিক্ষার্থীদের সংখ্যা কমে গেছিল. কিন্তু এখন সেটা মেক-আপ দেওয়া হয়েছে. এই মুহুর্তে দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ে দু'শো রুশী ভাষা শিক্ষার্থী আছে এবং তারা খুব ভালো করেই জানে, যে তারা বেকার থাকবে না, কারণ ভারতের সাথে রাশিয়ার সাংস্কৃতিক যোগাযোগ ক্রমশঃই বাড়ছে.

    মিতা নারায়ন ভিক্তোরিয়া তোকারেভার রচনাবলী অনুবাদ করেছেন, কিরন সিং ভার্মা কবীর ও মীরা বাঈ রচিত গদ্য ও কাব্য সম্পর্কে রুশী পাঠকদের চর্চা নিয়ে গবেষণা করেছেন. তারা উভয়েই রাশিয়ায় পুরনো ও বিশ্বস্ত বন্ধুদের উষ্ণ হার্দিকতায় আপ্লুত. তাদের মতে মস্কো বদলে গেছে - জীবনযাপন ও পেশাদারী কাজের জন্য মস্কো এখন ভারী আরামদায়ক নগরী.

    ৬ই জুন রুশী মহাকবি আলেক্সান্দর পুশকিনের জন্মদিনে রুশবিদ্যা চর্চাকারীরা এবং তাদের শিক্ষার্থীরা বেশ বড়মাপে 'রুশী ভাষা দিবস' পালন করবে ভারতে. এই উপলক্ষে অধিকাংশ অনুষ্ঠানই আয়োজিত হবে নয়াদিল্লীতে রুশী বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি ভবনে.