এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকায় এখন একতরফা ভাবে রকেট প্রতিরোধ ব্যবস্থা বসানোর কাজ চলছে. রাশিয়া এই বিষয়ে উদ্বিগ্ন, কারণ কথা হচ্ছে স্ট্র্যাটেজিক ভারসাম্য রক্ষার ভিত্তি নষ্ট হওয়া ও এই এলাকায় সম্ভাব্য শক্তির মেরু তৈরী হওয়া নিয়ে. এই বিষয়ে ঘোষণা করেছেন আন্তর্জাতিক এশিয়া নিরাপত্তা নিয়ে আয়োজিত “শাংগ্রিলা আলোচনা” নামের সম্মেলনে রাশিয়ার উপ প্রতিরক্ষা মন্ত্রী আনাতোলি আন্তোনভ.

রকেট ঝুঁকি ও হুমকি সবচেয়ে ফলপ্রসূ করে বহু পাক্ষিক ভাবে মূল্যায়ণ করা সম্ভব, তার মধ্যে আন্তর্জাতিক ফোরামে, মনে করা হয়েছে মস্কোতে. শুধু সকলের সঙ্গে এই নিয়ে বিতর্কের পরেই স্পষ্ট হতে পারে, কি লক্ষ্য সাধনের জন্য এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকায় রকেট প্রতিরোধ ব্যবস্থা তৈরী করা দরকার অথবা অপ্রয়োজনীয়. এই প্রসঙ্গে রকেট হুমকির বিরুদ্ধে সকলে মিলে প্রতিক্রিয়া করা দরকার, আর রকেট প্রতিরোধ ব্যবস্থার ক্ষমতা যা ঘোষণা করা হয়েছে, তার লক্ষ্যের সঙ্গে সঙ্গতি পূর্ণ হয়, বলেছেন আনাতোলি আন্তোনভ.

আজ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একতরফা ভাবে এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকাতে নিজেদের রকেট প্রতিরোধ ব্যবস্থা বসাচ্ছে. ২৬টি ভূমি গহ্বর থেকে উড়তে পারে এমন রকেট বিরোধী রকেটের সঙ্গে তারা যোগ করবে বলে ঠিক করেছে আলাস্কা এলাকায় আরও ১৪টি ভূমি পৃষ্ঠ থেকে উড়ানে সক্ষম রকেট বসানোর. তারা আরও ঠিক করেছে জাপানে দ্বিতীয় রেডিও পর্যবেক্ষণ স্টেশন বসানোর ও নিজেদের আরও এক সহযোগী দেশ দক্ষিণ কোরিয়ার রকেট ক্ষমতা বৃদ্ধি করার.

রাশিয়া এই ধরনের আঞ্চলিক স্ট্র্যাটেজিক ভারসাম্য নষ্ট হওয়াতে উদ্বিগ্ন. তাদের অবস্থান বেজিং সমর্থন করেছে. তাছাড়া মস্কো ও বেজিংয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ঘোষিত ও তাদের জোট সঙ্গী জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার সমর্থিত এই কাজের লক্ষ্য ঘোষণার সঙ্গে একমত হতে পারে নি. এটা নাকি শুধুমাত্র করা হচ্ছে উত্তর কোরিয়ার পক্ষ থেকে রকেট আঘাত হানার সম্ভাবনাকে একেবারে শূণ্য করে দেওয়ার জন্য. এটা মোটেও সে রকমের নয়, এই রকম মনে করে সামাজিক-রাজনৈতিক গবেষণা কেন্দ্রের ডিরেক্টর ভ্লাদিমির ইভসেয়েভ বলেছেন:

“আমেরিকার রকেট প্রতিরোধ ব্যবস্থা বাস্তবে তৈরী করা হচ্ছে এক সম্পূর্ণ বেষ্টনী হিসাবে – আলাস্কা থেকে অস্ট্রেলিয়া অবধি. এই বেষ্টনীতে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ফিলিপাইনস রয়েছে. চিন অবশ্যম্ভাবী ভাবেই রকেট প্রতিরোধ ব্যবস্থার এই বেষ্টনীর দিকে নজর করবে, কারণ তাদের আন্তর্মহাদেশীয় ব্যালিস্টিক রকেট ক্ষেত্রে ক্ষমতা বর্তমানে সীমাবদ্ধ”.

এই ধরনের ভৌগোলিক ভাবে রকেট প্রতিরোধ ব্যবস্থা বসানোতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চিনকে উত্তেজিত করতে পেরেছে তাদের রকেটে সংখ্যা ও ক্ষমতা বাড়ানো নিয়ে চিন্তা করতে. আর তারই সঙ্গে সঙ্গী খুঁজতে, যাতে যৌথ ভাবে শক্তির ভারসাম্য বজায় রাখা সম্ভব হয়, এই রকম মনে করে রাশিয়ার স্ট্র্যাটেজিক উদ্দেশ্য নিয়োজিত রকেট বাহিনীর প্রাক্তন দপ্তর প্রধান কর্নেল জেনারেল ভিক্টর এসিন বলেছেন:

“মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিশ্ব জুড়ে রকেট প্রতিরোধ ব্যবস্থা সেই কারণেই বসাচ্ছে, যাতে যেমন রাশিয়ার, তেমনই চিনের পারমানবিক ক্ষমতা কমানো যায়. তারা মোটেও উত্তর কোরিয়ার শক্তির সঙ্গে পাল্লা দেওয়ার মতো প্রত্যুত্তর তৈরী করছে না, তাই চিনের উদ্বেগ স্পষ্ট. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে গিয়ে চিন, সহকর্মী খুঁজছে, এই কথা বুঝে, যে রাশিয়াও রকেট প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিয়ে অসন্তুষ্ট”.

আজ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র উত্তর কোরিয়া ও জাপানের সঙ্গে জোট বেঁধে রাশিয়া ও চিনের স্বার্থকে উপেক্ষা করেই রকেট প্রতিরোধ ব্যবস্থা তৈরী করছে. তার ওপরে তারা চাইছে, নিজেদের নিরাপত্তা অন্যের নিরাপত্তার দামে কিনতে. ইউরোপে রকেট প্রতিরোধ ব্যবস্থা বসানোর ক্ষেত্রেও একই ধরনের খামতি দেখতে পাওয়া যাচ্ছে. এই বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণ করেছেন রাশিয়ার উপ প্রতিরক্ষা মন্ত্রী আনাতোলি আন্তোনভ সিঙ্গাপুরের “শাংগ্রিলা আলোচনা” সম্মেলনে. তিনি আহ্বান করেছেন এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকায় সেই ধরনের পরিস্থিতি তৈরী হতে না দিতে, যা বর্তমানে ইউরোপে হয়েছে. প্রথম পদক্ষেপ হিসাবে তিনি প্রস্তাব করেছেন এই এলাকায় নিরাপত্তা মজবুত করা ও সহযোগিতা বিকাশের জন্য কাঠামো সংক্রান্ত নীতি গ্রহণ করার জন্য. তা রকেট প্রতিরোধ ব্যবস্থা তৈরীর ক্ষেত্রে, অভিন্ন নিরাপত্তা ও নির্জোট নীতিকে ভিত্তি হিসাবে নিতে বাধ্য.