সপ্তাহজুড়ে সিরিয়া বিষয়ক নতুন সম্মেলন আয়োজনের প্রসঙ্গটি আশা-নিরাশার দোলাচলে দুলছে। শুরুতে ১ জুন থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন বিরোধী জোটের ওপর থেকে অস্ত্র দেয়ার নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পরে বিরোধী দল সিরিয়ার ন্যাশনাল কোয়ালিশন ইস্তাম্বুলে এক সম্মেলনে জানায়, বাশার আসাদ পদত্যাগ করলেই আলোচনায় বসবে। সপ্তাহের শেষে তুর্কি গোয়েন্দা বিভাগ সিরীয়-তুর্কি সীমান্ত এলাকা থেকে ২ কেজি ওজনের রাসায়নিক বিস্ফোরক দ্রব্যসহ একটি অস্ত্রধারী দলকে আটক করেছে। আর সব চেয়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে যে সংবাদ তা হলো, রাশিয়া নাকি ইতিমধ্যে দামাস্কাসকে সি-৩০০ কমপ্লেক্সের জেনিথ রকেট সরবরাহ করেছে।

সিরিয়ায় অস্ত্র সরবরাহের সংবাদটি ১ জুন পর্যন্ত অবাস্তব ছিল বলে জানা যায়। সি-৩০০ কমপ্লেক্সের কোন জেনিথ রকেট মস্কো দামাস্কাসকে সরবরাহ করেনি। সম্প্রতি লেবাননের টেলিভিশন চ্যানেল আল-মানারকে দেয়া সাক্ষাতকারে সিরিয়ার রাষ্ট্রপতি বাশার আসাদ নতুন অস্ত্র সরবরাহ নিয়ে কোন মন্তব্য করেননি। বরং তিনি অস্ত্র ক্রয় নিয়ে রাশিয়ার সাথে সিরিয়ার পূর্বের আইনগত চুক্তির কথা উল্লেখ করেন। আসাদ জানান, "পূর্বে সাক্ষরিত চুক্তি মেনে নিয়েই রাশিয়া আমাদের সাথে সম্পর্ক বজায় রাখছে। কয়েক বছর ধরে সিরিয়াকে অস্ত্র সরবরাহ করা নিয়ে আমরা রাশিয়ার সাথে আলোচনা করেছিলাম এবং রাশিয়ার নিজেদের ওই চুক্তিপত্র সম্পূর্ণ করার ধারাবাহিকতা বজায় রেখে চলছে। গত কয়েক বছরে এরই মধ্যে চুক্তির একটা অংশ পূরণ হয়েছে এবং আগামীতে রাশিয়ার সঙ্গে আমাদের চুক্তগুলো বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে।"

এদিকে সিরিয়ার কাছে ক্ষেপণাস্ত্র বিক্রির অঙ্গীকার করায় রাশিয়ার নিন্দা করেছে ওয়াশিংটন। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি বলেন, রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহে ওই অঞ্চলে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নষ্ট হবে এবং ইসরায়েলের নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়বে।

যাই হোক, রাশিয়া শান্তি সম্মেলন আয়োজনের জন্য সর্বাত্বক চেষ্টা করে যাচ্ছে। সম্মেলন আয়োজনের পিছনে প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে সিরিয়ার বিরোধী জোট। গত ২৯ মে সিরিয়ার ন্যাশনাল কোয়ালিশন জেনেভা-২ সম্মেলনে অংশ নেয়ার ক্ষেত্রে বাশার আসাদের পদত্যাগ দাবী করে শর্ত দিয়েছে আর দামাস্কাস একবারের জন্য হলেও পদত্যাগের প্রশ্ন নিয়ে আলোচনায় যেতে রাজি নয় এবং এ প্রশ্নের সমাধান করবে সিরিয়ার জনগন জেনেভা শান্তি সম্মেলনে দামাস্কাসের প্রতিনিধি পাঠানো হবে বলে ইতিমধ্যে এক ঘোষণায় জানানো হয়েছে

যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব খাটিয়ে আলোচনার টেবিলে বসার চাপ প্রয়োগ করার জন্য রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেরগেই ল্যাভরোভ কখনই জন কেরিকে অনুরোধ করেন নি তবে এখন পর্যন্ত কোন ফলাফল আমরা দেখতে পাচ্ছি না। সপ্তাহের শেষে এসে এ পরিস্থিতি সেরগেই ল্যাভরোভকে কিছুটা হতাশ করেছে। গত ৩০ মে মস্কোতে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি খোলাখুলি এই নিয়ে মন্তব্য করেছেন।ল্যাভরোভ বলেছেন, "সিরিয়ার ন্যাশনাল কোয়ালিশন ও তাদের আঞ্চলিক শরিক জোট রাজনৈতিক আলোচনা শুরু যাতে না হয় তার জন্য সব ধরণের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আর তারা পশ্চিমা সমাজের মতামতের আলোকে নিজের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। আমরা মনে করি শুধুমাত্র সিরিয়ার ন্যাশনাল কোয়ালিশন ছাড়াও দেশটিতে আরো শক্তিশালী বিরোধী জোট রয়েছে যারা সহিংসতার মধ্য দিয়ে নয় বরং দেশপ্রমের মহত্বকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।"

সিরিয়ার অনেক বিরোধী দল ন্যাশনাল কোয়ালিশন জোট থেকে সরে যাওয়ায় করায় নিজেদের প্রভাব হারাতে শুরু করেছে বলে খবর পাওয়া গেছে মার্চ মাসে ব্রিটেনের দ্যা ইন্ডিপেন্ডেন্ট পত্রিকাকে দেয়া সাক্ষাতকারে সিরিয়ার ন্যাশনাল কোয়ালিশনের শীর্ষ পদ থেকে পদত্যাগ করার খবর জানান মোআজ আল-খাতিব

আরো কিছু ঘটনায় শান্তি সম্মেলন আয়োজনে বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে আর তার মধ্যে অন্যতম একটি হলো, গত ৩০ মে তুর্কি গোয়েন্দা বিভাগ সিরীয়-তুর্কি সীমান্ত এলাকা থেকে ২ কেজি ওজনের রাসায়নিক বিস্ফোরক দ্রব্যসহ আল-কায়দার সহযোগি সংগঠন জিহাদ আল-নুসরা উগ্রবাদী দলের ১২ জনকে আটক করেছে। রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেরগেই ল্যাভরোভ বিরোধী দলের হাতে রাসায়নিক অস্ত্র পাওয়ার ঘটনার পূর্ণ তদন্ত করার আহবান জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, এ বছরের মার্চে আলেপ্পো এলাকায় সরকারবিরোধী অস্ত্রধারীদের রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করার প্রমাণ পাওয়া যায়। ওই ঘটনায় বেসামরিক নাগরিকসহ ১৬ জন নিহত হয়।

আশাকরা হচ্ছে সিরিয়া বিষয়ক শান্তি সম্মেলন আয়োজন হতে যাচ্ছে কিনা সে বিষয়টি চুড়ান্ত হবে আগামী ৫ জুন। ওই দিন জেনেভায় রাশিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রনালয়ের উর্ধতন কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠকে বসবেন জাতিসংঘের প্রতিনিধিরা।