শুরু করছি আমাদের পাক্ষিক অনুষ্ঠান -‘রাশিয়ার আদ্যোপান্ত’. আজকের অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করছেন ল্যুদমিলা পাতাকি
   এবং আমি – জামিল খান.

     এই অনুষ্ঠানে আপনাদেরই পাঠানো প্রশ্নাবলীর ভিত্তিতে আমরা রাশিয়ার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবন সম্পর্কে জানিয়ে থাকি.

    তাই আমাদের অনুরোধ আমাদের ভারত, বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও মরিশাসের শ্রোতা ও পাঠকদের কাছে - রাশিয়া সম্পর্কে আপনাদের জন্য আগ্রহোদ্দীপক প্রশ্নাবলী পাঠান.

    আজ আমরা শুরু করবো উত্তর প্রদেশ রাজ্যের মুধা নৌঝাড়পুর থেকে পাঠানো অর্চনা রাজপুতের পাঠানো প্রশ্নের উত্তর দিয়ে. তিনি জানতে চেয়েছেন রাশিয়ার রাজধানী মস্কো সম্পর্কে.

    পাকিস্তানের খানেওয়াল থেকে মজহর হুসেন চিশতি জানতে চেয়েছেন – রাশিয়ার বৃহত্তম বিমান বন্দর কোনটি?

    বাংলাদেশের ঢাকা থেকে রফিকুল ইসলাম জানতে চেয়েছেন – মস্কো নগরীতে পানীয় জলের সরবরাহ ব্যবস্থা সম্পর্কে.

    অতএব শুরু করছি প্রথম প্রশ্নটি থেকে – জানাচ্ছি মস্কো নগরী সম্পর্কে. মস্কোয় মোটামুটি ১কোটি ১০ লক্ষ মানুষের বাস. মস্কোয় ২৫০টিরও বেশি উচ্চ শিক্ষায়তন, প্রায় ১০০০ মিউজিয়াম, দেড়শো থিয়েটার হল ও পাঁচশোরও বেশি গ্রন্থাগার ও অগুন্তি স্টেডিয়াম.

    আর বড় পার্কের সংখ্যা শতাধিক, ১৮৮টি মেট্রো স্টেশন, প্রায় ৭০টি সেতু, শিল্প প্রতিষ্ঠান...
    চলুন, আমাদের শ্রোতাদের সংখ্যার দাপটে আর ক্লান্ত করবো না. বরং সংক্ষেপে বলা যাক মস্কোর ইতিহাস.

    সত্যি কথা. মস্কোর একেবারে কেন্দ্রস্থলে, মেয়র ভবনের ঠিক উল্টো দিকের চকে দাঁড়িয়ে আছে নগরীর পত্তনকারী নাইট ইউরি দোলগারুকির পূর্ণাবয়ব মূর্তি. তাঁর নামের সাথে জড়িত মস্কো সম্মন্ধে প্রথম উল্লেখ ছিল পুরনো, ১১৪৭ সালের পান্ডুলিপিতে. তবে সাম্প্রতিক প্রত্নতাত্ত্বিক খোঁড়াখুঁড়ি থেকে আবিস্কৃত বস্তুসামগ্রী প্রমাণ দিচ্ছে, যে মস্কভা নদীর তীরে খ্রীষ্টপূর্ব সপ্তম শতকেও জনবসতি ছিল.

    মস্কোকে দেশের অন্য সব শহরের উপর শিখন্ডী স্বরূপ দাঁড় করানোর কারণ তার ভৌগলিক অবস্থান. শহরটি জাহাজ পরিবাহী নদীর তীরে অবস্থিত. সে যুগে বণিকরা ঐ নদীপথ ধরে উত্তর ও দক্ষিণের সমুদ্রপথে পণ্যদ্রব্যের ব্যবসা করতো. তখন মানুষের জলপথ ছাড়া অন্য কোনো পরিবহন মাধ্যম জানা ছিল না. বাণিজ্য ও কুটিরশিল্পের দৌলতে মস্কো রাজ্য দ্রুত সমৃদ্ধি লাভ করে, শক্তিশালী হয় ও প্রাচীন রুশদেশের অন্যান্য ভূস্বামীদের বশে আনে.

    ১৭১২ সালে জার পিটার রাজধানী সদ্যনির্মিত সেন্ট-পিটার্সবার্গে স্থানান্তরিত করার আগে পর্যন্ত মস্কো ছিল রুশদেশের রাজধানী. বলশেভিকরা বিপ্লব ঘটিয়ে রাশিয়ার শাসন ক্ষমতা দখল করার পরে ১৯১৮ সালে মস্কোকে তার পুরনো মর্যাদা ফিরিয়ে দেয়. ব্যাপারটা হচ্ছে এই, যে সেন্ট-পিটার্সবার্গ দেশের সীমান্তের অদূরে অবস্থিত, মস্কো অবস্থিত রাশিয়ার ইউরোপীয় অংশের মধ্যাঞ্চলে. সেই সময়ে শত্রু পরিবেষ্টিত বলশেভিকদের রাজধানী অপেক্ষাকৃত নিরাপদ, পুরনো জায়গায় ফিরিয়ে আনার যুক্তি তাই সহজেই অনুমেয়. এই হচ্ছে আমাদের রাজধানীর সংক্ষিপ্ত বৃত্তান্ত.

    আর কি জানাবো ? শ্রোতা ও পাঠকদের মস্কো সম্পর্কে আর কোনো নির্দিষ্ট প্রশ্ন আছে কি ?

    হ্যাঁ, পাকিস্তানের খানেওয়াল থেকে মজহর হুসেন চিশতি রাশিয়ার বৃহত্তম বিমান বন্দর সম্মন্ধে জানানোর অনুরোধ করেছেন. যেহেতু আমাদের দেশের বৃহত্তম বিমান বন্দরটি মস্কোয় অবস্থিত, তাই আমাদের অনুষ্ঠানে রাজধানী সম্পর্কে জানানোর পর্বে আমি এই প্রশ্নটি অন্তর্ভুক্ত করেছি.

    মস্কোয় তিনটি আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর অবস্থিত, যাদের মধ্যে দোমোদেদোভা রাশিয়ায় সবচেয়ে বড়. এই বিমানবন্দর ইউরোপের সবচেয়ে ব্যস্ত প্রথম কুড়িটি বিমান বন্দরের অন্যতম.

    দোমোদেদোভায় নিয়মিত যাত্রীবাহী বিমানের ওঠানামা শুরু হয় ১৯৬৬ সালে. বিমান বন্দরটির উড়ান প্রান্তরে পরস্পরের থেকে দুই কিলোমিটার দূরত্বে পৃথক দুটি রানওয়ে থাকার সুবাদে সেখান থেকে সমান্তরালভাবে দ্বিগুণসংখ্যক বিমান ওঠানামা করতে পারে. দশ বছর আগে বিমান বন্দরটির যাত্রী টার্মিনাল নির্মাণের কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে.

    ২০১১ সালে দোমোদেদোভা পূর্ব ইউরোপের শ্রেষ্ঠ বিমান বন্দরের স্বীকৃতি স্বরূপ ‘ওয়ার্ল্ড এয়ারপোর্ট অ্যাওয়ার্ডসে’ ভূষিত হয়েছে. ঐ টার্মিনালে প্রতিবছর আড়াই কোটিরও বেশি যাত্রীকে পরিষেবা দেওয়া হয়.

    আর ২০১১ সালের ২৯শে এপ্রিল এই বিমান বন্দর উড়ানের সংখ্যার দিক থেকে অনন্য নজীর গড়েছিল. সেদিন ঐ বিমানবন্দর থেকে ৫১ হাজারেরও বেশি যাত্রী সমেত ৪২৫টি ফ্লাইট আকাশে উড়েছিল.

    আপনারা শুনছেন ‘রাশিয়ার আদ্যোপান্ত’ অনুষ্ঠান. সর্বশেষ ডাকে আমরা মস্কো সম্মন্ধে জানতে চাওয়া আরো একটা নির্দিষ্ট প্রশ্ন পেয়েছি. বাংলাদেশের ঢাকা থেকে রফিকুল ইসলাম জানতে চেয়েছেন রাজধানীতে পানীয় জল সরবরাহ ব্যবস্থা সম্মন্ধে.

    সকল মস্কোবাসীই জানে, যে তাদের বাড়িতে জল পৌঁছায় ভোলগা নদী থেকে মস্কভা-ভোলগা খালের মাধ্যমে. ৭৫ বছরেরও বেশি আগে ঐ খাল খনন করা হয়েছিল.

    শুধুমাত্র ভোলগা থেকেই নয়! বৃহত্তর মস্কো জেলা এবং প্রতিবেশি স্মোলেনস্ক ও ত্ভের জেলায় অবস্থিত ১৫টি জলাধার থেকেও নগরবাসীর জন্য দৈনিক ৩৫ লক্ষ কিউবিক মিটার জল সরবরাহ করা হয়.

    তাহলে দৈনিক গড়ে কত জল লাগে প্রত্যেক মস্কোবাসীর ?

    ১৫০ লিটার. অবশ্যই এত পরিমান জল তাদের পান, স্নান ও ধোয়ামোছার কাজেই শুধু ব্যবহার হয় না. গ্রীস্মের মাসগুলিতে প্রচুর জল খরচা হয় রাস্তাঘাট ধুতে ও ঘাসের লনগুলি জলসিঞ্চন করতে. তদুপরি নগরীর শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলি তাদের উত্পাদনের কাজে জল ব্যবহার করে.

    কিন্তু জলাধারগুলিতে জল একেবারে বিশুদ্ধ নাও হতে পারে...

    ঐ জল শোধন করা হয় নগরী পরিবেষ্টিত ২৫০টি বিশেষ স্টেশনে আর সরবরাহ করা ঠান্ডা পানীয় জলের গুণগত মানের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা হল – ‘মসভদাকানাল’, যার কর্মীরা ২৫০টি জায়গা থেকে জলের নমুনা সংগ্রহ করে. নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠ নমুনা দেখায়, যে রাসায়নিক ও জৈবিক দিক থেকে জল বিশুদ্ধ. মস্কোর পৌরসভার কর্মীকর্তারা বলে থাকেন, যে নগরবাসী জলের গুণগত মানে সন্তুষ্ট, গত এক বছরে জলের মান নিয়ে তাদের কাছে কোনো অভিযোগ জমা পড়েনি.

    তাহলে কে পানীয় জলের গুণগত মান সম্পর্কে সন্দেহ ছড়ায় ? কেন মাঝেমধ্যেই পত্রপত্রিকাগুলোর পাতায় নগরীতে জলের মান নিয়ে আলোচনা হয় ?

    গৃহস্থবাড়িতে জলের পরিচ্ছন্নতা নির্ভর করে পরিবাহী পাইপগুলির ওপর. পুরনো পাইপগুলি বদল করে নতুন পাইপ বসানো আবশ্যক, যার দায়িত্বে রয়েছে বিশেষ সংস্থা. উপরন্তু বোতলের জল ও বিভিন্ন ফিল্টার উত্পাদক এবং বিক্রেতারা ঘনঘন জলের গুণগত মান নিয়ে সোরগোল করে নিজেদের কায়েমি স্বার্থসিদ্ধির উদ্দেশ্যে. অতএব মস্কোবাসীর যদি জলের গুণগত মান নিয়ে সংশয় থাকে, তাহলে ফ্ল্যাটবাড়িতে জলের ফিল্টার বসানো যেতে পারে বা বোতলের জল কেনা যেতে পারে. তবে অধিকাংশ মস্কোবাসীই ‘মসভদাকানালে’র ওপর আস্থা রাখেন.

    এবার আপনাদের একটা গান শোনানোর সময় হল – অবশ্যই মস্কোর সম্মন্ধে.

 

    আপনারা আমাদের রাজধানী সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট প্রশ্ন পাঠালে আমরা মস্কো সম্পর্কে আরও জানাবো. সুতরাং, বন্ধুগণ জিজ্ঞাসা করুন, আমরা আপনাদের কাছ থেকে প্রশ্নের অপেক্ষায় থাকবো. আমাদের ঠিকানা – ইন্ডিয়া এ্যান্ড পাকিস্তান ব্রডকাস্টিং সেকশন, রেডিও রাশিয়া, ২৫, প্যাতনিত্স্কায়া স্ট্রীট, মস্কো,
রাশিয়া. ইন্টারনেটে আমাদের কাছে লেখার ঠিকানা – letters a ruvr.ru