চলতি সপ্তাহে যৌথ নিরাপত্তা চুক্তি সংস্থার(সিএসটিও)বৈঠকে সদস্যভুক্ত দেশগুলোর নেতারা সংস্থাটির সামরিক পরিকাঠামো আরো সক্রিয় করার বিষয়ে ঐক্যমতে পৌঁছেছেন। সেই সাথে আগামী ২০১৪ সালে আফগানিস্তান থেকে ন্যাটো সৈন্য প্রত্যাহার ইস্যুকে কেন্দ্র করে তাজিক-আফগান সীমান্তে বাড়তি নিরাপত্তা মজুদ করতে যাচ্ছে সংস্থাটি।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন যে, সিএসটিও’র শক্তিমত্তাকে আরো ঢেলে সাঁজানো হলে তা ওই অঞ্চলে বহুমুখী হুমকি মোকাবেলায় ইতিবাচক ভূমিকা পালন করবে।

কিরগিজিস্তানের রাজধানী বিশকেকে সিএসটিও ভুক্ত দেশগুলোর রাষ্ট্রপ্রধানদের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে আলোচনার প্রধান কেন্দ্রবিন্দু ছিল আফগানিস্তান। যুদ্ধবিদ্ধস্থ দেশটির নানা সমস্যা ধীরে ধীরে মধ্য এশিয়ার প্রজাতন্ত্রগুলোর দিকে এগিয়ে আসছে।

স্বাধীন রাষ্ট্র সমূহের দেশগুলোকে নিয়ে গবেষণা ইনস্টিটিউটের মধ্য ও কেন্দ্রীয় এশিয়া বিভাগীয় দপ্তরের প্রধান আন্দ্রেই গ্রোজিন এই প্রসঙ্গে বলেছেন, “সত্য হলেও যে সংবাদটি আমরা এখন পাচ্ছি তা হলো, তাজিক-আফগান ও তুর্কমেনিয়া-আফগানিস্তান সীমান্ত এলাকায় উগ্রবাদী ইসলামিক জঙ্গিদলের কর্মীরা জড়ো হচ্ছে। তা অবশ্য ধুধু তালেবান নয় বরং তাদেরই সহযোগি জোট। আফগান সেনাদের সাথে তাদের যুদ্ধ চলছে। আর এই অস্থিতিশীল পরিবেশ এগিয়ে আসছে উত্তরের দিকে যেখানে রয়েছে সিএসটিও’র নিয়ন্ত্রণ। সময়ের সাথে সাথে এই হুমকি আরো ভয়াবহ রুপ নিবে।“

এদিকে সিএসটিও’র মহাসচিব নিকোলাই বরদ্যুঝা বলেন, সংস্থার সদস্য দেশগুলোর নেতারা চাইছেন যেন আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সৈন্য প্রত্যাহারের পর নেতিবাচক পরিণতিকে যথাসম্ভভ কমিয়ে আনা যায়।

এদিকে স্ট্র্যাটেজিক কমিউনিকেশনস সেন্টারের ভাইস প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি আবজালভ বলেছেন, যেই মার্কিন সৈন্যরা আফগানিস্তান ত্যাগ করবে, ঠিক এরপরেই পুরো অঞ্চলে সমস্যা তৈরী হবে। মূল বিপদ হলো নিরাপত্তা. আর এটি হচ্ছে সন্ত্রাসবাদ রপ্তানি. মাদক পাচার বেড়ে যাওয়া। মাদকের পাচার রোধে যৌথ প্রতিরোধ গড়ে তোলা যায়।

আসলে ওই মাদক পাচারই হলো অন্যতম প্রধান সমস্যা। আফগানিস্তানে পশ্চিমাজোটের সৈন্য প্রবেশের পর দেশটিতে হিরোইনের উতপাদন অন্তত ১০ গুন বৃদ্ধি পেয়েছে।

আফগানিস্তান থেকে ন্যাটো সৈন্য প্রত্যাহারের পর তা সবদিকেই হুমকির পরিব্যাপ্তি ঘটবে। ইতিমধ্যে প্রমাণ রয়েছে যে, আফগানিস্তানের ভূখন্ডে সন্ত্রাসী চক্রের সংখ্যা শুধু বৃদ্ধি পাচ্ছে। বস্তুত আগামী বছর থেকে আফগানিস্তান একটি স্থায়ী সংকটে রুপ নিবে। এখান থেকেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে থাকা ইসলামিক জিহাদী সংগঠনগুলোর জন্য অস্ত্র ও অর্থ সরবরাহ করা হবে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তানে কিছু সংখ্যক সৈন্য রেখে গেলেও তা কোন আস্থার সুসংবাদ দিচ্ছে না। শুধু সেই জন্যই তৈরী হলে চলবে না যে, মাদক দ্রব্য এখানে প্লাবনের মতো আসতে থাকবে, বরং তার জন্যও তৈরী হতে হবে, যাতে সমস্ত গোষ্ঠী, যারা এই মাদক পাচারের অর্থের সাহায্যে বেঁচে রয়েছে, তারাও অস্ত্র হাতে নিজেদের স্বার্থ রক্ষার জন্য মধ্য এশিয়ার দেশগুলোতে যুদ্ধ করতে আসবেই।