রাশিয়া থেকে সিরিয়া রাষ্ট্রে এস- ৩০০ নামের জেনিথ রকেট কমপ্লেক্স সরবরাহ করা হয়েছে বলে যে, খবর রটানো হয়েছে, তা খুবই বাড়িয়ে বলা বলে জানা গেল. এর কারণ হয়েছে সিরিয়ার রাষ্ট্রপতি বাশার আসাদের লেবাননের “আল-মানার” টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাত্কারের অনুবাদের সময়ে ভুল অথবা প্রশাসনের বিরোধী পক্ষের ইচ্ছা যে, এই সরবরাহের কথাকে এখনই ঘটে যাওয়া ঘটনা বলে দেখানো. আর তা দিয়েই বিরোধী পক্ষকে অস্ত্র সরবরাহের বিষয়ে সমস্ত রকমের বাধা নিষেধ হঠিয়ে ব্যাপারটাকে এগিয়ে আনা. এই সাক্ষাত্কার প্রকাশ করা হয়েছে ৩০শে মে.

সিরিয়ার রাষ্ট্রপতি কোন কিছুই বলেন নি সেই বিষয়ে, যে, রাশিয়ার এস- ৩০০ কমপ্লেক্স এখনই পৌঁছে গিয়েছে, তা নিয়ে. তিনি শুধু মোটামুটি সাধারন কথায় রাশিয়ার সঙ্গে সহযোগিতাকে উল্লেখ করেছেন সেই সমস্ত আগে হওয়া চুক্তি নিয়ে, যা সম্পূর্ণ ভাবেই আইন সিদ্ধ. মস্কো আগের সমস্ত হওয়া চুক্তি পালন করছে, বলেছেন আসাদ, আর যোগ করেছেন:

“আমরা রাশিয়ার সঙ্গে নানা ধরনের অস্ত্র সরবরাহ নিয়ে বহু বছর ধরেই আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি, আর রাশিয়া দেখিয়েছে যে, তারা এই সব বিষয়ে আগে হওয়া চুক্তি পালন করে থাকে. আমাদের আগের সমস্ত চুক্তি, যা রাশিয়ার সঙ্গে হয়েছে, তা বাস্তবায়ন করা হবে, তার মধ্যে কয়েকটি করা হয়েছে বিগত সময়ে ও রাশিয়ার সঙ্গে আমরা ভবিষ্যতেও এই ধরনের চুক্তি পালন করে যাবো”.

সামরিক বিশেষজ্ঞরা সমর্থন করেছেন যে, সেই ধরনের ব্যবস্থা, যেমন এস- ৩০০, একেবারেই স্রেফ কোন জায়গায় নিয়ে গিয়ে লাগিয়ে দেওয়া একটা কঠিন কাজ. আর লক্ষ্যের আড়ালে এটা করা একেবারেই অসম্ভব. এই ব্যবস্থা যারা ব্যবহার করবে, সেই সব কর্মীদের প্রশিক্ষণ করতে কম করে হলেও ছয় মাস সময় লাগে. অথবা রাশিয়ার সেনা বাহিনীর অফিসাররাই বাধ্য হবেন এই কাজ করার জন্য. প্রথমটির মতো দ্বিতীয় কাজও প্রতিবেশী দেশ গুলির গুপ্তচর বাহিনীর চোখ এড়িয়ে করা সম্ভব নয়. আর যদি সত্যই এস- ৩০০ সিরিয়াতে ইতিমধ্যেই দিয়ে দেওয়া হয়ে থাকত, তবে এর প্রতিক্রিয়া এখনকার মতো এত শান্ত না হয়ে একেবারে বিস্ফোরকই হত.

এরই মধ্যে মস্কো শহরে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রী সের্গেই লাভরভ ৩১শে মে আরও বেশী বাস্তব এক বিপদের দিকে নজর দিতে বলেছেন, যা বিরোধী পক্ষের জঙ্গীরা করেছে – তারা সামরিক যুদ্ধে ব্যবহারের জন্য স্পষ্ট করেই রাসায়নিক অস্ত্র জমা করেছে.

এটা প্রমাণ করেছে ৩০শে মে তুরস্কের নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে “আল-কায়দা” গোষ্ঠীর কাছের দল “ঝেভাত আন- নুসরা” দলের ১২ জন লোক ধরা পড়া, যারা সিরিয়ার সীমান্তের কাছেই ধরা পড়েছে. গ্রেপ্তার হওয়া লোকদের কাছে দুই কিলো জারিন গ্যাস সমেত কন্টেনার পাওয়া গিয়েছে. এটা স্নায়ু – অবশ করে দেওয়ার পদার্থ. গ্যাস অবস্থায় দুই কিলো জারিন গ্যাস যথেষ্ট, যাতে বহু লক্ষ মানুষকে বিষাক্ত করে দেওয়া যায়. ২০১৩ সালের মার্চ মাসে আলেপ্পো শহরে কাছে প্রশাসন বিরোধী জঙ্গীরা এর মধ্যেই রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করেছে. তখন ১৬ জন লোক নিহত হয়েছিল, তাদের মধ্যে বেশীর ভাগ মানুষই ছিলেন সাধারন লোক. তখন প্রমাণিত হয়েছিল যে, রাসায়নিক অস্ত্র আক্রমণের সময়ে জারিন গ্যাস ব্যবহার করা হয়েছে.

সের্গেই লাভরভ আহ্বান করেছেন বিরোধী জঙ্গীদের কাছে গণহত্যার জন্য রাসায়নিক অস্ত্রের উপস্থিতির খবরে খুঁটিয়ে তদন্ত করার জন্য, তিনি বলেছেন:

“আমরা অপেক্ষা করছি যে, তুরস্কের সহকর্মীরা দ্রুত ও সম্পূর্ণ ভাবে খবর দেবেন যে, তারা এই পরিস্থিতিতে কি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন. পরিস্থিতি খুবই গুরুতর, যাতে তারা, যারা সারাক্ষণ রাসায়নিক অস্ত্রের সমস্যা নিয়ে কথা বলছে, তারা এটার চারপাশ জুড়ে কোন একটা খেলা না জুড়ে বসে. সমস্ত ঘটনার তদন্ত প্রয়োজন, যা এই ধরনের ব্যাপারের সঙ্গে জড়িত”.

রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদ ঠিক করেছে “ঝেভাত আন- নুসরা” গোষ্ঠীকে সন্ত্রাসবাদী দলের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার. এই সিদ্ধান্তের স্বপক্ষে ১৫ সদস্যের সকলেই ভোট দিয়েছেন. এই বছরের এপ্রিল মাসেই ইরাকের “আল- কায়দা” গোষ্ঠীর শাখার নেতা আবু বকর আল- বাগদাদি ঘোষণা করেছিল যে, “ঝেভাত আন- নুসরা” এই আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদী নেটওয়ার্কের একটা সেল.

এই পরিপ্রেক্ষিতে সিরিয়া সমস্যা সমাধান নিয়ে নতুন জেনেভা সম্মেলন আরও বেশী করেই ফেলে রাখা যায় না, এমন ব্যাপার হয়ে দাঁড়াচ্ছে. মস্কো শহরে ও ওয়াশিংটনে ঘোষণা করা হয়েছে যে, ৫ই জুন জেনেভা শহরে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের উচ্চপদস্থ কর্মীরা তাদের রুশ সহকর্মীদের সাথে ও রাষ্ট্রসঙ্ঘের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করবেন. তাতে “জেনেভা- ২” আয়োজন নিয়ে আলোচনা করা হবে. এই পথে সমস্যা এত বেশী যে, যেমন মনে করা হয়েছিল, তেমন ভাবে সম্মেলন খুব সম্ভবতঃ জুন মাসের প্রথম অর্ধে আহ্বান করাই সম্ভব হবে না. আর তা আরও পরের কোন একটা সময়ে পিছিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে.